তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়াঃ  ‘বৈধ’ খাদানে সম্পূর্ণ ‘অবৈধ’ভাবে তোলা হচ্ছে বালি। প্রশাসনের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাঁকুড়ার বেশ কিছু বৈধ বালি খাদানে জে.সি.বি দিয়ে বালি তোলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাধারণ মানুষের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বেরিয়ে kolkata24x7-এর ক্যামেরায় ধরা পড়ল সেই ছবি। শ্রমিক দিয়ে নয়, সেই জে.সি.বি দিয়েই বালি তোলার কাজ চলছে বাঁকুড়ার ওন্দা থানা এলাকার দ্বারকেশ্বর নদীর ‘বৈধ’ বালি খাদানে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন জেলা সফরে গিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে গিয়ে এবিষয়ে বার বার কড়া পদক্ষেপের কথা বলেছেন। কিন্তু এক শ্রেণীর অসাধু প্রশাসনিক কর্তার গাফিলতিতে তা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে ওভার লোডিং এর একটা অভিযোগ তো আছেই। ওন্দা থানা এলাকার দ্বারকেশ্বর নদীর সংশ্লিষ্ট বালি খাদান গুলির সরকারী অনুমোদন থাকলেও, সেই ‘অনুমোদন’কে হাতিয়ার বেআইনীভাবে দিনের পর দিন চলছে ‘জেসিবি’ দিয়ে বালি তোলার কাজ। ফলে এক দিকে নদীর গতীপথ পরিবর্তন হচ্ছে, তেমনি নদীর পাড় ভেঙে চাষ যোগ্য চলে যাচ্ছে নদী গর্ভে। বিষয়টি প্রশাসনকে বার বার জানালেও কোন কাজ হয়নি বলে অভিযোগ।

একই সঙ্গে এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিন গ্রামের রাস্তা দিয়ে বালি বোঝাই লরি যাতায়াতের ফলে বেহাল হয়ে গ্রামীণ রাস্তা গুলি। একই সঙ্গে ছোটো বড় দূর্ঘটনার আশঙ্কা তো থাকছেও। ‘দূর্ঘটনার আশঙ্কা’ যে রয়েছে ভালো মতোই তা জানেন বালি খাদানের মালিকরা। স্থানীয় রসিয়াড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজে বেতন দিয়ে একজন রক্ষী রেখেছেন বালি খাদান মালিক। যাতে ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু পড়ুয়ারা রাস্তার উপর না চলে আসেন। এমন ছবিও ধরা পড়লো

বৈধ খাদানে ‘অবৈধভাবে’ বালি তোলার ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় ব্লক প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা বিষয়টি দেখার কথা বলেছেন। অন্যদিকে লরি চালকদের একাংশের অভিযোগ, বৈধ চালান থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন থানায় নির্দিষ্ট হারে তাদের টাকা দিতে হয়। সব মিলিয়ে এই সব ‘বৈধ’ বালি খাদান গুলির আড়ালে অবৈধভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগারের কাজ চলছে তা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা তারাপদ মাঝি বলেন, দিনের পর দিন গ্রামের রাস্তা দিয়ে ওভারলোডিং বালি বোঝাই লরি যাওয়ার ফলে রাস্তা খানাখন্দে ভর্তি হচ্ছে। প্রায়শই দূর্ঘটনা ঘটছে বলেও তার দাবী। ‘ওভারলোডিং’ প্রসঙ্গে জনৈক লরি চালক শ্রীকান্ত গুছাইত বলেন, না চাইলেও আমরা অতিরিক্ত বালি নিতে বাধ্য হচ্ছি। এখান থেকে বালি নিয়ে যাওয়ার পথে যতো গুলি থানা পড়বে, সব থানার পুলিশকেই দু’শো টাকা দিতে হচ্ছে। তাছাড়া বালি খাদানেও অতিরিক্ত এক হাজার টাকার কূপণ নিতে হচ্ছে। ফলে ওই টাকা তুলতে লরিতে ‘ওভারলোডিং’ ছাড়া উপায় নেই বলে তিনি জানান।

এবিষয়ে ওন্দার বিডিও বিমল কুমার শর্ম্মা বলেন, এই ধরণের ঘটনা ঘটলে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক নজরদারি চলছে। আমরাও বিষয়টির উপর নজর রাখছি। এরকম ঘটনা ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা সফরে এসে ‘অবৈধ’ বালি খাদান বন্ধে নির্দেশ দেওয়ার পরই নড়ে চড়ে বসলো প্রশাসন। নতুন করে বাঁকুড়া জেলায় ২৫ টি বালি খাদানের ইজারা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিষ্ণুপুর-সোনামুখী বাইপাসে, সারেঙ্গার বিক্রমপুর ও কোতুলপুরের নেতাজী মোড়ে তিনটি চেকপোষ্ট তৈরী করা হবে। যেখানে ২৪ ঘন্টা সিসিটিভির নজরদারী চলছে।

--
----
--