ক্রেতা সুরক্ষায় হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ রুখতে তৎপর রাজ্য

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতাঃ ক্রেতা সুরক্ষা সংক্রান্ত মামলায় আর হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ নয়৷ এই সংক্রান্ত যাবতীয় মামলার বিচার হবে ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের অধীনেই৷ মঙ্গলবার বিধানসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে একথা জানান, রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পান্ডে৷ খুব শিগগির রাজ্য সরকার শীর্ষ আদালতে পিটিশন ফাইল করবে। মামলায় পার্টি করা হবে কেন্দ্রীয় সরকারকেও বলে জানান মন্ত্রী৷

অভিযোগ, রাজ্য ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে অনেকেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং জামিনও পেয়ে যান। অনেকক্ষেত্রে ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের বিচারকদেরও হাইকোর্টের বিচারপতিদের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়। এনিয়ে বিধানসভায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী সাধন পান্ডে। তৃণমূল বিধায়ক পার্থ ভৌমিকের একটি প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, ‘‘ক্রেতা সুরক্ষা সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ রুখতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছে রাজ্য সরকার।’’

এদিন বিধানসভায় ক্রেতা সুরক্ষা সংক্রান্ত সাওয়াল জবাবে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রশ্ন রাখেন, ‘‘রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় টাকা নিয়েও প্রোমোটারদের বিরুদ্ধে গ্রাহককে ফ্ল্যাট না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ক্রেতা সুরক্ষা আদালত তাদের শাস্তি হিসেবে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। কিন্তু অনেক দোষী হাইকোর্টে গিয়ে জামিন পেয়ে যায়। এতে ক্রেতার সুরক্ষা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়৷ এবিষয়ে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে ক্রেতা সুরক্ষা দফতর?’’

- Advertisement -

জবাবে সধান পাণ্ডে জানান, ‘‘ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের মামলাগুলি দফতরের অধীনেই থাক, এবং ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের অধীনেই বিচার করা হোক। কারও যদি রায় পছন্দ না হলে সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া যেতে পারে, কিন্তু হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ যেন না থাকে।’’ মন্ত্রীর দাবি, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট এমন নির্দেশ দিলে গ্রাহকের হয়রানি দূর হবে৷’’ তিনি আরও বলেন, “এই মামলায় পশ্চিমবঙ্গ জয়ী হলে সারা দেশই লাভবান হবে। মন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান বিধানসভায় উপস্থিত অন্যান্য বিধায়করাও।

পরে সাংবাদিকদের মন্ত্রী জানান,, ‘‘আমার দফতরের পূর্ণ অধিকার রয়েছে দোষীদের জেলে পুরে দেওয়ার। কিন্তু, দেখা যাচ্ছে হচ্ছে তার উল্টোটাই৷ ক্রেতা সুরক্ষা আদালত যাদেরকে শাস্তি দিচ্ছে তারা হাইকোর্টের দারস্থ হয়ে জামিন নিয়ে নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের বিচারকদেরও ভর্ৎসনা করছেন মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতিরা। বলা হচ্ছে, রায়ের কারণ দর্শাতে। দফতরের বিচারকদের ভর্ৎসনা করা মানে সরাসরি আমাকে অপমান করা। তাই আমরা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছি৷ সুপ্রিম কোর্টের কাছে আমরা জানতে চাই, কলকাতা হাইকোর্ট আদৌ ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের রায়ের উপরে হস্তক্ষেপ করার অধিকার আছে কি না?’’ তিনি আরও জানান, ‘‘বেশ কয়েকবছর আগে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে সঠিক বিচার না পেলে বিচারপ্রার্থী একমাত্র সুপ্রিম কোর্টেরই দ্বারস্থ হতে পারেন। তাই আমরা এবার সুপ্রিম পিটিশন ফাইল করছি। কেন্দ্রীয় সরকারকেও মামলায় অংশীদার করছি। শিগগির মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে উঠবে।”

Advertisement
---