ডিঙ্কি গান গায় নাকি! : শৌভিক দেব ডিঙ্কি

ঠিক হয়েছিল টেলিফোনেই সাক্ষাৎকারটা নেওয়া হবে৷ সেইমত দুপুর নাগাদ ফোন করে ফেললাম শৌভিককে৷ কিন্তু অপরপ্রান্তে কথা বলে উঠলেন ডিঙ্কি! না কোনও চমক নয়, শৌভিক আর ডিঙ্কি একজনেরই নাম৷ সবার যেমন থাকে ভাল নাম আর ডাক নাম৷ শৌভিকের ক্ষেত্রেও তাই৷ তবে ডিঙ্কিটাই সবচেয়ে বেশি পরিচিত৷  তবে হতেই পারে এই দুটো নাম দুটো আলাদা পরিচয় দেবে একটা মানুষের৷ একটা গায়কের আর একটা গীটারিস্টের বা কম্পোজারের৷ গীটার হাতে ডিঙ্কি আর গলা ছেড়ে শৌভিক৷ সাক্ষাৎকারে প্রবেশ করার আগে, একটু আলাপ করিয়ে দিই গীটারিস্ট ডিঙ্কি ওরফে শৌভিকের সঙ্গে ৷ যে আপাতত গায়কের চরিত্রেও উজ্জ্বল৷ এক কথায় ডিঙ্কি প্রাণবন্ত, সুরেলা৷ কথার মধ্যেই ফুটে ওঠে তাঁর উজ্জ্বল স্বপ্নগুলো৷ যা সযত্নে ডিঙ্কি সাজিয়ে রেখেছে সেই ছোট্টবেলা থেকে৷ শহরের পরিচিত গীটারিস্ট, কম্পোজার, কিন্তু গায়ক হিসেবে একদমই নতুন যাত্রা শুরু তাঁর৷আর সেই যাত্রার প্রথম স্টেশন কলকাতা ২৪x7 ডট কম ও কোকাকোলা মুনলাইট মিউজিক ফেস্টিভ্যাল ৷তবে কথাবার্তা শুরু হল, কম্পোজারের প্রথম নোট থেকেই৷

10306252_446533832157681_2342752330063216683_n
কোকাকোলা মুনলাইট ফেস্টিভ্যালে গায়ক ডিঙ্কি

 

কম্পোজার ডিঙ্কির হঠাৎই গাইতে আসা, নাকি পুরোটা প্ল্যানিং?

- Advertisement -

ডিঙ্কি: ঠিক প্ল্যানিং নয়৷ আসলে ছোট থেকেই গানের পরিবেশে বড় হয়েছি৷ আমার বাবা আকাশবাণীর সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন৷ তাই চোখ খুলেই গানবাজনার সঙ্গে পরিচয়৷ মা-বাবার কাছে শুনেছি তিন বছর বয়সেই নাকি আমি প্রথম গান গাই৷ তাও আবার গজল৷ বলতে পারেন আজকে যে গানবাজনা করতে পারি, এইগুলোই ছিল তার প্রথম ঝলক৷ তবে আমার সঙ্গীত যাত্রার শুরু হয় কম্পোজার হয়েই৷

 

কম্পোজার হয়ে কোনও বিশেষ ঘরানায় কি যাওয়া-আসা? নাকি সবকিছুই আপনার সঙ্গীতের ধারা৷

ডিঙ্কি: এমনিতে যেকোনও ধরণের সঙ্গীতই আমাকে আকর্ষণ করে৷ তবে বরাবরই আমি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও বিশেষ করে গজলের খুব বড় ভক্ত৷ এমনকি আমার সঙ্গীত জীবনের শুরু এই গজল থেকেই৷ কেরিয়ারের শুরুতেই এমন কিছু মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি, যে আমাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে অসম্ভব সাহায্য করেছে৷

শুনেছি আপনি তো হরিহরণ, জগজিৎ সিং, গুলাম আলির মতো লেজেন্ডদের সঙ্গে কাজ করেছেন৷ অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

ডিঙ্কি: অসম্ভব ভাল৷ জাস্ট ভাবতেই পারিনা৷ প্রথম যেদিন শুনেছিলাম হরিহরণের সঙ্গে বাজাতে হবে পা থেকে মাটি সরে গিয়েছিল৷ একই ঘটনা ঘটেছিল জগজিৎ সিং, গুলাম আলির ক্ষেত্রেও৷ আমি সত্যিই খুবই ভাগ্যবান৷ আর এর জন্য অবশ্যই ধন্যবাদ দেব কলকাতার জনপ্রিয় ইভেন্ট ম্যানেজার বাদল ধর চৌধুরীকে৷ যাঁর কারণেই এরকম গুণিজনদের সঙ্গে কাজ করেত পেরেছি৷

আমার মনে আছে, ভুবনেশ্বরে হরিহরণের শো৷ সেবারই প্রথম ওঁর সঙ্গে কাজ করছি৷ খুব টেনশড ছিলাম৷ কিন্তু হরিজি খুব দিলদরিয়া মানুষ৷ বুঝতেই দেননি উনি অত বড়মাপের শিল্পী৷ শুধু সঙ্গীত নয়, শিল্পী মানুষদের কীরকম আদবকায়দায় থাকতে হয় তাও শিখেছি হরিহরণের থেকে৷ ভীষণ ডাউন টু আর্থ মানুষ৷ এরকমই অভিজ্ঞতা জগজিৎ সিং ও গুলাম আলির সঙ্গেও৷ আসলে এই মানুষগুলো এত বড় মাপের মানুষ যে, আমি যাই বলি তা খুবই কম৷unnamed (1)

কম্পোজার হিসেবে আপনি তো কলকাতারও বড় বড় শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন? সেই অভিজ্ঞতা কেমন?

ডিঙ্কি: গীটারিস্ট হিসেবে আমি লোপামু্দ্রা মিত্র, শ্রীকান্ত আচার্য, মনোজ মুরলী নায়ার, ইন্দ্রাণী সেন প্রায় সমস্ত বড় মাপের মানুষের সঙ্গেই কাজ করেছি৷ অভিজ্ঞতা বলতে, মিউজিশিয়ান হিসেবে তাঁদের থেকে সম্মান পেয়েছি যেমন, প্রশংসায়ও পেয়েছি৷ শ্রীকান্তদা (শ্রীকান্ত আচর্য) আমার কম্পোজ করা গান শুনে বলেছিল, তুই নিজে কেন গান গাইছিস না৷ অ্যালবাম করতে পারিস তো৷

এই সব মানুষদের কথাকেই অনুপ্রেরণা বানিয়ে গাইতে আসা?

ডিঙ্কি: কিছুটা তো নিশ্চয়ই৷ তবে ইচ্ছে ছিল গায়ক হয়েও মেলে ধরার৷ আর নিজে সুর বাঁধতে বাঁধতে সেই ইচ্ছাগুলো আরও বেড়ে উঠেছিল৷ ধন্যবাদ কলকাতা২৪x৭ –এর কোকোকোলা মুনলাইট ফেস্টিভ্যালকে আমাকে মেলে ধরার সুযোগ দিল৷ আর অবশ্যই ধন্যবাদ আমার বন্ধু অরিজিৎকে৷ যে সবসময় আমাকে গানের ব্যাপারে সঙ্গ দিয়েছে৷

গানের সুর আপনার, গাইছেন আপনি, আর কথা সেগুলোও কি নিজের?

ডিঙ্কি: না, গানের কথা আমার নয়৷ সে ব্যাপারে একেবারে চোখবুজে বিশ্বাস করি আমার বন্ধু বেদান্তিকা বসু-র উপর৷ ওঁর গানের কথা আমার সুরকে প্রাণ দেয়৷ অসম্ভব ভাল গান লেখে৷

আজকাল তো বাংলা ব্যান্ডের ভিড়, আপনার গান কি সেই দলেই?

ডিঙ্কি: না, সেরকম নয়৷ আমি একাই গাই৷ আর ঘরানা বলতে হলে, বাংলা ব্যান্ড নয়৷ আমার গান ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও রক গানের এক মিশ্রণ৷ ফিউশনও বলা যেতে পারে৷ তবে যেহেতু গজলের খুব বড় ভক্ত আমি, সেহেতু আমার গায়কীর মধ্যে একটু ছোঁয়া গজলেরও থাকে৷

unnamed (2)
মনোজ মুরলি নায়ারের সঙ্গে ডিঙ্কি

 

 ভবিষ্যত পরিকল্পনা?

ডিঙ্কি: ভাল করে গান গাইব৷ আরও গান কম্পোজ করব৷ সিনেমায় সঙ্গীত দেওয়ারও কথা চলছে৷ তবে খুব প্রাথমিক জায়গায় রয়েছে সে কথা৷ তাই এর থেকে বেশি এখন বলা মুশকিল৷ নিজস্ব অ্যালাবামের কথাও ভাবছি৷ দেখা যাক৷

তাহেল কি গায়ক ডিঙ্কির পাল্লায় পড়ে এবার গীটারিস্ট ডিঙ্কি লুকিয়ে পড়বে?

ডিঙ্কি: (হেসে ফেলে) একদম নয়৷ দু’জনেই থাকবে একসঙ্গে৷ গীটারিস্ট ডিঙ্কি আমার প্রথম পরিচয়৷ গায়কের যাত্রা সবে শুরু৷ দু’জনকে একসঙ্গে নিয়েই চলতে চাই৷ দু’জনেই খুব গুরুত্বপূর্ণ৷ আর সত্যি বলতে কি, আমাকে সবাই গীটার বাজাতেই দেখেছে৷ এবার গীটার নিয়ে গাইতে দেখলে অবাক হয়ে হয়ত সবাই বলেই বসবে ‘ডিঙ্কি তো গীটার বাজায়, গান গায় নাকি!’

—————————————————————————————————————————–

 

 

Advertisement ---
-----