নিয়ম শিথিল হতেই হেলমেট ছাড়াই চলছে তেল দেওয়া

ফাইল ছবি

বালুরঘাট:  হেলমেট পড়া বাধ্যতামূলক করতে পুলিশ যখন রাস্তায় নেমে একের পর অভিযান শুরু করেছে। সেই সঙ্গে পথ নিরাপত্তা নিয়ে জেলা পুলিশের উদ্যোগে প্রতিটি থানা এলাকায় চলছে সচেতনতা কর্মসূচী। গত ৮ জুলাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন হেলমেট বিহীন বাইক আরোহীদের পেট্রোল দেওয়া হবে না এবং রাজ্যে পথ নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশের পরেই বিভিন্ন জেলায় শুরু হয় তৎপরতা। অন্যান্য এলাকার মতো দক্ষিণ দিনাজপুরের শুরু হেলমেট ছাড়া পেট্রোল বিক্রি বন্ধ। চলতে থাকে হেলমেট বিহীন বাইক আরোহীদের জরিমানা করার কাজও। বিনা হেলমেট বাইক আরোহীদের পেট্রোল বিক্রি বন্ধের পাম্প মালিকদের এই উদ্যোগ প্রথমাবস্থায় ঠিক মতোই চলছিল। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সচেতন বাইক আরোহীদের সকলেই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন। কিন্তু শুধু মাত্র ব্যবসায়িক মনোভাবের কারণে পেট্রোল পাম্প গুলির সেই পদ্ধতি ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে। বালুরঘাট ও তার আশপাশের পাম্প গুলিতে পুলিশের তরফ থেকে টাঙানো “নো হেলমেট নো পেট্রোল” হোর্ডিংয়ের নিচেই বিনা হেলমেটে চালিয়ে আসা বাইকে ফের তেল দেওয়ার শুরু হয়ে গিয়েছে। যদিও এক্ষেত্রে সরকারী বিধিনিষেধ কে পাশ কাটাতে অভিনব পদ্ধতিরও অবলম্বন চোখে পড়ছে পেট্রোল পাম্প গুলিতে। কেউ যদি বিনা হেলমেটে তেল ভরতে আসছেন তাদের জন্য আগে থেকেই সেখানে রাখা থাকছে কয়েকটি হেলমেট। শুধু মাত্র নিয়ম রক্ষা ও পুলিশি নজরদারী এড়াতে পাম্প মেশিনের কাছে পৌঁছনোর আগেই বাইক চালকের মাথায় পড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সেই হেলমেট। বাইকে তেল ভরে পাম্প ছেড়ে যাওয়ার আগে যথারীতি তা ফেরতও নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক দায়বদ্ধতাকে এড়িয়ে শুধু মাত্র পাম্প মালিকদের বাব্যসায়িক দৃষ্টি ভঙ্গির কারণে হেলমেট পড়ে বাইক চালানোর ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করার কাজে কিছুটা হলেও ব্যাঘাত ঘটছে বলে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। বাইক আরোহীদের স্বার্থে তথা পথ নিরাপত্তা সুনিশ্চিতের লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাকে বাস্তবায়িত করতে পুলিশি তৎপরতা অন্যান্য এলাকার পেট্রোল পাম্প মালিকদের সহযোগিতা যখন নজির সৃষ্টি করেছে। তখন বালুরঘাটের পেট্রোল পাম্প মালিকদের একাংশের শুধুমাত্র ব্যবসায়িক দিকটিকেই পাখির চোখ করার এই মনোভাব সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিতে খালি মাথায় বাইক চালিয়ে আসা আরোহীদের মাথায় তাৎক্ষণিক হেলমেট পড়িয়ে পেট্রোল বিক্রির এই পদ্ধতির কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া পথ নিরাপত্তামূলক সচেতনতা কর্মসূচীর একশো শতাংশ সাফল্য লাভ সম্ভব হচ্ছে না বলেও অনেকে মনে করছেন।

Advertisement
-----