‘পেন্ডুলাম’ ছবি ‘মেট্রো’ বা ‘চাঙ্কিং’ নয়: সৌকর্য

পরিচালক সৌকর্য ঘোষালের সঙ্গে অভিনেত্রী রাধিকা আপটে

সৌকর্য ঘোষাল ৷ ইতিহাসে অনার্স৷ প্রথম থেকেই ছবি আঁকতে ভালবাসেন৷ তাই কেরিয়ারটা শুরু এক জনপ্রিয় ম্যাগাজিনের ইলাস্ট্রেটর হিসেবেই৷ তবে মগজে ছিল একদিন সিনেমা তৈরি করবেন৷ মগজে ঘুরপাক খাচ্ছিল বেশ কয়েকিট গল্প। কিন্ত ঠিক কোন গল্পটাকে নিয়ে ছবি করবেন ঠিকই করতে পারছিলেন না। একে প্রথম ছবি, প্রথম ছবি দিয়েই তো বাজিটা মারতে হবে। একটু ডিফারেন্ট কিছু না করলে দর্শক তো তাকাবেনই না ছবির দিকে। তাহলে কী উপায়? অমনি একদিন নড়ে বসল পেন্ডুলাম। আর সৌকযের মগজে খটকা। কেমন হয় যদি আমার ভাবা সব কটা গল্পকে এক প্যাকেটে ভরে ছবি তৈরি করি? যেমন ভাবনা তেমনি কাজ।সঙ্গে নিলেন বন্ধু ইন্দ্রনীল রায়কে। ইন্দ্রনীল এই ছবির স্ক্রিপ্ট রাইটার। শেষেমশ দুজনে মিলে গল্পকে এক ফ্রেমে বেঁধে ফেললেন। শুধু ক্যামেরার ফ্রেমে নয়। এক টাইম ফ্রেমেও। আর ছবির নাম দিলেন ‘পেন্ডুলাম৷ খুব শীঘ্রই বক্স অফিসে মুক্তি পাবে ‘পেন্ডুলাম’৷ তার আগে পরিচালক সৌকর্য ঘৌষালের সঙ্গে কথায় উঠে এল ‘পেন্ডুলাম’-এর নানান নড়নচড়নের কথা…

প্র: সৌকর্যের ‘পেন্ডুলাম’ কোন সময়ের কথা বলবে?

সৌকর্য: ‘পেন্ডুলাম’ ছবি একই সময়ে ঘটে যাওয়া অনেকগুলো ঘটনার গল্প বলে৷ পরিস্কার করে বলতে গেলে পেন্ডুলাম ঘড়ির এমন একটা অংশ যা সময়কে এগিয়ে তো নিয়ে চলে কিন্তু পেন্ডুলামের মুভমেন্টের মতই দোদুল্যমান।কখনও কেউ দূরে চলে যাচ্ছে কখনও আবার ফিরে আসছে। আমার ছবির ছটি গল্পের চরিত্রগুলোর জীবন ঠিক এই পোন্ডুলামের মতই। এগিয়ে তো চলছে কিন্তু তার মুভমেন্ট সহজ সরল নয়।

- Advertisement -

প্র: ছবির গল্প হিসেবে বিষয়টা তো বেশ জটিল?

সৌকর্য: বিষয়টা ঠিক জটিল নয় বলা ভাল একটু অন্যরকমের৷ একটু ভাবনা চিন্তার জায়গা বেশি৷ আমাদের জীবনেও এরকম ঘটনা ঘটে৷ মানে সময়টা এক থাকলেও, ঘটনা পরিবর্তন হতে থাকে৷

প্র: তার মানে আপনি জীবনের ওঠা-পড়ার গল্প বলতে চান পেন্ডুলামের মধ্যে দিয়ে?

সৌকর্য: দেখুন, আপনি যতই চেষ্টা করুন৷ ছবির গল্প আমি এত সহজে বলব না (হেসে ফেলে) ৷ আসলে ‘পেন্ডুলাম’ ছবির গল্পই হল ছবির ইউএসপি৷ আর আগে থেকে গল্পের একটু আঁচ দিয়ে দিলে এতদিনের খাটনি বেকার৷ তবে এইটুকু বলতে পারি৷ ছটি গল্প থাকবে ছবিতে। একজন আটিস্টের গল্প। একজন প্রোমোটারের গল্প। একজন গায়ক।একজন টিউটার। একজন বাংলা অনাসের ছাত্র। আর একজন চাকরিরতা মেয়ের গল্প। প্রত্যেকটি গল্পই কখনও ইন্টারকানেকটেড কখনও আবার স্বতন্ত্র।  তবে সব গল্পই চলবে একই ফিল্ম টাইমের ফ্রেমে।

প্র: বলিউডে অনুরাগ বসু-র ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’ ও বিদেশি ছবি ‘চাঙ্কিং এক্সপ্রেস’- ছবিতেও টাইমকে নিয়ে এরকম গল্প বলা হয়েছে৷ এই ছবি গুলো কি আপনার অনুপ্রেরণ৷?

সৌকর্য: এই ছবি দুটো রিলিজ করার বহু আগে আমার গল্প গুলো মাথায় ছিল। তাই পেন্ডুলাম এই ছবি গুলোর দ্বারা অনুপ্রাণিত এটা কখনই বলব না। আর সেভাবে দেখলে সব ছবিই অনুপ্রাণিত কোনও না কোনও ছবির থেকে৷ তবে এইটুকু বলতে পারি বাংলা সিনেমায় এরকম ধরণের কাজ বিশেষ একটা হয়নি৷ আশা করি দর্শক সেটা বুঝতে পারবে৷ অন্তত, লাইফ ইন আ মেট্রো ও চাঙ্কিং এক্সপ্রেসের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবে না৷

প্র: বহুদিন আগেই তো ছবির শ্যুটিং শেষ হয়ে গিয়েছে৷ মুক্তি পেতে এত দেরি কেন?

সৌকর্য: হ্যাঁ৷ তবে কিছু পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ বাকি ছিল৷ এছাড়াও গোটা ছবিতে অল্প আধটু ফাইনাল টাচ, কিছু সাউন্ডের কাজ বাকি ছিল৷ এছাড়াও অর্থনৈতিক দিক থেকে একটু সমস্যা ছিল৷ সব মিলিয়েই মুক্তি পেতে দেরি৷

সৌকর্য ঘোষালের ‘পেন্ডুলাম’ ছবিতে অভিনয় করছেন সৌমদর্শী, রাধিকা আপটে, রজতাভ দত্ত, শ্রীলেখা মিত্র, প্রমুখ। ছবির সঙ্গীতের দায়িত্বে রয়েছেন চন্দ্রিল আর অনিন্দ্য চট্টোপাধায় (চন্দ্রবিন্দু)।

সাক্ষাৎকার: আকাশ মিশ্র ৷৷

রাধিকা আপটে
রাধিকা আপটে
সমদর্শী ও রাধিকা
সমদর্শী ও রাধিকা

 

 

 

 

 

 

 

 

Advertisement
---