ব্যারেটোরাজ শেষ এই মরশুমেই

ব্যারেটো৷

এখনও যেন তিনিই রাজা৷ অনেকটা ঠিক ভাওয়াল সন্ন্যাসীর মতন৷ রাজত্ব থেকেও যেন সব কিছুকে হেলায় সরিয়ে দেওয়া৷ সোমবার বারাসত স্টেডিয়ামে দু’গোল করে দলকে কলকাতা লিগের ম্যাচে পুলিশ এসির বিরুদ্ধে জিতিয়ে মাঠ থেকে ফেরার সময় ব্যারেটোর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এটাই৷ এক গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করে ভবানীপুরের কর্তাদের শুকন মুখকে হাসিতে ভরিয়ে তুলেও কোনও তাপ-উত্তাপ নেই তাঁর৷ অতীতে মোহনবাগানকে এরকম বহু ম্যাচেই টেনে তুলেছেন, তাই বোধ হয় এমন ‘ম্যাচ বেড় করার’ খেলায় আগ্রহ হারিয়েছে তাঁর৷

ঘরোয়া লিগের মূলপর্বের চারটি ম্যাচে তাঁর গোল তিনটি৷ এর আগে মহমেডানের বিরুদ্ধে একটি গোল রয়েছে তাঁর৷ আগের মতনই গোলের খিদে এতটুকুও কমেনি! তবে যতই গোল আসুক আর নয়৷ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এই মরশুমটাই শেষ মরশুম তাঁর৷ সোমবার ড্রেসিংরুমে ঢুকতে ঢুকতেই সামনে ইচ্ছাশক্তিকে সম্বল করেই ছুটছেন ব্যারেটো৷

দাঁড়িয়ে থাকা ক্লাবকর্তার সামনেই বলে ফেললেন,‘যতই গোল করি এ মরশুমটাই শেষ৷’ ভবানীপুর কর্তারাও জানেন সে কথা৷বয়সটা তাঁর বেড়েছে ঠিকই, গতিও অনেক শ্লথ৷ আগের মতন সেই ঝাঁজ আর নেই, বল ধরে টার্ন নিতেও বেশ সময় নিয়ে ফেলছেন৷ তবু কোথাও যেন এই বয়সেও হাঁটুর বয়সী ছেলেগুলোর থেকে তিনি একেবারে আলাদা৷ শুধু ইচ্ছাশক্তি আর মনের জোড়কে হাতিয়ার করেই গোলের জন্য ছুটে যাচ্ছেন তিনি৷ তিনি তো ভবানীপুর ক্লাবের সচিন তেন্ডুলকর৷ এই ক্লাবের অন্যতম ইউএসপি তিনিই৷ সেজন্যই সারা মরশুম তাঁর সার্ভিস পাওয়ার জন্য ভবানীপুর কর্তারা ঠিক করেছেন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই তাঁকে ব্যবহার করবেন৷ সেজন্যই লিগের প্রথম দফায় খুব একটা তাঁকে খেলায়নি ভবানীপুর৷ মূলপর্বে নেমেই চার ম্যাচে এখনও পর্যন্ত তাঁর সংগ্রহ তিন গোল৷ সোমবার তাঁর একটি শট বারে না লাগলে হ্যাট্রিক হয়ে যেতে পারত ব্যারেটোর৷ এই বয়সেও গোলের মধ্যে থাকার রসায়নটা কি? প্রশ্নটা শুনেই স্বভাব সুলভ হাসিতে বলে উঠলেন,‘আমিতো গোলের জন্য মাঠে নামি না৷ ওটা হয়ে যায়৷ শেষ পর্যন্ত দেখি দলটা জিতল কিনা৷ আগে টিম ম্যান হতে চেষ্টা করি৷’ এতদিন ভারতীয় ফুটবল আবহে রাজত্ব করার পরও তাঁর মুখে এমন উক্তি৷ সত্যি ব্যারেটোর পক্ষেই এটা সম্ভব৷ আর এই ব্যবহারটা যেন ওঁকেই মানায়৷ আমরা শুধু কলকাতা লিগ শেষে বড় জোড় হিসাব কষে বলতে পারি শেষ মরসুমে তোতার গোল সংখ্যা কত হবে৷

Advertisement
----
-----