ভারতে জেহাদি গড়তে নকশা ঢাকায়

সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে ভারত থেকে প্রতিবছর দুই শতাধিক ‘জেহাদি’ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে পাক-মদতপুষ্ট জামাত মুজাহিদ্দিন অফ বাংলাদেশ৷ সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মাটিতে বসে এই নীল-নকশা রচনা করেছে লস্কর-ই-তইবা সহযোগী জামাত মুজাহিদ্দিন অফ বাংলাদেশ৷ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা মারফত সেই গোপন বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য পৌঁছেছে নয়াদিল্লির নর্থব্লকের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে৷  সেই তথ্য এখন ‘কলকাতা ২৪x৭’-এর হাতে৷ যাতে স্পষ্ট যে, ভারতের নাশকতামূলক কার্যকলাপ বাড়াতে পাক-মদতপুষ্ট সন্ত্রাসীরা অতি তৎপর বাংলাদেশে৷

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দফতর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, ২০১২ সালে কোনও স্থানে গোপন বৈঠকে বসে জামাত মুজাহিদ্দিন অফ বাংলাদেশের ঢাকা সেন্ট্রাল কমিটি৷ সেই বৈঠকে লিখিতভাবে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়৷ সেই লিখিত তথ্য বলছে, বৈঠকের চার দফা আলোচ্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়৷ (১) সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি৷ (২) গেরিলা প্রশিক্ষণ৷ (৩) জেহাদি তৈরি৷ (৪) আগামী কর্মসূচি৷

সেই বৈঠকের লিখিত তথ্য অনুযায়ী, সেদিন ঢাকার  মাটিতে হওয়া গোপন বৈঠকে হাজির ছিল জামাত ইসলাম, জাতীয়তাবাদী পার্টি (এরশাদ) পাকিস্তানের জামাত হিজবুল এবং ইরানের এক সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রতিনিধি৷ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র জানাচ্ছে, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই  যে ধ্যান-ধারণা এবং উদ্দেশ্য নিয়ে ভারতে গড়ে তুলেছে ইন্ডিয়ান মুজাহিদ্দিন, ঠিকই একইভাবে বাংলাদেশে গড়ে তোলা হয়েছে জামাত মুজাহিদ্দিন৷ যারা ভারত-বাংলাদেশে আইএসআইয়ের উদ্দেশ্যসাধনে কার্যকলাপ চালাচ্ছে৷ এই সব সংগঠনের মাথায় বসে রয়েছে লস্কর-ই-তইবার মতো সন্ত্রাসীরা৷

- Advertisement -

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দফতর সূত্রে পাওয়া ওই তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের মাটিতে সেদিনের বৈঠকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে৷ লিখিতভাবে সিদ্ধান্ত হয়, ‘বাংলাদেশ সংলগ্ন দেশে জামাত মুজাহিদ্দিন কট্টরপন্থী সদস্য সংখ্যাবৃদ্ধি করবে৷ বছরে কমপক্ষে ২০০জন করে কট্টরপন্থী সদস্য বৃদ্ধি করা হবে৷ এই দায়িত্ব ভার পালন করবে পাকিস্তানের জামাত-হিজবুল জঙ্গি সংগঠন৷’ বৈঠকে দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত হয়েছে, কমপক্ষে ৩৬জন জেহাদিকে গেরিলা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে৷ গেরিলা নির্বাচনের  দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাহান আলি নামে  জামাত-হিজবুলের এক কমান্ডারকে৷ তিনভাগে ১২জন করে সদস্যকে পাঠানো হবে পাকিস্তানে৷ সেখানে কমান্ডার আলি আজাদ তাদের গেরিলা প্রশিক্ষণ দেবে৷

সেই বৈঠকেই লাদেন পত্নীকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রও হয়৷ বৈঠকের তথ্য বলছে, জামাত মুজাহিদ্দিন অফ বাংলাদেশ মনে করে, লাদেনের এক পত্নী এবং পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের ১৩জন পদস্থ আধিকারিক ‘ইসলাম ধর্ম’কে আমেরিকার কাছে বিক্রি করে দিয়েছে৷ তাই ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিভিন্ন দেশে গণআন্দোলন করে ইসলামকে মুক্ত করা হবে৷  তার পর ‘বিশ্বাসঘাতক’ লাদেন-পত্নী এবং ১৩ আইএসআই কর্তাকে ‘কঠোর’ শাস্তি দেওয়া হবে৷

এদিকে, বাংলাদেশের মাটিতে রচিত ভারত-বিরোধী কার্যকলাপের এই তথ্য হাতে পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে নর্থব্লক৷ জামাত মুজাদ্দিনকে ঠেকাতে নজর রাখা হচ্ছে পরিস্থিতির দিকে৷ বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতীয় এলাকায় বাড়ানো হয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দফতরের নজরদারি৷

 

রিপোর্ট: রানা দাস, কলকাতা

Advertisement ---
---
-----