মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কবুল করেছেন যে, তাঁরা আই এস আই এসকে আন্ডার-এস্টিমেট করেছিলেন৷ যদি না করতেন, তাহলে সিরিয়া ও ইরাকের পরিস্থিতি এতটা সংকটাপন্ন নাও হতে পারত৷ দুঃখের বিষয়, এ কথাটা মার্কিন প্রশাসনের মুখে এর আগেও শোনা গিয়েছে৷ ১৯৮৯ সালে আফগানিস্তান থেকে রুশ ফৌজ সরে যাওয়ার পর যখন সেদেশ ছাড়িয়ে কট্টর মুসলিম সন্ত্রাসবাদ ভারত উপমহাদেশ সহ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে তার থাবা বাড়িয়েছিল, তখনও মার্কিন কর্তাব্যক্তিরা বুঝতে পারেননি যে, কী ঘটতে চলেছে৷ আফগানিস্তানে তালিবানের উত্থানও তাঁদের বিচলিত করেনি৷ এমনকী, ১৯৯৮-এ যখন আফ্রিকার তিন দেশের মাটিতে দূতাবাসে আল-কায়েদার আক্রমণের ঘটনা ঘটল তার আগে পর্যন্তও নাকি আমেরিকার মাথায় ঢোকেনি, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সহায়তায় আফগানিস্তানের বুকে তারাই একদিন এই বিষধর সর্পের জন্ম দিয়েছিল৷ ব্যাপারটা সেখানেই শেষ হল না৷ অতঃপর এল ২০০১ সালের সেই দিন৷ ১১ সেপ্টেম্বর৷ একইসঙ্গে আমেরিকার মাটিতে জোড়া আত্মঘাতী বিমান হামলা ও আফগানিস্তানের বুকে ফিদায়েঁ হামলায় সেদেশের সব থেকে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব আহমেদ শা মাসুদের মৃত্যু৷ এত কিছু সত্ত্বেও আমেরিকা নাকি বুঝে উঠতে পারেনি, কট্টর মুসলিম সন্ত্রাসবাদের বিপদ কতটা মারাত্মক কিংবা ভবিষ্যতে তা আরও কত সাঙ্ঘাতিক হয়ে উঠতে পারে৷ অথচ, এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? যে দেশের মুঠোয় গোটা বিশ্বের উপর আড়িপাতার সর্বশক্তিমান সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এন এস এ), পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরপাক খাওয়া সব থেকে বেশি স্যাটেলাইট যাদের গোপন মনিটরিংয়ের আওতায়, তারাই কি না বুঝতে পারল না, আই এস আই এস ভাবীকালের পক্ষে কতখানি বিপজ্জনক শক্তি? নাকি সেই রুশ-দখলদারিতে থাকা আফগানিস্তানের মতোই তারা ধরে নিয়োছিল, যা শত্রু পরে পরে? সিরিয়া ভুগছে ভুগুক৷ তাতে আমেরিকারই সাঙ্গোপাঙ্গদের লাভ৷ ব্যাপারটা যে ব্যুমেরাংয়ের মতো ইরাকের দিকে ঘুরে আসবে ভাবতে পারেনি? তাহলে আর বিশ্বের পয়লা নম্বর দেশের মানেটা কী রইল?

প্রতিবেদক: নিখিলেশ রায়চৌধুরী

----
--