বালুরঘাটঃ মাঝেরহাটের ব্রিজ ভেঙে পড়ার ঘটনায় মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের দিকে আঙুল তুললেন প্রাক্তন পূর্ত মন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামী। বালুরঘাটে তাঁর দিদির বাড়িতে বসে kolkata24x7-এর কাছে ক্ষিতিবাবু জানান, মেট্রো রেলের কাজের জন্যও ব্রিজটি ভেঙে গিয়ে থাকতে পারে। মাঝেরহাটের সেতুর নীচ দিয়ে মেট্রো রেলের কাজ চলছে। সেই কাজে সুড়ঙ্গ তৈরিতে অনেক সময় কম ক্ষমতাসম্পন্ন ডিনামাইট ব্লাস্ট করতে হয়। তাতে সৃষ্ট কম্পন ব্রিজে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত তাঁর।

তবে এক্ষেত্রে তিনি রাজ্যের প্রাক্তন পূর্তমন্ত্রী জানিয়েছেন, যে আশপাশে থাকা বড় বড় বিল্ডিং গুলিতে অবশ্য এই কম্পনের কোন প্রভাব অনেক সময় পড়ে না। কারণ বিল্ডিংএর ভিত মাটির নিচে খুব গভীর পর্যন্ত থাকে না। সাধারণত মেট্রোর কাজ প্রায় তিরিশ পঁয়ত্রিশ ফিট নীচ দিয়ে করা হয়। যেকোনও ব্রিজের মাটির নীচের ভিত অনেকটা গভীর অবধিই থাকে। স্বাভাবিক ভাবেই মেট্রো রেলের ট্যানেল তৈরি কাজে উৎপন্ন কম্পনের কোনও প্রভাব মাঝেরহাট ব্রিজে পড়েছিল কিনা। সেই ব্যাপারটি ক্ষতিয়ে দেখার দাবী তুলেছেন তিনি।

সেই সঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন যে, এই ধরনের প্রকল্পের কাজের আগে রাজ্য সরকার অথবা সংশ্লিষ্ট এজেন্সির সঙ্গে মেট্রোর রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে থাকে। যেখানে উল্লেখ থাকে যে এই কাজে কি ধরণের পদ্ধতি বা মেশিনপত্র প্রয়োগ করা হবে। মাঝেরহাটের ঘটনা পরিপ্রেক্ষিতে এখন দেখার বিষয় মেট্রো রেল সেই চুক্তি কতটা মেনে চলেছে। এবিষয়ে রাজ্য সরকারের উচিৎ তা তদন্ত করে দেখা।

মেট্রো রেলের দিকে আঙুল তোলার পাশাপাশি প্রাক্তন পূর্তমন্ত্রী একথাও জানিয়েছেন যে রাজ্যে এমন অনেক ব্রিজ রয়েছে বহু বছর ধরে যে গুলির রক্ষনাবেক্ষন হয়নি। এই ব্যাপারে তিনি জানিয়েছেন যে পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে সিমেন্টের যে কোন কংক্রিট তিরিশ বছর পর্যন্ত জমাট থাকার ক্ষমতা অক্ষুণ্ন থাকে। তারপর থেকে সেই ক্ষমতা হ্রাস পেতে শুরু করে। কংক্রিটের ব্রিজ ও বিল্ডিংএর তিরিশ বছর পর থেকে সঠিক রক্ষনাবেক্ষন করলে তা আরও দশ কুড়ি বছর কর্মক্ষম থাকে।

প্রাক্তন এই মন্ত্রীর মতে, পশ্চিমী দেশ গুলিতে এই ধরণের ব্রিজ বা কার্লভাট তিরিশ বছর পর ভেঙে নতুন ভাবে তৈরী করা হয়। এই রাজ্যে এমন অনেক ব্রিজ রয়েছে যেগুলি কয়েক দশকের পুরাতন হয়ে গেলেও তার সংস্কার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন। অবিলম্বে সেই ব্রিজ গুলির রক্ষনাবেক্ষনের ব্যবস্থা করা না হলে মাঝেরহাটের মত ঘটনা আরও বাড়বে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন ক্ষিতি গোস্বামী।

----
--