বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দেশজুড়ে শক্তি বাড়াচ্ছে  সিপিআই-মাওবাদী৷ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার গত ন’বছরের পরিসংখ্যান থেকে উঠে এসেছে এমনই তথ্য৷  মাওবাদী দমনে নয়াদিল্লির নর্থ ব্লক গাদাগুচ্ছের উদ্যোগই গ্রহণ করেছে৷ প্রকৃতপক্ষে সে সবে কোনও কাজই দেয়নি৷  সুশীলকুমার কুমার শিণ্ডের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক  যে মাও-দমনে রীতিমতো ব্যর্থ, তা ধরা পড়ল মন্ত্রকের সদর কার্যালয় নর্থ ব্লকের তথ্যতেই৷ শুধু সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধিই নয়, নাশকতামূলক কার্যকলাপও অনেকটাই বাড়িয়েছে মাওবাদীরা৷

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য-পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে মাওবাদী গেরিলা হানা, পালটা হানায় ৬,২৫৮জনের মৃত্যু হয়েছে৷ তারমধ্যে সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে ২৫৮০ জনের, নিরাপত্তা কর্মী মারা গিয়েছেন ১৬১৮জন৷ অন্যদিকে যৌথবাহিনী অভিযান, এনকাউন্টারে মারা গিয়েছে ২০৬০জন মাওবাদী গেরিলা, নেতা-কর্মী৷

Advertisement

আর গত পাঁচ বছর অর্থাৎ, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মাওবাদী  কার্যকলাপে মৃত্যু হয়েছে মোট ৩৫০৬জনের৷ তারমধ্যে মাওবাদী গেরিলা হানায় ১৫৭৩জন সাধারণ নাগরিক এবং ৯০৮জন কেন্দ্রীয় আধাসেনা, পুলিশ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে৷ অন্যদিকে, পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ১০২৫জন মাওবাদী গেরিলার৷ স্বাভাবিকভাবেই বিগত ন’বছরের তথ্য-পরিসংখ্যান গত পাঁচ বছরের নিরিখে মোটেই সুখকর নয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে৷ দেশজুড়ে মাও-দমন তো দুরের কথা, নানা প্রকল্প উদ্যোগেও  মাওবাদী কার্যকলাপ এতটুকু কমেনি বলেই স্পষ্ট বার্তা রয়েছে নর্থ ব্লকের কাছে৷

অভিযান, তল্লাশি, এনকাউন্টার যে মাও-দমনে একমাত্র হাতিয়ার নয়, সেই বার্তাও পৌঁছেছে নর্থ ব্লকে৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের উপলব্ধি, মাও-দমনে একমাত্র হাতিয়ার হতে পারে জঙ্গল ও জঙ্গলবাসীর ব্যাপক উন্নয়ন এবং স্থানীয় রাজ্য সরকারের সদিচ্ছা৷ আর তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেত্বতাধীন পশ্চিমবঙ্গ৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদী প্রভাবিত এলাকায় মৃত্যু হয়েছে ৬৯৯জনের৷ তারমধ্যে মাওবাদীদের হাতে প্রাণ হারিয়েছে ৫৪৪জন সাধারণ মানুষ, ৬৫জন পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ অন্যদিকে, পুলিশ যৌথবাহিনীর অভিযানে মৃত্যু হয়েছে ৯০জন মাও-গেরিলার৷ এই তালিকায় রয়েছে কিষণজির মতো শীর্ষনেতাও৷

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের হাতিয়ার ছেড়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতার নিজস্ব উন্নয়নের পথেই যে এই রাজ্য মাওদমনে সাফল্য মিলেছে, সেই তথ্যই ধরা পড়েছে নর্থ ব্লকের প্রস্তুত করা সমীক্ষায়৷ তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০১১ সালের মে মাসে এই রাজ্যে  পরিবর্তনের সরকার শপথ নেয়৷ ওই বছর থেকে ২০১৩ সালের অক্টোবর থেকে  মাও প্রভাবিত এলাকায় মৃত্যু হয়েছে ৫৯জনের৷ যার মধ্যে ২০১১ সালেই মারা গিয়েছে ৫৩জন৷ এর অধিকাংশই অবশ্য বাম সরকারের বিদায়বেলায়৷ নর্থ ব্লকের পরিসংখ্যানে স্পষ্ট,  পরিবর্তিত এই রাজ্য সরকারের আমলে মাওবাদী কার্যকলাপ কার্যত তলানিতে৷ জঙ্গলমহল ছেড়ে কিষেনজির মাও গেরিলারা কার্যত পাততাড়ি গুটিয়ে নিয়েছে৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে দৃঢ় বিশ্বাস উন্নয়ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জঙ্গলবাসীদের মন জয় করেছে মমতার সরকার৷ আর স্থানীয় বাসিন্দাদের নৈতিক সমর্থন না পেয়ে গা ঢাকা দিয়েছে ‘বন পার্টি’ সিপিআই-মাওবাদী৷
প্রতিবেদন: রানা দাস ৷৷ কলকাতা

----
--