কলকাতাঃ  কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল মাঝেরহাট ব্রিজ! ধ্বংসস্তুপের মধ্যে আটকে থাকার আশঙ্কা এখনও পর্যন্ত অনেক মানুষের। যদিও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধার কাজ। অন্যদিকে, শহরের এই ব্যস্ততম ব্রিজ ভেঙে পড়ার পর তীব্র যানজট তৈরি হয় শহরের একাংশজুড়ে। কারণ শহরের আলিপুর এবং বেহালার মধ্যে সংযোগ তৈরি করে এই মাঝেরহাট ব্রিজ। প্রত্যেকদিন এই সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত করেন বহু মানুষ এবং গাড়ি। কিন্তু দীর্ঘ ৫০ বছর আগে তৈরি হওয়া এই সেতু ভেঙে যাওয়ার পর কার্যত ভেঙে গেল দীর্ঘদিনের আলিপুর এবং বেহালার মধ্যে সম্পর্ক।

প্রসঙ্গত, শহরের অন্যতম এবং অবশ্যই ব্যস্ততম মাঝেরহাট সেতুটি তৈরি হয়েছিল যখন কলকাতার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন প্রফুল্লচন্দ্র সেন। ৫০ বছর আগে পোর্ট ট্রাস্ট ব্রিজটি তৈরি করেছিল। বর্তমানে সেটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল পূর্ত দফতরের। জানা যায় দীর্ঘ কাঠখড় পুড়িয়ে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৪ সালে।

Advertisement

মূলত দক্ষিণ কলকাতায় তখন কেবলমাত্র টালিগঞ্জে একটি সেতু ছিল, ওয়ান লেনের। কিন্তু তার উপর দিয়ে ভারী গাড়ি চলাচলের নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলে অন্য একটি সেতুর খুবই প্রয়োজন ছিলই। সেই প্রয়োজন থেকেই এই মাঝেরহাট সেতু তৈরির ভাবনা চিন্তা। আর সেই ভাবনা থেকেই কংক্রিটের তৈরি এই মাঝেরহাট ব্রিজ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এমনভাবে ব্রিজটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যাতে সামনেই মাঝেরহাট রেল স্টেশন থাকে। অবশ্যই সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা ভেবে। কারণ, স্টেশন থেকে যাতে খুব সহজে সিঁড়ি দিয়ে উঠে গাড়ি ধরতে পারে সেজন্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তৎকালীন সময়ে।

এরপর শুরু হয় ব্রিজ তৈরির কর্মকান্ড! এরপর কেটে গিয়েছে প্রায় পঞ্চাশ বছর। কালের নিয়মে ঘুন ধরেছে ব্রিজের শরীরে। দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে গোটা ব্রিজ ধরেই মরচে পড়েছে। যদিও পোস্তা ফ্লাইওভার ভেঙে পড়ার পর শহরে ব্রিজের অবস্থা দেখার জন্যে একটি কমিটি গঠন করে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি সেই কমিটিতে থাকা পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়াররা মাঝেরহাট ব্রিজকে ফিট সার্টিফিকেট দেয়। কিন্তু তারপরেও কীভাবে এই ব্রিজ ভেঙে পড়ল তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চাপানউতর।

তথ্যসূত্র- গুগল

----
--