রূপোলি পর্দায় শঙ্করলালের ফুটবল জীবন

শঙ্করলাল চক্রবর্তী৷

ফুটবলারের জীবন নিয়ে সিনেমা৷বাংলায় এর আগে হয়নি৷হিন্দিতে? না, মনে পরছে না৷এই অসাধ্য সাধন করতে চলছেন পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়৷ আর যার জীবন নিয়ে এতসব কাণ্ড সেই শঙ্করলাল চক্রবর্তী কিন্তু দারুণ উপভোগ করছেন ব্যাপারটা৷ চিমা ওকোরির সঙ্গে সংঘর্ষে সেই ভয়ঙ্কর চোট কাটিয়ে ফিরে আবার চোট একই জায়গায়৷বাংলার ফুটবলে শঙ্করলালের চোটের কাহিনী ফেরে মানুষের মুখে মুখে৷সেই চোট না হলে হয়তো ফুটবল জীবন আরও দীর্ঘ হতে পারত টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমির এই ছাত্রের৷এখন তিনি কোচ সঙ্গে নতুন উদ্যমে অপেক্ষা চলছে নিজের জীবনকে রূপোলি পর্দায় দেখার জন্য৷ সেই সব নিয়েই তাঁর সঙ্গে আড্ডা দিলেন প্রসূন বিশ্বাস….

আপনাকে নিয়ে ছবি, কখনও কল্পনা করতে পেরেছিলেন আগে?

সত্যিই পারিনি, কি করে ভাবব৷ মধ্যবিত্ত বাঙালী পরিবার থেকে উঠে আসা একটি ফুটবলার, সে কি করে ভাববে তাকে নিয়ে ছবি হচ্ছে? আমার ‘লড়াই’ কোনও দিন সবার সামনে উঠে আসবে, বাংলা সিনেমার মাধ্যমে লড়াইটা বেঁচে থাকবে৷ সত্যিই ভাবিনি৷ কমার্শিয়াল বাংলা ছবির বাজারে এরকম ছবি কেউ সাহস দেখিয়ে করতে পারে সত্যিই আশা করিনি৷ ওদের বিশেষ ধন্যবাদ৷

- Advertisement -

বিষয়বস্তু সেই আপনার চোট কাটিয়ে ফিরে আসার কাহিনী, যে কথা উঠলে অতীতে বরাবর তাকে থামিয়ে দিতেন৷ আজ সেই চিমার সঙ্গে সংঘর্ষ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইটাই উপজীব্য হয়ে উঠল৷ তাহলে একে থামালেন না কেন?

এতদিন এই বিষয়টা শুনতে চাইতাম না৷ ইচ্ছে করেই৷ কারন সেই সব দিন মনে করলে আরও হীনমন্যতা গ্রাস করত আমায়৷ তাই ওই প্রসঙ্গ কেউ তুললে আমি থামিয়ে দিতাম৷ কিন্তু এবার ছবির প্রসঙ্গে বলতে হলে বলব এটা পজেটিভ দিক৷ মানুষ জানুক বিশেষ করে আগামী প্রজন্মের ফুটবলাররা জানুক চোট লেগে গেলেই ফুটবলাররা হারিয়ে যায় না৷ ফিরেও আসে৷ আমি যেভাবে ফিরে এসেছি দু’বার৷ এই সিনেমা ওদের মনের জোড় বাড়বে৷ এই ভেবেই সম্মতি জানিয়েছি৷

প্রসেনজিৎ আপনার চরিত্রে৷ কি বলবেন ?

হ্যাঁ, বাঙলা সিনেমাতে উনি আইকন৷ এই ছবিতে তাঁর যোগদান আলাদা মাত্রা এনে দেবে৷ আমায় উনি ফোন করেছিলেন৷ বলেছেন আপনার স্ট্রাগলের কাহিনী আমি শুনেছি৷ এবার আপনার সহযোগিতা চাই৷ এই শুনে আমি তো অবাক৷ আমি বলেছি সবরকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত৷ আমি তখন কলকাতায় ছিলাম না৷ শীঘ্রই আমরা এই নিয়ে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব৷ ছবির নাম ঠিক করেছি ‘লড়াই’৷ পরমব্রতর পরিচালনায়৷

চিমার প্রসঙ্গ তুলতে চান না কিন্তু চোটের তারিখগুলো মনে আছে?

যেটা ভুলতে চেয়েছি সেটা পারিনি৷ আমার জীবনের ২ আগষ্ট ৯৭ আর ৯ ফেব্রুয়ারি ৯৯ এই দুটো তারিখ ভুলতে পারব না৷ প্রথমবার লিগের বড় ম্যাচে চিমার সঙ্গে সংঘর্ষে হারিয়ে যাচ্ছিলাম৷ ফিরে এসেছি অনেক লড়াই করে৷ ওই ম্যাচের আগের ম্যাচেই আমরা মোহনবাগানকে হারিয়েছিলাম ৪-১ গোলে৷ দ্বিতীয় বার ৯৯ সালে৷ সেদিন রবীন্দ্রসরোবরে আইটিআইয়ের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে ফের চোট পেয়েছিলাম৷ তাও কিন্তু হেরে যায়নি৷ সেটাই আমার লড়াই৷

সেই লড়াইটা কি শেষ হয়ে গিয়েছে প্রাক্তণ ফুটবলার হয়ে যাওয়ার পর? জীবনটা কি বদলে গিয়েছে? সেই টালির চালের ঘর এখন নেই, লড়াকু শঙ্করের জীবন এখন কি তাহলে সমাপ্ত?

কোথায় শেষ? এখন তো অন্যরকম শুরু৷ এখন ফুটবলার নই, কোচ হয়েছি৷ আইএফএ অ্যাকাডেমির আমি কোচ৷ ছোট ছোট ছেলেদের নিয়ে কাজ করছি৷ এ আর এক অন্য রকমের লড়াই৷ বি লাইসেন্স শেষ করে ‘এ’র জন্য আবেদন করেছি৷ আর আমার অতীত? সেই টালির চাল, হারিয়ে যাওয়া উঠোন, এসব না ভুললেও আগামী প্রজন্মের জন্য এই ধরনের কষ্ট যাতে না হয় তার চেষ্টা করে যাচ্ছি৷

চিমার সঙ্গে কথা হয়েছে এই ছবি নিয়ে? ওর চরিত্রটা কে করছেন?

না না আমার সঙ্গে এই নিয়ে সরাসরি চিমার কথা হয়নি৷ তবে আমি শুনেছি ওঁ বলেছে ও খুব খুশী এই ছবিটা হওয়ার জন্য৷ আমার প্রথম চোট লাগার পর ও আমার বাড়িতে এসে প্লাস্টারের উপর তাড়াতাড়ি সুস্থ হও লিখে গিয়েছিল৷ এখনও জানি না চিমার চরিত্রটা কে করবে? তবে আমার সেরা বন্ধুদের অন্যতম চিমা৷

দীপেন্দু আর আপনাকে নিয়ে ৯৭ সালে দলবদলের সময় বিশাল বিতর্ক হয়েছিল৷ থানা-পুলিশ থেকে কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল বিষয়টি৷ সেই ঘটনাও থাকবে নিশ্চয়? 

এখনও সে সব কিছুই চূড়ান্ত হয়নি৷ আমরা শীঘ্রই নিজেদের মধ্যে বসব৷ তবে ওই চ্যাপ্টরটা থাকুক আমি অবশ্যই চাইব৷

কবে থেকে এই ছবির শ্যুটিং শুরু হচ্ছে?

শীঘ্রই শুরু হবে৷ এখনই তারিখ বলা সম্ভব নয়৷

খুব অপ্রিয় প্রশ্ন, প্রসেনজিৎ কি এই চরিত্রের জন্য ফিটেস্ট? বিশেষ করে যে সময়কে ধরে এই ছবি হতে যাচ্ছে তখন আপনি সদ্য টিএফএ থেকে বেড়িয়ে দেশের অন্যতম প্রতিভাবান ফুটবলার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন?

না না একদমই তেমন ভাববার কোনও কারন নেই, তাহলে অমিতাভ বচ্চন ‘পা’ সিনেমা করতে পারতেন না৷ একাই কাঁধে করে ইন্ড্রাষ্টি টেনে নিয়ে যাচ্ছেন প্রসেনজিৎ৷ সেটা ভাবতে হবে৷ ওঁর অভিনয় বয়সের ফারাক ঢেকে দেবে৷ আমি শ্যুটিংয়ের সময় থাকছি৷

Advertisement ---
---
-----