শহুরে মননে ‘সুফিসূত্র’

এ কোন সুর? কোন সরগম? নাকি সুরের পথ৷ যে পথে আত্মার বিলীন হয়ে যাওয়া৷ কোনও এক অসীম শক্তির কাছে আত্মসর্মপণ৷ নিজেকে পৌঁছে দেওয়া এক অন্যজগতে৷ কোন জগত? যেথানে নেই কোনও ধর্মের গোঁড়ামি, শুধুই সুরের মধ্যে দিয়ে মনের মানুষের খোঁজ৷ এ খোঁজ নিরন্তর, নিভের্জাল ৷ শুধুই উজ্জ্বল আলোর উপস্থিতি, সুরের উপস্থিতি৷ শহুরে মন সুফি বলতে হয়ত বোঝে এইটুকুই, বাকিটা শুধুই এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা৷

সেই অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়েই ৩১ জানুযারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি শহরের ব্যস্ততম এলাকার একপাশে মোহরকুঞ্জ সেজে উঠেছিল রঙিন আলোয়৷ আর সেই রঙিন আলোর মধ্যেই সুরের যাত্রা ওরফে ‘সুফি সূত্র’৷ উদ্যোক্তা বাংলানাটক ডট কম৷ চতুর্থ পর্বের এই সুফি যাত্রায় এবার অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ, ডেনমার্ক, ইরান, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন, পাঞ্জাব, রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গ৷ প্রত্যেকরই উপস্থিতি ছিল উজ্জ্বল৷ তবে শুধু কলকাতা নয়, ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখ এই প্রথমবার পাটনা ও দিল্লিতে বসবে সুফি আসর৷ বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাউলের সুরে মিশে সুফিয়ানা, অন্যদিকে ইরানের ‘ইলাহি’ সুর চারিপাশে ছড়িয়ে দিল এক অদ্ভুত এনার্জি৷ শহুরে ব্যস্ত মনে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করল ডেনমার্কের মহিলা সুফি গায়িকারা৷ বাঁশির আওয়াজে, মৃদঙ্গের সুরে, গীটারের তারে তারে মুক্তি পেল নতুন চেতনা৷

ভাষা আলাদা, আলাদা সুর, আলাদা টান৷ তবে মিল একটাই মনের মিলন, মানুষের মিলন৷ তাই তো অনায়েসে পর্তুগাল মিশে যায় পাঞ্জাবে, রাজস্থান মরভূমির সুর পৌঁছে যায় স্পেনের ব্যাগপাইপে৷ সেই কারণেই রবিবার সন্ধেতে ‘সুফিসূত্র’-এর শেষ পর্যায়ে যেন সব্বাই মিলে গেয়ে উঠলেন একই সুর৷ মুছে গেল ভাষার কাঁটাতার, জাতির বিভেদ, বর্ণ, ধর্মের বাধা ছেড়ে সুরের যেন একটাই পথ…লালন ফকিরের কথায় ‘মিলন হবে কত দিনে….’

1888528_691456670906290_242
ডেনমার্কের সুফিয়ানা
1623618_678169032247700_106
স্পেনের সুফিয়ানা
- Advertisement -

 

Advertisement ---
---
-----