সদ্য জেতা দুই রাজ্যে টালমাটাল কংগ্রেস সরকার

লখনউ: একমাসও হয়নি৷ এর মধ্যে রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের সঙ্গে বহুজন সমাজ পার্টির সংঘাতের ইঙ্গিত মিলছে৷ দুই রাজ্যে কংগ্রেসের কাছে একটি দাবি পেশ করেছে বসপা৷ সেই সঙ্গে প্রচ্ছন্ন হুমকির সুরে জানিয়েছে, দাবি পূরণ না হলে সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবে তারা৷

দাবিটা ঠিক কী? মায়াবতীর দল বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ভারত বনধের সময় দুই রাজ্যে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার করতে হবে৷ ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ভারত বনধের ডাক দেওয়া হয়৷ তখন বনধকারীদের বিরুদ্ধে এসসি/এসটি অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়৷ সেই সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে৷ নতুবা কংগ্রেসকে সমর্থন করা সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের ভাবতে হবে৷

১৯৮৯ সালের তপশিলি জাতি ও উপজাতি আইনে কিছু সংশোধনী আনে সুপ্রিম কোর্ট৷ তার প্রতিবাদে ২ এপ্রিল ভারত বনধের ডাক দেয় দলিতরা৷ রাজস্থান, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ সহ একাধিক রাজ্যে দলিত সম্প্রদায় পথে নেমে নানাভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে৷ তাতে ১০ জন মারা যায়৷ সুপ্রিম কোর্ট রায় পর্যালোচনা করতে অস্বীকার করে৷ জানায়, যারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে তারা রায়ের কপি পড়ে দেখেনি৷

ফাইল ছবি

এদিকে বসপার নয়া দাবি কীভাবে সামাল দেয় কংগ্রেস সেটাই দেখার৷ দুই রাজ্যে কংগ্রেস সরকার গঠন করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেনি৷ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বসপা সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলেও কংগ্রেস খুব বেশি বেকায়দায় পড়বে না৷ কারণ দুই রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র একটি অথবা দুটি আসনে পিছিয়ে কংগ্রেস৷ ফলে দুটি আসন জোগাড় করে নেওয়া কংগ্রেসের মতো পোড় খাওয়া দলের কাছে অসম্ভব কাজ নয়৷

আর কংগ্রেসের সঙ্গ ত্যাগ করে বিজেপির প্রতি ঝুঁকবেন না মায়াবতী৷ কারণ তিনি চরম বিজেপি বিরোধী নেত্রী৷ অতএব মায়াবতী জোট ছেড়ে বেরিয়ে গেলে বিজেপিও লাভবান হবে না৷ বরং কে চন্দ্রশেখর রাও অবিজেপি ও অকংগ্রেসি দলগুলিকে নিয়ে যে জোট গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছেন তাতে ভিড়তে পারেন মায়াবতী৷ এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

---- -----