স্বামীর বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্কের প্রতিবাদ করার মাশুল গুনলেন বধূ

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: স্বামীর বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে লাগাতার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। যার জেরে একমাত্র শিশুপুত্রকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিলেন এক মহিলা। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে বর্ধমানের কালনা রেলগেট এলাকায়। মৃতের নাম নন্দিতা মির্ধা (২১)। গুরুতর জখম দেড় বছরের শিশুপুত্র বন্ধন মির্ধাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে বর্ধমান এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ঠাকুর দেখতে যাওয়ার নাম করে প্রায় দেড় বছরের শিশুপুত্রকে সঙ্গে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন নন্দিতা। তবে শিশুপুত্রটি রক্ষা পেয়ে যায়৷মৃত মহিলা নন্দিতা মির্ধার শ্বশুরবাড়ি বর্ধমান শহর লাগোয়া বৈকুণ্ঠপুর ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের রায়নগর বটতলা এলাকায়। মৃতার স্বামী পেশায় গুমটির দোকানদার বিল্টু মির্ধা জানিয়েছেন, এদিন সকালে তাঁর দেড়বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে সরস্বতী ঠাকুর দেখতে যাবার নাম করে বাড়ি থেকে বার হন নন্দিতা।

এর কিছুক্ষণ পর প্রায় সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ তিনি খবর পান রেল লাইনে আত্মঘাতি হয়েছেন নন্দিতা। রেল লাইনের ধারেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল শিশুপুত্র বন্ধন মির্ধা। পাড়া প্রতিবেশিরাই খবর পেয়ে শিশুপুত্রটিকে উদ্ধার করে দ্রুত বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় এদিন দুপুরেই তাকে কলকাতার পিজিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মৃতার মামা মণীন্দ্র ঘরামি জানিয়েছেন, তিন বছর আগে বিয়ে হয় হুগলীর পাণ্ডুয়ার বাসিন্দা নন্দিতার সঙ্গে বিল্টুর। সম্প্রতি বিল্টুর সঙ্গে ওই এলাকারই অপর এক মহিলার বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তা নিয়ে প্রতিবাদ করায় প্রায় প্রতিদিনই নন্দিতাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি মিটমাট করে দেওয়ার বহু চেষ্টা হয়েছে বলে মণীন্দ্রবাবু জানিয়েছেন৷

তিনি বলেন, শনিবার রাতেও নন্দিতাদেবী তাঁকে ফোনে জানিয়েছিলেন তাঁর উপর অত্যাচার করা হচ্ছে, তিনি আর শ্বশুরবাড়ির ঘর করতে পারবেন না। মণীন্দ্রবাবু জানিয়েছেন, রবিবার সকালেই তাঁরা নন্দিতার সঙ্গে কথা বলতে যাবার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন। কিন্তু তার আগেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল। তাঁর ভাগ্নী অভিমানেই আত্মঘাতী হয়েছে বলেই অভিযোগ করেছেন মণীন্দ্রবাবু৷ এব্যাপারেও আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানান তিনি৷

সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মৃতার স্বামী বিল্টু দেবনাথ৷ তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে দাবি করেছেন তিনি। যদিও পারিবারিক এই অশান্তির বিষয় সম্পর্কে এদিন পাড়া প্রতিবেশী, নন্দিতাদেবীর শাশুড়ি এবং অন্যান্যরা কোনেও কথাই বলতে চাননি।

অন্যদিকে, রায়নগর বটতলা এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় নন্দিতাদেবী বিয়েবাড়ির সাজে প্রচুর গয়না পরে ছেলেকে সঙ্গে নিয়েই বের হন৷ প্রতিবেশীদের মধ্যে কয়েকজন জানিয়েছেন, ডাক্তার দেখানোর নাম করেই নন্দিতাদেবী বেরোন
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ট্রেনের আঘাতে দেহ ছিন্নভিন্ন হলেও নন্দিতাদেবীর একটি হাত থেকে একটি দশটাকার নোট পাওয়া গিয়েছে। জানা গিয়েছে, শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চায়নি মৃতার বাপের বাড়ির লোকজন৷ প্রতিবেশীরা সেকথা জানার পর নন্দিতাদেবীর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন৷

---- -----