টলিউডের পাঁচ নায়িকার সঙ্গে লড়াইয়ে একা শ্রাবন্তী!

কলকাতা: অজানা এক কারণে পিছিয়ে যায় ‘পিয়া রে’ মুক্তি। এর ঠিক হয় ১০ই আগস্ট পর্দাজুড়ে আসবে সোহম-শ্রাবন্তীর প্রেম কাহিনি। কিন্তু এদিন আবার মুক্তি বিরষার ‘ক্রিসক্রস’। যেখানে একজন, দু’জন নয়! রয়েছে টলিপাড়ার হেভি-ওয়েট পাঁচ নায়িকা। মিমি চক্রবর্তী, নুসরত জাহান, জয়া আয়সন, সোহিনী সরকার ও প্রিয়াঙ্কা সরকার।

‘পিয়া রে’ এ সিনেমার দুই মুখ্য চরিত্র রিয়া এবং রবি৷ রবির নিজের সবটা দিয়ে রিয়াকে ভালবাসে৷ রিয়ার প্রেমে রবি এতটাই অন্ধ যে দিন রাত শুধু ওরই কথা ভেবে যায়৷গরীব ঘরের মেয়ে রিয়া৷ কিন্তু সৎ, স্বাবলম্বী, সোজা কথা সোজা ভাবেই পছন্দ করে সে৷ রূপে নয়, রিয়ার গুণে মুগ্ধ হয়ে রবি তার প্রেমে পড়ে৷ একটা সুন্দর প্রেমের কাহিনী শুরু হতে না হতেই এন্ট্রি নিল ভিলেন৷ ছবির হিরোইনকে বিরক্ত করে হিরোর কাছে মার খাওয়ার মতো ভিলেন সে নয়৷ বরং নায়কের থেকে বেশ শক্তিশালী৷ রিয়াকে এক আর্থিক কষ্টের সুযোগ নিয়ে তাকে এমন অন্ধকার জগতে পাঠিয়ে, যেখান থেকে তার ফেরার আর কোনও উপায় নেই৷

ছবি: ট্যুইটারের সৌজন্যে

রিয়া যে ঘেরাটোপে বন্দি সেখান থেকে বেরনো অসম্ভব৷ অগত্যা কাউকে কিছু না জানিয়ে রবিকে ছেড়ে চলে যায় রিয়া৷ সাধারণ ছেলে হতে পারে রবি কিন্তু ভালবাসাই তার কাছে সবচেয়ে বড়ো অস্ত্র৷ আপ্রাণ চেষ্টা করে রিয়াকে খুঁজে বের করবে সে৷ তবে মিল কী হবে? রিয়া আর রবি আগের মতো এক হতে পারবে? কী এমন জালে জড়িয়ে গেল রিয়া যেখান থেকে ফেরা দুর্বিসহ হয়ে উঠল? সব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে ১০ ই তারিখ মুক্তি পেল ‘পিয়া রে’।

- Advertisement -

এদিকে ‘আজ না বাঁচলে, কালকের স্বপ্নটা দেখব কীভাবে?’ যতই ঝড়-ঝাপটা আসুক না কেন পঞ্চকন্যা ঠিক নিজেদের সামলে এগিয়ে যাবে৷ কেবল এই পঞ্চকন্যা নয়, দেশের সকল মেয়েরা সবরকম বাঁধা পেরিয়ে মাথা উঁচু বাঁচতে শিখবে৷ এমনই বার্তা দিয়ে রিলিজ করেছে বিরসা দাশগুপ্তের ‘ক্রিসক্রস’।

আরও পড়ুন: হোটেলে হেনস্থা! সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রিনশট পোস্ট করলেন অভিনেত্রী

ইরা, সুজি, মিস সেন, রূপা, মেহের৷ পাঁচটি মেয়ে৷ পাঁচটি জীবন৷ কিন্তু বাঁধা এক সুতোর টানে৷ প্রত্যেকে আটকে একটা জায়গায়৷ লড়াই করে সমাজে নিজের জায়গা অর্জন করে নেওয়ার জেদে আটকে তারা৷ যেখানে অসংখ্য বাঁধা পেরিয়ে পৌঁছতে হবে এক নতুন দেশে৷ স্বাধীনতার দেশে৷ যেখানে গতানুগতিক মহিলার জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা রয়েছে৷ এই ছবির মাধ্যমে দর্শক পেতে চলেছে মেয়েদের এক অভিনব কাহিনি৷ পরিচালক বিরসা দাসগুপ্তের হাত ধরে টলিউডে পাড়ি দিল ওম্যানহুড৷

রার চরিত্রে মিমি চক্রবর্তী৷ পেশায় একজন ফোটোগ্রাফার৷ ফোটোগ্রাফিই তার প্যাশন৷ কিন্তু সমস্যা ইরার বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে৷ বয়ফ্রেন্ডের চরিত্রে রয়েছেন অর্জুন চক্রবর্তী৷ যে একেবারেই ইরার পেশাগত জগৎটাকে বুঝতে চায় না৷ অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কা সরকার রয়েছেন একজন সিঙ্গল মাদারের চরিত্রে৷ নাম সুজি৷ ছেলেকে নিয়ে কমবয়সী মেয়ে বিভিন্ন কারণে বিপদে পড়তে থাকে তাকে৷ টিজারে এক মদ্যপ ব্যক্তির অত্যাচারও সহ্য করতে হয় সুজিকে৷ এসমস্ত ঝামেলার মধ্যে নষ্ট হচ্ছে তাঁর ছেলের ভবিষ্যৎ৷ সুজিকে সেই তিন্তায় কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে প্রতিনিয়ত৷


সমাজের ঝকঝকে উঁচু স্তরের মানুষদের মধ্যে মিস সেন একজন৷ সাফল্য তার পিছু পিছু যায়৷ তবে এই দামী বাড়ি গাড়ির মধ্যেও রয়েছে বিষাদ৷ সফিস্টিকেটেড মুখোশের আড়ালে একাকী মিস সেন৷ এই চরিত্রে রয়েছেন জহা এহসান৷ ছবির আরেকটি চরিত্র মেহের৷ যার দুই চোখে একটাই স্বপ্ন৷ অভিনেত্রী হওয়ার আকাঙ্খা নিয়ে এগিয়ে চলেছে মেহের৷ কিন্তু সমাজের তুচ্ছ তাচ্ছিল থেকে মেহেরেরও নিস্তার নেই৷ অভিনয় নুসরত জাহান৷ অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন, ঋদ্ধিমা ঘোষ চক্রবর্তী, গৌরব চক্রবর্তী সহ অনেকে।

সুতরাং বুঝতেই পারছেন একদিকে মেয়েদের বাঁচার কাহিনি আর অন্যদিকে প্রেমের বাঁচার কাহিনি। এখন এই দু’য়ের মাঝে দর্শকদের কোনটা পছন্দ হয়! তা বলবে বক্স-অফিস কালেকশন।

Advertisement
---