ভাইফোঁটায় ১০০ বছরের সত্যনারায়ণই ভরসা ‘ভাইজানদের’

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়া: বাতাসা আর মুড়কি, বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় খাবার। দুটোই মুড়ির সঙ্গে দারুন যুগলবন্দি। স্বাদকোরককে মিষ্টি স্বাদ দেওয়া দুই খাবারের গুমটি দিয়েই ব্যবসা শুরু করেছিলেন গৌরমোহন। সেই মিষ্টিই এখন হাওড়াবাসীর ফেভারিটের তালিকায়। ভাইফোঁটার আগে যথারীতি জমজমাট গৌরমোহনের ‘সত্যনারায়ণ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’।

ভাইফোঁটার সন্ধ্যা। তিল ধারনের জায়গা নেই হাওড়ার বাকসাড়া অঞ্চলের এলএমসি স্মরনীর মিষ্টির দোকানটিতে। আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে ভাইফোঁটার আগের দিনের চিত্রটা মোটেই এমন ছিল না। ১৯২০ সালে গৌরমোহন বেজ নিতান্তই এক ছোট্ট দোকান খুলেছিলেন বাকসাড়ায়। পড়ে সেই ব্যবসাকে ধীরে ধীরে বড় করেন। এখন সেই ব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠে হাওড়ার মানুষের রসনা তৃপ্তির অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান। মিষ্টির দোকানের বর্তমান মালিকানা সমীর বেজের। তিনি বলেন, “গৌরমোহন বেজ বাতাসা আর মুড়কির দোকানকে মিষ্টির দোকানের রূপ দেন। বাতাসা , মুড়কি ছেড়ে উনি রসগোল্লা, পান্তুয়া বানাতে শুরু করেন। ছোট গুমটি থেকে দোকান খুলে বসেন। সেই শুরু। পরিবারকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি।”

ছেলে অশ্বিনী মিষ্টির দলে যোগ করেন সন্দেশকেও। বর্তমানে সেই দায়িত্ব পুরোটাই সমীর ও সজল বেজের হাতে। সজল বলেন, “উৎসবের মরসুমে এত বিক্রি হয় যে সাপ্লাই দিতে পারি না। সন্ধ্যার পরেই সব মিষ্টি শেষ হয়ে যায়। তবু আমরা ডেলিভারি দেওয়ার চেষ্টা করি।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “গৌরমোহন ব্যবসা সততার সঙ্গে করতে শিখিয়েছেন। সেটা পাথেয় হিসাবে রেখে আমরা এগিয়ে চলেছি।”

রাজ্যের বাইরেও মিষ্টি সাপ্লাই দেয় হাওড়ার এই বিখ্যাত মিষ্টির দোকানটি। দোকানের স্পেস্যাল কাজু পেস্তা এবং কেশর সন্দেশ। সজলবাবু বলেন , “আমরা কাজু পেস্তার স্পেস্যাল মিষ্টি বানাতে ছানাকে যতটা পারা যায় ততটা মরিয়ে নি। এরপর এরসঙ্গে চিনি মিশিয়ে দিয়ে আরও একবার স্পেশ্যাল পাক দেওয়া হয়। পাক হয়ে গেলে কাজু কেটে ওই মিশ্রণের উপর ছোট ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এবার ওই পাত্রের উপর ক্ষীরের আস্তরন দেওয়া হয়। এরপর পেস্তা মিশিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পুরো মিশ্রণ থেকে সাইজ মতো সন্দেশের কিউব কেটে বিক্রি করা হয়।”

কেশর সন্দেশের ক্ষেত্রে কাজু বাদাম আগে হালকা করে পুড়িয়ে নেওয়া হয়। এরপর ওই একইভাবে মিশ্রণ তৈরি করে তার উপর পেস্তার বদলে কেশর দিয়ে দেওয়া হয়। পেস্তা, কেশর, কাজুর মতো হাই ক্যালোরির খাবারের মিশ্রণ থাকলেও যে কেউ দুটোর বেশী খেয়ে নিতে পারে বলে দাবি দোকানের।

পাশাপাশি ক্রিম রোল, গোলাপ জামের মতো জিভে জল মিষ্টিও রয়েছে সত্যনারায়ণ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের স্পেস্যাল মিষ্টির তালিকায়। ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায় এইসব মিষ্টি। ভাইফোঁটায় সর্বোচ্চ ৫০ টাকা দামের মিষ্টিও তৈরি করেন বেজরা।

----
-----