সাগর বাগচী, শিলিগুড়ি: ১৯১৩ সালে কবি মুকুন্দ দাসের হাত ধরে শিলিগুড়ির আনন্দময়ী কালীমন্দিরে মা কালীর আরাধনা শুরু। তারপর থেকে ১০২ বছর যাবৎ মায়ের আরাধনা সেই আগের মতই করে আসছেন আনন্দময়ী পুজো কমিটির বিভিন্ন সময়ের সদস্যরা। শিলিগুড়ি শহরের সার্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আনন্দময়ী কালীমন্দিরের পরিবর্তন হলেও, মায়ের সেই কষ্টি পাথরের মূর্তিতেই এখন চলছে আরাধনা। ইতিহাস বলে, এই মন্দিরই শিলিগুড়ির প্রাচীনতম মায়ের মন্দির।

মন্দিরের ইতিহাস খুঁজলে জানা যায়, স্বাধীনতা বিপ্লবীদের আখড়া ছিল এটি। যখন এই মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল তখন চারিদিকে ছিল ঘন জঙ্গল। আর এরই মাঝে তৎকালীন স্বাধীনতা সংগ্রামীরা এই মন্দিরে শক্তি বৃদ্ধির কামনায় মায়ের পুজো করতেন। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেলেও বদলায়নি মা কালীর আরাধনা নিয়ম। তবে একটা সময় কালীপুজোর দিনে বলির প্রথা চলে আসলেও, বিগত প্রায় বছর আটেক ধরে বন্ধ রয়েছে এই বলি।

Advertisement

আনন্দময়ী কালি মন্দির কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ভাস্কর বিশ্বাস বলেন, ‘মন্দির প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর পুজো চললেও বার্ষিক পুজো করা হয়ে আসছে গত ৮৯ বছর ধরে। বর্তমানে পুজোর দিনে কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। তাছাড়া,সামাজিক, ধর্মীয় অনেক আচার অনুষ্ঠানও করা হয়। মন্দিরের সৌন্দর্যায়ন করার পেছনে প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, শিলিগুড়ির বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা এবং মন্দির কমিটির সদস্যরা এই টাকা দিয়ে মন্দিরকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলেছেন। ভাস্কর বিশ্বাস নিজে একজন বাস্তুকার হওয়ায় তিনি নিজেই মন্দিরের নতুন নকশা তৈরি করে তার বাস্তব রূপ দিয়েছেন। বর্তমানে এই মন্দিরে প্রায় ৭০০ জন সদস্য রয়েছেন।

আনন্দময়ী কালি মন্দিরে বর্তমানে চার জন পুরোহিত রয়েছেন। যাদের মধ্যে প্রধান পুরোহিত বিধান চক্রবর্তী। তিনি জানান, প্রতিদিন মায়ের আরাধনা করা হলেও,কালী পুজোর রাতে মায়ের বিশেষ আরাধনা করা হয়। কিন্তু এখন বলি প্রথা উঠে যাওয়ায় কুশমান্দি আদি পাঁচ ধরনের ফলের বলি দেওয়া হয়। তিনি জানান,এই মন্দিরের প্রথম পুরোহিত ছিলেন চন্দ্রমোহন চক্রবর্তী। তারপর তাঁর ছেলে মধূসূধন চক্রবর্তী পুজোর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে, তিনি বয়সজনিত কারণে পুজো না করায় পুরোহিতদের বংশ পরম্পরা রীতি এখানে আর নেই। কিন্তু এই সবের মাঝখানেও আনন্দময়ী কালি মন্দির শিলিগুড়ি শহরের বিভিন্ন ইতিহাসকে আজও উজ্জ্বল করে রেখেছে।

----
--