দূষণ নয়, জীবন দিচ্ছে প্লাস্টিক বোতল!

চেন্নাই: বড় বড় বিজ্ঞানীরা যা করে দেখাতে পারলনা তা করে দেখালো এই ছোট্ট খুদে বিজ্ঞানীরা৷ এই খুদে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছে এমন একটি লাইফ জ্যাকেট৷ যা রুখবে হাজার হাজার জেলেদের প্রাণ৷ তাও কিনা পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে৷ একাধারে দূষণের হাত থেকেও রক্ষা করা যাচ্ছে সমুদ্রকে৷ অপরদিকে মৃত্যুর মুখ থেকেও বেঁচে ফিরছেন জেলেরা৷ যাও কিনা একেবারেই বিনামূল্যে৷ খুদে বিজ্ঞানীর এই আবিষ্কার চমকে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে৷ অসাধারণ এই উদ্ভাবন করে খুদে বিজ্ঞানীরা বারবার দেখিয়ে দিয়েছেন তারা কোনও অংশেই পিছিয়ে নেই বড়দের থেকে৷ ১১বছরের ঋষিকেশ আরও একবার সেটি প্রমাণ করে দিল৷

ছোট্ট ঋষিকেশ তামিলনাড়ুর বাসিন্দা৷ পঞ্চায়েত ইউনিয়ন মিডল স্কুলে সে পড়াশুনা করে৷ সেখানেই প্রবীন, নাবিন কুমার, কার্থি এবং গুহানের মতন আরও পাঁচটি ছেলে মেয়েদের সঙ্গেই খেলাধুলা করেই তার দিন কাটছিল৷ স্কুল থেকে ফিরে সে রামানাথপুরানের তীরে সে খেলাধুলা করে তার বন্ধুদের সঙ্গে৷ সেই সমুদ্রের তীরেই বাস করে একটি জেলেদের পরিবার৷ সে প্রায়ই শুনতো জেলেরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি৷ ঝড়ের কবলে পরে কিংবা লম্বা লম্বা ঢেউয়ের আঘাতে মৃত্যু হয় জেলেদের৷ কারণ এই সমস্ত জেলেদের জন্য নেই কোনও সঠিক পরিকাঠামোর ব্যবস্থা৷ এই সমস্ত জেলেদের মৃত্যুর সংবাদে এই ছোট্ট শিশুটিরও মন কেঁদে উঠত৷ তাই সে ঠিক করে সে নিজেই এমন কিছু একটা আবিষ্কার করবে যা এই সমস্ত জেলেদের মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচিয়ে আনবে৷ আর যেমন ভাবা তেমন কাজ৷ এই সমস্ত জেলেদের জন্যই সে আবিষ্কার করে লাইফ সেভিং জ্যাকেট৷ যাও কিনা একেবারেই বিনামূল্যে৷

- Advertisement -

 

তবে, হঠাৎ এমন একটি আবিষ্কারের কথা তার মাথায় এল কিভাবে? সেই প্রসঙ্গে ঋষিকেশকে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলে, সে যখন সমুদ্রের তীরে খেলতে আসতো বন্ধুদের সঙ্গে তখন সে দেখত সমুদ্রের জলে ভাসছে প্লাস্টিকের বোতল৷ তখনও ঋষিকেশ এবং তার খেলার বন্ধুরা বিষয়টি নিয়ে গবেষণা শুরু করে৷ তাদের মাথায় আসে একটি ফাঁকা প্লাস্টিকের বোতল যদি এভাবে ভেসে থাকতে পারে তাহলে অনেকগুলো বোতল যদি এভাবে একসঙ্গে ভেসে থাকে তাহলে তা লাইফ জ্যাকেট হিসেবে সহজেই ব্যবহার করা যেতে পারে৷ এরপর সেই মতনই দুই ডজন প্লাস্টিক বোতলকে একসঙ্গে বেঁধে সে নিজেই পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু করে একটি হ্রদে নেমে৷ আর একেবারেই তার চিন্তাভাবনা সঠিক ভাবে প্রতিফলিত হয়৷ এরপর ডিজাইন ফর চেঞ্জের তত্ত্বাবধানে ‘I CAN Awards 2014’-এ তারা তাদের এই আবিষ্কারটি পাঠায়৷ আর ১০০শতাংশ নম্বর নিয়ে এটি নির্দিষ্ট সমস্তরকম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়৷ এরপর স্থানীয় জেলেদেরকে বিনামূল্যে ওই জ্যাকেটগুলি প্রদান করে ওই খুদে শিশু বিজ্ঞানীরা৷

Advertisement
---