আগরতলা: নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদ ও পুলিশের গুলিতে একাধিক উপজাতি আন্দোলনকারী জখম হওয়ার জেরে ফের অচল হতে চলেছে উত্তরপূর্বের রাজ্য ত্রিপুরা৷ আগামী ১২ জানুয়ারি বনধের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন উপজাতি সংগঠন৷ উপজাতিদের উপর কেন পুলিশ গুলি চালাল তার জবাব চেয়েছে বিভিন্ন সংগঠন৷ পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে৷

বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব মাধববাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেন৷ তাঁর সঙ্গেই সাংবাদিক সম্মেলন করেন আইপিএফটি’র সভাপতি তথা মন্ত্রী এন সি দেববর্মা৷ মাধববাড়ির ঘটনায় গুজব রুখতে রাজ্য সরকার পুনরায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করার পথেই গেল৷ আগরতলার রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, বিজেপি পরিচালিত জোট সরকারের অন্যতম শরিক ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ আইপিএফটি অবিলম্বে সরকার ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারে৷ যদিও সংগঠনের তরফে সরাসরি কিছু জানানো হয়নি৷

সরকারে থাকা উপজাতি সংগঠন আইপিএফটি ক্ষুব্ধ হলেও তারা বনধ সমর্থন করবে কিনা তা পরিষ্কার নয়৷ তবে অন্যান্য উপজাতি সংগঠন যেমন- প্রবীণ উপজাতি নেতা বিজয় রাঙ্খলের নেতৃত্বাধীন আইএনপিটি, এনসিটি, টিএসপি, ডিওয়াইপি সরাসরি বনধের রাস্তাই নিল৷ তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে আইপিএফটি-তিপ্রাহা গোষ্ঠী৷ আরও এক কদম এগিয়ে তারা লোকসভা নির্বাচনে উপজাতি প্রার্থী দিচ্ছে বলে জানিয়ে দেয়৷ এর জেরে ত্রিপুরার উপজাতি ভোট ব্যাংকে বড়সড় ফাটল ধরছে৷ গত বিধানসভায় বাম বিরোধী হাওয়ায় এই ভোট সরাসরি নিজেদের দিকে টানতে পেরেছিল বিজেপি৷

পড়ুন: নাগরিকত্ব সংশোধনী: প্রতিবাদের আগুনে রাতেই বিচ্ছিন্ন শৈলশহর শিলং

উপজাতি সংগঠনগুলির ডাকা ১২ তারিখে বনধের জেরে ত্রিপুরার সঙ্গে দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হতে চলেছে৷ পশ্চিম ত্রিপুরার সঙ্গে অসম ও অন্যদিকে মিজোরামের সঙ্গেও সড়ক যোগাযোগ বন্ধের সম্ভাবনা প্রবল৷ এই বনধের প্রভাব পড়তে চলেছে রাজ্যের উপজাতিভুক্ত এলাকা অর্থাৎ ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিসট্রিক্ট কাউন্সিলে৷

গত ৮ জানুয়ারি বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়নগুলির ডাকা ৪৮ ঘণ্টার ভারত বনধ চলছিল৷ রাজ্যে বিরোধী সিপিএমের নেতৃত্বে সেই বনধ পালিত হচ্ছিল৷ আর এর পাশাপাশি সেই দিনেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে বনধে সামিল হয়েছিল উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন উপজাতি ছাত্র সংগঠনের যৌথ মঞ্চ নেসো৷ বনধ চলাকালীন পশ্চিম ত্রিপুরার জিরানিয়া-মাধববাড়িতে গুলি চালায় পুলিশ৷ জখম হন অন্তত ৬ জন আন্দোলনকারী৷ তাদের চিকিৎসা চলছে আগরতলায়৷ গুরুতর জখম একজনকে কলকাতায় পাঠানো হয়েছে৷ তার চিকিৎসার ভার রাজ্য সরকারের৷ এমনই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব৷

এদিকে বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি হচ্ছে রাজ্যের৷ সরকার কেন গুলি চালাল তার তদন্ত হোক৷ হাসপাতালে গিয়ে জখম উপজাতি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি৷ জানা গিয়েছে, সেখানে আহতরা বলে- রাজ্যে বাম সরকারের আমলে প্রবল বিক্ষোভ চালানোর সময় দীর্ঘদিন ত্রিপুরা বিচ্ছিন্ন ছিল৷ কিন্তু পুলিশ গুলি চালায়নি৷ সরকার পরিবর্তন হওয়ার পরে এই অবস্থা অসহনীয়৷

পড়ুন: Breaking News- ফের তিনসুকিয়ায় জঙ্গি হামলা, গভীর জঙ্গলে প্রবল গুলির লড়াই

উপজাতি সংগঠনগুলির যৌথ নেতৃত্ব অসমের প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, লেই রাজ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে সরকার ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছে অসম গণ পরিষদ (অগপ)৷ ত্রিপুরাতেও সরকারের অবস্থানকে সমর্থন করা যায় না৷