ট্যুর ট্রাভেলসের আড়ালে প্রতারণার ফাঁদ, ধৃত ২

স্টাফ রিপোর্টার,কলকাতা: বেশ কিছু দিন ধরেই শহরে ভুয়ো ট্যুর প্ল্যানাররা প্রতারণার ছক ফেঁদেছে বলে গোপন সুত্রে খবর পাচ্ছিল পুলিশ৷ কয়েকদিন আগে পুলিশের কাছে দুটি অভিযোগ দায়ের হয়৷ গড়ফা থানায় এই দুটি অভিযোগই একটি ট্যুর সংস্থার বিরুদ্ধে দায়ের হয়৷ ব্যাঙ্গালোরের বাসিন্দা এম আর শশীধর এবং নরেন্দ্রপুরের বাসিন্দা অভিষেক পাত্র এই অভিযোগ দায়ের করেন৷ বিদেশ ভ্রমণের নাম করে স্কাইলার্ক ট্রাভেলস টাকা হাতিয়েছে বলে অভিযোগ শশীধর ও অভিষেক পাত্রের৷

পুলিশ কর্তারা জানাচ্ছেন ব্যাঙ্গালোরের এই বাসিন্দা এম আর শশীধর জানান, ২০১৭ সালে বন্ধুরা মিলে ঘুরতে এসেছিলেন কলকাতায়। দল নেহাত ছোট ছিল না। মোট ৬৪ জন, সবাই অবসরপ্রাপ্ত। সেই সময়ে এই স্কাইলার্ক ট্রাভেলসই তাঁদের কলকাতা ভ্রমণের আয়োজন করেছিল। স্কাইলার্ক ট্রাভেলের কর্মচারীদের আতিথেয়তা আর নিখুঁত আয়োজনে মুগ্ধ হয়েছিলেন এম আর শশীধরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নরেন্দ্রপুরের বাসিন্দা অভিষেক পাত্র স্কাইলার্ক ট্রাভেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপণ দেখে। তিনিও সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া আর থাইল্যান্ড ট্যুরের জন্য মোট ১,২৪,৯৫০ টাকা আগাম দিয়েছিলেন সংস্থার এজেন্ট আকাশ পাঠককে। একইভাবে প্রতারিত হন তিনিও। এরপর বিমানের নকল টিকিট সমেত গড়ফা থানায় অভিযোগ জানান অভিষেক।

এই অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ৷ তদন্তে নেমে তারা জানতে পারেন এই প্রতারকরা খবরে কাগজে বিজ্ঞাপণ দিয়ে জানায় তাদের সংস্থা সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড ভ্রমণে আকর্ষণীয় ছাড় দিচ্ছে৷ বিখ্যাত দৈনিকের পাতায় এই বিজ্ঞাপন চোখে পড়ত অনেকেরই। সংস্থার অফিস কলকাতার বুকেই। বাইরে থেকে দেখলে বোঝা দায়, এই ট্যুর আয়োজক সংস্থার আড়ালেই ফাঁদা হয়েছিল বড়সড় প্রতারণার ছক। পুলিশ তদন্তে জানতে পারে এই সংস্থার উদ্দেশ্য হল বিদেশ ভ্রমণের নামে বিভিন্ন লোকজনের থেকে টাকা হাতিয়ে চম্পট দেওয়া।

পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে এই চক্রের মুল পান্ডা স্কাইলার্ক ট্রাভেলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রূপায়ণ গুপ্ত৷ তার খোঁজ শুরু করে পুলিশ জানতে পারে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ফেরার৷ তার সঙ্গে আরও দুই অভিযুক্ত এজেন্ট শুভঙ্কর মণ্ডল এবং আকাশ পাঠকও বেপাত্তা। তাদের খোঁজ শুরু করেন তদন্তকারীরা৷ গড়ার একটি গোপন ডেরা থেকে এই তিন অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করে পুলিশ৷

----