গোরক্ষপুর: হস্টেল থেকে বের করে দেওয়া হল দুই পড়ুয়াকে৷ তাদের অপরাধ, হস্টেল ওয়ার্ডেনের নির্দেশ অমান্য করেছে৷ অভিযোগ, হস্টেল ওয়ার্ডেন ওই দুই পড়ুয়াকে টয়লেট পরিস্কারের নির্দেশ দিয়েছিল৷ সেই নির্দেশ পালন করেনি তারা৷ এরপরই তাদের উপর নেমে আসে শাস্তির খাঁড়া৷ ওয়ার্ডেনের নির্দেশে ওই দুই পড়ুয়াকে বহিস্কৃত করা হয় হস্টেল থেকে৷ বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ে যেতেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হস্টেল কর্তৃপক্ষ৷

উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলার একটি হস্টেলের ঘটনা৷ কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম ও ষষ্ঠ শ্রেণির দুই পড়ুয়া সালিমন ও নাফরিনকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ডেন শ্রুতি মিশ্রের বিরুদ্ধে৷ এমনকী ওই ওয়ার্ডেনের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের পড়াশুনায় বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে৷

Advertisement

হস্টেলের এক পড়ুয়া জানিয়েছে, ম্যাডাম তাদের দিয়ে টয়লেট পরিস্কার করাত৷ হস্টেলের অন্যান্য কাজও করতে বলত৷ তাদের পড়তে দেখলেই গালিগালাজ করত৷ কটূ কথা বলে অপমান করত৷ হস্টেলের সবাই ম্যাডামের বিরুদ্ধে ক্ষেপে গিয়েছিল৷ ওই দুই জন ছাত্রী যখন টয়লেট পরিস্কার করতে অস্বীকার করে তখনই তাদের বাড়ি ফেরত পাঠিয়ে দেন ম্যাডাম৷

বহিস্কৃত ওই দুই ছাত্রী রামপুর পুলিশ থানার অন্তর্গত সানি পট্টি এলাকার নিম্নবিত্ত পরিবারের বাসিন্দা৷ তাদের বাবা পেশায় ঠিকা শ্রমিক৷ সালেমান জানিয়েছে, সোমবার বিকালে তাদের হস্টেল থেকে বের করে দেওয়া হয়৷ তারপর থেকে তারা স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে৷ অপরদিকে নাফরিন জানিয়েছে, হস্টেলের অন্যান্য মেয়েদের দিয়ে রান্না করা ও টুকিটাকি কাজ করাতে বাধ্য করতেন ম্যাডাম৷

মেয়েদের এই ভাবে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা৷ তাঁরা জানিয়েছেন, হোস্টেল থেকে বাডির দুরত্ব ৫ কিমি৷ সোমবার রাতে দু’জনকে একলাই বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ একদিকে সরকার বলছে মেয়েদের স্কুলে পাঠাও৷ আবার স্কুলে বাচ্চাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়? এরকম চলতে থাকলে কোন বাবা-মা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাবে না৷

অপরদিকে বিষয়টি জানাজানি হতেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ৷ জানিয়েছে, চুক্তি ভিত্তিতে ওই মহিলাকে ওর্য়াডেন হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছে৷ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷

----
--