‘২১-শের সমাবেশ লবি বাজির খেলা’

স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: ‘মুখ্যমন্ত্রীর ২১-শের সমাবেশ লবি বাজির খেলা’৷ শনিবার এরকমই একটি তির বিঁধিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি কটাক্ষ করলেন জলপাইগুড়ি জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নির্মল ঘোষ দস্তিদার৷ এদিনের উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নির্মল ঘোষ দস্তিদার, যুব কংগ্রেসের সভাপতি অম্লান মুন্সি, কংগ্রেস নেত্রী অনিতা মল্লিক-সহ অন্যান্যরা।

অন্যদিকে, ১৯৯৩ সালে ২১ জুলাইয়ে শহিদদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ ও আহতদের পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে হবে৷ ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে এই ঘোষণা করল জেলা কংগ্রেস। এদিন ২১-শের সমাবেশকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ি জেলা কংগ্রেস কার্যালয় রাজীব ভবনে একটি স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই স্মরণ সভায় শহিদদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন উপস্থিত কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। শহিদ বেদীতে মোমবাতি জ্বালিয়ে ও মাল্য দান করে শ্রদ্ধা জানায় সকলে।

আরও পড়ুন: ‘তারকাময়’ ২১ শে জুলাই

এরপর শহিদ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন কংগ্রেস নেতারা। শহিদ মঞ্চ থেকে কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নির্মল ঘোষ দস্তিদার বলেন, ‘‘আমি বুঝে নেবো কাকে নেতা করতে হবে। আমার জন্য লবি বাজি করতে হবে না৷ দলের জন্য লবি বাজি করতে হবে না। অথচ মঞ্চে রয়েছেন দেব, ইন্দ্রনীল থেকে শুরু করে শতাব্দী সকলে৷ এটা কি আদতে শহিদ দিবসের মঞ্চ?’’

পাশাপাশি নাম না করে মুখ্যমন্ত্রীর শহিদ দিবসকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘দল বদলের খেলা এই শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে। কিন্তু আমরা প্রকৃত অর্থে শহিদ স্মরণ করছি। এর জন্য আমারা দাবিও করছি ২১ জুলাইয়ের নিহতদের ২৫ ও আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হোক।’’

আরও পড়ুন: ২১শের চমক! সভাস্থলে উপস্থিত কুণাল ঘোষ

পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘একদিন তিনি ভোটার পরিচয় পত্র দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছিলেন। কিন্তু পঞ্চায়েত নির্বাচনে হাতে ভোটার কার্ড নিয়েও ভোট দিতে পারলেন না প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে। পাল্টা যুব কংগ্রেস সক্রিয়তা দেখাচ্ছে৷ এই জন্য যুব কংগ্রেস এগিয়ে চলুক আমি চাই৷ প্রকৃত বাংলাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে।’’

প্রসঙ্গত, শনিবার শহিদ দিবসের জনসভাকে কেন্দ্র করে কলকাতা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে৷ জনারণ্যে পরিণত হয় ধর্মতলা চত্বর৷ এদিন সকালেই টুইট করে সকল কর্মী-সমর্থকদের ধর্মতলায় আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সেই সঙ্গে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস বিধায়করা৷ আক্রুজ্জামান, সাবিনা ইয়াসমিন, আবু তাহের, সমর মুখোপাধ্যায়৷ মাস-খানেক আগেই ওই কংগ্রেস নেতারা তৃণমূল কংগ্রেসে যাওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছিলেন৷

আরও পড়ুন: ভাঙা কণ্ঠে মমতার অগ্নিভাষণে ফেডারেল ফ্রন্টের পাটিগণিত

----
-----