বর্ধমানে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এল ২৫০ বছরের প্রাচীন মন্দির

গলসী: মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা প্রাচীন মন্দির আবিষ্কারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চ‌ল্য ছড়ালো বর্ধমানের গলসী থানার ভূঁড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের জুজুটি এলাকায়।

সম্প্রতি জুজুটি এলাকায় একটি বিনোদন পার্ক তৈরির কাজ হাতে নেয় ভুঁড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত। এর জন্য ১০০ দিনের প্রকল্পে প্রায় ১২০০ শ্রমিককে কাজে লাগানো হয়। ভুঁড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুবোধ ঘোষ জানান, মাটি খুঁড়তে গিয়ে মন্দির খুঁজে পাওয়ার ঘটনা নজরে আসতেই গোটা বিষয়টি জানানো হয়েছে গলসীর বিডিও শঙ্খ বন্দোপাধ্যায়কে। একইসঙ্গে প্রত্নতত্ত্ববিদ এবং ইতিহাসবিদদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে গোটা বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য।

সুবোধ বাবু জানিয়েছেন যে দামোদরের তীরবর্তী এই এলাকায় প্রতি বছর বহু মানুষ পিকনিক করতে আসেন। তাই এই জায়গাটিকে ভ্রমণের উপযুক্ত করে তোলার জন্য গত ৮ অক্টোবর থেকে ভুঁড়ি পঞ্চায়েতের অধীনে জুজুটি গ্রামের শশ্মান ঘাট সংলগ্ন এলাকায় একটি বিনোদন পার্ক তৈরি করার কাজ শুরু করা হয়। প্রায় ১২০০ শ্রমিক এই কাজে নিযুক্ত হয়েছে। ৯ অক্টোবর চার ফুট মাটি কাটার পর শ্রমিকরা দেখতে পায় একটি মন্দিরের চূড়া। কিছুটা দূরে আরও একটি মন্দিরের মাথা দেখা যায়।

খবর পেয়ে ওই এলাকায় গিয়ে বিষয়টি দেখার পর কর্মীদের খনন কার্যের ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়। এরপর ধীরে ধীরে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে প্রায় আস্ত দুটি মন্দিরের অংশ। উপর থেকে দেখে আপাতত এই মন্দিরগুলিকে শিব মন্দির বলেই মনে করা হচ্ছে।

পঞ্চায়েত প্রধান আরও জানিয়েছেন এই মন্দির দুটি সম্ভবত ২০০ থেকে ২৫০ বছরের প্রাচীন। হতে পারে ইংরেজ আমলে কোনও কারণে মাটির নিচে চাপা পড়ো গিয়েছিলো এগুলি। একসময় দামোদর নদ এই স্থানের অনেক কাছে ছিল। এখানে একটি খেয়াঘাট ছিল বলেও শুনতে পাওয়া যায় বলে সুবোধ বাবু জানান। তিনি বলেন ইংরেজ আমলে এখানে একটি লাইট হাউস (ওয়াচ টাওয়ার) ছিল। মূলত আশপাশের গ্রামের মানুষকে ফি বছর বন্যায় আগাম সতর্ক করার জন্যই এই ব্যবস্থা ছিল বলে জানা যায়।

বর্তমানে মানুষের চলাচলের যে পথ তার থেকে এই জায়গাটির উচ্চতা ছিল অনেক বেশি। তাই ১০০দিনের কাজে শ্রমিকরা মাটি কেটে সমান্তরাল করছিলেন। সুবোধ বাবু জানিয়েছেন, এতো প্রাচীন দুটি মন্দির এই এলাকায় আবিষ্কার হওয়ায় এই এলাকাটি ভবিষ্যতে দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। তাই মন্দির দুটির যথাযথ সংরক্ষণের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হবে।

স্বাভাবিকভাবেই বিনোদন পার্কের পাশাপাশি প্রাচীন এই প্রত্ন নিদর্শন আগামী দিনে মানুষকে এই স্থানে আসতে উৎসাহিত করবে। যদিও এব্যাপারে বর্ধমানের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ডাঃ সর্বজিত যশ জানান, এই সমস্ত মন্দিরগুলি প্রায় ১৫০ বছরের প্রাচীন। বর্ধমান রাজ আমলে এগুলি তৈরি হয়েছিল। তিনি জানান, দামোদর নদের জলস্তরের থেকে বর্ধমান শহর নীচে থাকায় অষ্টাদশ শতকে এবং উনবিংশ শতকে বেশ কয়েকবার বন্যার জলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বর্ধমান শহর। সেজন্য বন্যা রোধ করতে ১৯১৫ সালে এবং ১৯৪৬ সালে পরপর দুবার বর্ধমান শহরের উত্তরদিক তথা দামোদরের পাড়ে মাটি দিয়ে বাঁধ দেওয়া হয়। আর এই বাঁধ দেওয়ার সময়ই ওই মন্দিরগুলি চাপা পড়ে। সর্বজিত বাবু জানিয়েছেন, এইরকম মন্দির অনেকই রয়েছে দামোদরের বাঁধ বরাবর।

-------
----