জয়েন্টে সাফল্য নয়, শিক্ষাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে দিদীপ্য-অর্চিষ্মান

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও শিক্ষাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন মেধা তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের অধিকারী৷ সেরা তিনে স্থান অর্জন করা একজনের কাছে প্রত্যাশিত, আর একজনের কাছে অপ্রত্যাশিত৷ তবু, এই সাফল্যের তুলনায় সাফল্য পাওয়ার জন্য যে শিক্ষা অর্জন করেছে তারা, সেটাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে এই দু’জন৷

বুধবার জয়েন্টের ফলাফল প্রকাশের পরই দেখা গিয়েছে মেধা তালিকায় কলকাতার পড়ুয়াদের জয়জয়কার৷ প্রথম দশের প্রথমেই রয়েছে সাউথ পয়েন্ট হাইস্কুলের ছাত্র সল্টলেকের অভিনন্দন বসু৷ দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী সল্টলেকের দিদীপ্য রায় হরিয়ানা বিদ্যামন্দিরের ছাত্র৷ তৃতীয় স্থানে রয়েছে যাদবপুরের বাসিন্দা ও ডিপিএস রুবি পার্কের ছাত্র অর্চিষ্মান সাহা৷

মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান৷ এই সাফল্য কতটা প্রত্যাশিত ছিল দিদীপ্য রায়ের কাছে? তার কথায়, ‘‘পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত ছিল৷ তবে, যে কোনও ফলাফলই আমার কাছে অপ্রত্যাশিত হত৷ আমি পড়ে গিয়েছি, শিখে গেছি৷ তার মধ্যে যতটা ভালো করতে পারব, করব৷ তার বেশি কোনও আশা আমার ছিল না৷’’

- Advertisement DFP -

বাড়ির লোকেরও কোনও উচ্চাশা ছিল না বলেই জানিয়েছে দিদীপ্য রায়৷ তার বাবা-মা পড়াশোনার উপরই বরাবর জোর দিয়ে এসেছেন৷ ফলাফলের আশা করেননি৷ তবে, অপ্রত্যাশিতভাবে পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করতে পেরে উচ্ছ্বসিত সে৷ জীবনের একটি বড় পরীক্ষায় সফলতা অর্জনের পর পরবর্তী পদক্ষেপ কী? দিদীপ্য রায় জানিয়েছে, আগামী দিনে মেক্যানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক সে৷ তবে কোন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবে, তা নিয়ে কোনও ভাবনাচিন্তা এখনই করছে না৷ শুধু একটা ভালো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় হলেই চলবে এমনই জানিয়েছে৷

এখন বোর্ডের পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করছে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী৷ কোনও পরীক্ষাতেই ভালো ফলাফলের আশা রাখে না৷ পড়াশোনা করেছে, পরীক্ষা দিয়েছে, এতেই খুশি দিদীপ্য রায়৷ তার কথায়, ‘‘ব়্যাঙ্ক নয়৷ পড়াশোনা নিয়ে ভাবো৷’’ ইতিমধ্যেই জেইই মেইন-এ ৫০০ ব়্যাঙ্ক পেয়েছে৷ এখন জেইই অ্যাডভান্সের ফলাফলের অপেক্ষায় সে৷

অন্যদিকে, ভালো ফলাফল প্রত্যাশিত ছিল তৃতীয় স্থানের অধিকারী অর্চিষ্মান সাহার৷ তার কথায়, ‘‘আমি পরীক্ষা দিয়ে বাইরে আসার পরে বিশ্লেষণ করে কত নম্বর পেতে পারি তা দেখি৷ তার পর আমি প্রত্যাশা করেছিলাম প্রথম দশ বা কুড়ির মধ্যে থাকবই৷’’ তবে প্রথম দশে স্থান পাবে এমন প্রত্যাশা করলেও, প্রথম তিনে নাম থাকবে এই আশা সে করেনি বলে জানিয়েছে৷ তাই অপ্রত্যাশিতভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করে উল্লসিত অর্চিষ্মান সাহা৷

ভবিষ্যতে গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক পেশায় যেতে আগ্রহী তৃতীয় স্থানের অধিকারী৷ সেই জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সায়েন্স একই সঙ্গে রয়েছে, এমন কোনও বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক সে৷ যেমন, ইঞ্জিনিয়ারিং ফিজিকস৷ কারণ এই বিষয়টিতে পরবর্তীকালে গবেষণার জন্য প্রচুর সুযোগ রয়েছে৷ ইতিমধ্যেই বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে গিয়েছে সে৷ জেইই মেইন পরীক্ষাতেই ভালো ফলাফল করেছিল৷ সেখানে তার ব়্যাঙ্ক ছিল ৩৯৩৷ এখন জেইই অ্যাডভান্সের ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে৷ তার পরই তিনি সিদ্ধান্ত নেবে, আইআইটিতে ভর্তি হবে না, আইআইএসসি-র সুযোগকেই কাজে লাগাবে সে৷

তবে, এই ফলাফল প্রত্যাশিত হওয়ার পিছনের কারণও বলেছেন সে৷ তার কথায়, ‘‘পরীক্ষার কয়েকমাস আগে বা পরীক্ষার কয়েকদিন আগে প্রস্তুতি নিয়ে এই সাফল্য সম্ভব নয়৷ এটা বহুদিনের প্রচেষ্টা৷’’ এ ছাড়া, সাফল্যের পিছনে বাবা-মায়ের সমর্থন ছাড়া এই জায়গায় সে পৌঁছতে পারত না বলেই জানিয়েছে অর্চিষ্মান সাহা৷

যদিও, সাফল্যের থেকে শিক্ষাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন সে৷ তার কথায়, ‘‘আমি সাফল্যের পিছনে ছুটি না৷ আমি মনে করি, আমায় শিখতে হবে৷ আমি শেখার জন্যই পড়াশোনা করি৷ তাই আমার জন্য এই সাফল্যটা খুব একটা গুরুত্ব রাখে না৷ আমি কী শিখলাম, সেটাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ৷’’

এ দিনের মেধা তালিকা প্রকাশের পর থেকে বহুবার প্রথম স্থান অধিকারী অভিনন্দন বসুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়৷ তবে, তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি৷ তবে, তার স্কুলের মাধ্যমে জানা গিয়েছে, সে এখন মুম্বইতে বেড়াতে গিয়েছে৷ প্রত্যাশিত হোক বা অপ্রত্যাশিত, রাজ্য জয়েন্টে প্রথম স্থান অধিকার করে সে খুশি হয়েছে বলেই জানানো হয়েছে৷

Advertisement
----
-----