১৪ ঘন্টায় শহরে তিনটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা

ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে শহরে তিনটে পৃথক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল৷ প্রথম ঘটনাটি কাশিপুর থানা এলাকার৷ রবিবার গভীর রাতে কাশিপুর রোডের একটি পেপারের গুদামে আগুন লাগে৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল৷ ভোর ৪টে ২০ মিনিট নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে৷ আগুন লাগার কারণ স্পষ্ট নয়৷ কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি৷

এদিন ভোর ৪টে ৫০ মিনিট নাগাদ তোপসিয়া থানা এলাকার আগুন লাগে৷ ঘটনাস্থলে পৌছয় দমকলের চারটি ইঞ্জিন৷ সকাল ৬টা ২০ মিনিট নাগাদ আগুন পুরোপুরি নিভে যায়৷ এক্ষেত্রেও আগুন লাগার কারণ স্পষ্ট নয়৷ কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই৷

এদিনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বেলেঘাটা চালপট্টি রোড এলাকায়৷ আগুন জেরে প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকাবাসীর মধ্যে৷ জানা যায়, এদিন দুপুর ২টো ৪০ মিনিট নাগাদ চালপট্টি রোডের একটি গাড়ির গ্যারাজে আগুন লাগে৷ ঘটনাস্থলে যায় দমকলের আটটি ইঞ্জিন৷ প্রায় ঘন্টাখানেকের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে৷ ততক্ষণে অবশ্য গ্যারাজে থাকা দশটি গাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে৷ প্রাথমিক ভাবে দমকল কর্মীদের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে৷

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শর্ট সার্কিট নয়, ইচ্ছাকৃতভাবে গ্যারাজে আগুন লাগানো হয়েছে৷ ওই গ্যারাজটি দীর্ঘদিন পুরানো৷ তিনজন পার্টনার মিলে গ্যারাজটি ভাড়া দেওয়ার কাজ শুরু করে৷ কিন্তু নিজেদের মধ্যে বিবাদের জেরে গ্যারাজটি ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়৷ তবে বেশ কয়েকদিন আগে ফের তারা গ্যারাজটি ভাড়া দেওয়া শুরু করে৷ তার দিন কয়েকের মধ্যে আগুন লাগার ঘটনায় অন্য গন্ধ পাচ্ছেন স্থানীয়রা৷ জানিয়েছেন, এদিন দুপুর নাগাদ প্রবল বিস্ফোরণ হয়৷ বাইরে বেরিয়ে তারা দেখেন দাউ দাউ করে জ্বলছে গ্যারাজটি৷ গোটা এলাকাটি কালো ধোয়ায় ঢেকে যায়৷ আগুনের তীব্রতা এতটাই যে শিয়ালদহ থেকে কালো ধোঁয়া দেখা যাচ্ছিল৷ আগুন যাতে ছড়াতে না পারে তার জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ি থেকে গ্যাস সিলিন্ডার, মোবাইল, চার্জার, কেরোসিন, প্লাস্টিক জাতীয় জিনিস ইত্যাদি দাহ্য বস্তু বাইরে বার করে এনে পাশের মাঠে জড়ো করেন৷ ওদিকে ততক্ষণে দমকল এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন৷ ঘন্টাখানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে৷ এলাকাবাসীর দাবি, রাতের অন্ধকারে আগুন লাগলে আরও ক্ষয়ক্ষতি হত৷ আশেপাশের বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়ে যেত৷ এই ঘটনায় ওই তিন পার্টনারকে গ্রেফতার করার দাবি জানিয়েছেন কেউ কেউ৷ তবে দমকল বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চায়নি৷

Advertisement
---
-----