অঙ্গদান করে তিন জনের জীবন বাঁচাল তিন বছরের শিশু

চণ্ডীগড়: নজির গড়ল তিন বছরের শিশু৷ ব্রেন ডেথ হয়েছিল তার, পরিবারের সম্মতিতে সেই শিশুর অঙ্গদান করা হল৷ আর তাতেই জীবন ফিরে পেল আরও তিনজন৷

পাঞ্জাবের কুরালির গত ২০ তারিখ তিন বছরের আনন্দ কুমার সিড়ি দিয়ে পড়ে গুরুতর চোট পায়৷ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সে৷ সঙ্গে সঙ্গে ভরতি করা হয় স্থানীয় হাসপাতালে৷ তারপর অবস্থার অবনতি হওয়ায় চণ্ডীগড়ের পিজিআইতে৷ ২০ আগস্ট তাকে পিজিআইতে ভরতি করা হয়৷ ২৪ আগস্ট তাকে ব্রেন ড্রেথ ঘোষণা করা হয়৷

তারপরেই অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন আনন্দের অভিভাবক, যাতে অন্যের মধ্যেও বেঁচে থাকে ছোট্ট আনন্দ৷ সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মরণাপন্ন তিনজন রোগিকে অঙ্গদান করা হয়৷ কিডনি দেওয়া হয় চার বছরের আরেক শিশু ও পিজিআই হাসপাতালেই ভরতি থাকা ২৪ বছরের এক রোগিকে৷ লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা হয় নয়াদিল্লির ৩বছরের এক শিশুকে৷

পিজিআই হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন প্রতিটি অঙ্গদানের অপারেশনেই সফল হয়েছে৷ ওই তিন মরণাপন্ন রোগিরা বেঁচে যাওয়া সম্ভাবনা অনেকটাই৷ চিকিৎসকেরা প্রত্যেকেই আনন্দের পরিবারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য৷

এর আগে, গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে ১৪ মাসের শিশুর মৃত্যুর পর তার অঙ্গদান করে নজির গড়েন তার মা–বাবা। শিশুটির হৃদপিণ্ড দেওয়া হয় এক তিন বছরের শিশুকে এবং এক ১৫ বছরের ছেলেকে তার যকৃৎ দেওয়া হয়৷ চিকিৎসকরা জানান, ১৪ মাসের শিশু সোমনাথ শাহ সবচেয়ে ছোট দাতা বলে পশ্চিম ভারতে পরিচিত হল।

চিকিৎসকরা জানান, সোমনাথের হৃদপিণ্ড মুম্বইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়৷ নবি মুম্বইয়ের তিন বছরের আরাধ্যা যোগেশকে তা দেওয়া হয়৷ মুম্বইয়ের ফর্টিস হাসপাতালের প্রধান কার্ডিয়াক সার্জেন ডাঃ আনভে মুলে বলেন, ‘‌আরাধ্যা গত দেড় বছর ধরে একটি বিরল হৃদরোগে আক্রান্ত। আরাধ্যার প্রতিস্থাপনের জন্য ছোট হৃৎপিণ্ড খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু আমরা ধন্যবাদ জানাই সুরাটের ১৪ মাসের সোমনাথকে।

----
-----