পাচারে আটক কঙ্কাল গেল শহরের হাসপাতালে

সুভাষ বৈদ্য, কলকাতা: ২০০১ সাল থেকে ২০১৬ সাল- এই ১৫ বছরে বিভিন্ন সময়ে মুর্শিদাবাদ সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে হানা দিয়ে বেশ কয়েকটি মানুষের কঙ্কাল উদ্ধার করে শুল্ক দফতর৷ এই অভিযানে সঙ্গে ছিল বিএসএফ-ও৷

মোট তিরিশটি মানুষের কঙ্কাল আটক করা হয়৷ এই কঙ্কালগুলি বাংলাদেশে পাচার করার আগেই আটক করা হয়৷ কঙ্কালগুলি রাখা ছিল শুল্ক দফতরেই৷

১৯৮৫ সালের একটি আইন অনুযায়ী মানুষের কঙ্কাল ব্যবসায়িক কাজে লাগানো নিষিদ্ধ ছিল৷ এমনকী কঙ্কাল নষ্ট করাও যাবে না বলে নিয়ম জারি রয়েছে৷ এতদিন এই কঙ্কালগুলি নিয়ে শুল্ক দফতর চিন্তায় ছিল৷ কিভাবে কঙ্কালগুলি কাজে লাগানো যায়, ভাবনা চিন্তা চলছিল তা নিয়েই৷ সেই ভাবনা থেকেই শুল্ক দফতর উদ্যোগী হয়ে ওঠে৷

আইন অনুযায়ী কলকাতার বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করে৷ তার ভিত্তিতে শুক্রবার শুল্ক দফতরে হাজির হন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, এনআরএস, এসএসকেএমের অ্যানাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানরা৷

তাদের হাতেই তুলে দেওয়া হয় এই ৩০টি কঙ্কাল৷ এমনকি শুল্ক দফতরের সঙ্গে একটি চুক্তি হয় এইসব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের৷ এই কঙ্কালগুলি শুধুমাত্র ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনার কাজেই ব্যবহার করা যাবে বলে চুক্তিতে বলা হয়৷

কোনওভাবেই ব্যবসায়িক কাজে বাইরে বিক্রি করতে পারবে না হাসপাতালগুলি, সেটা বলে দেওয়া হয় হাসপাতালগুলিকে৷ সেই চুক্তিকে সম্মত হয়েছে এইসব হাসপাতাল৷ প্রতিটি কঙ্কালের ভারতীয় বাজার মূল্য প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা৷ পাচারকারীরা এই কঙ্কাল গুলি বাংলাদেশে পাচার করে প্রতি কঙ্কাল ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পেত৷

কমিশনার অফ কাস্টমস (প্রিভেন্টিভ) পার্থ রায়চৌধুরি জানান, শুল্ক দফতরের অনুমান কঙ্কালগুলি কবর থেকে তুলে তারা পাচার করত বাংলাদেশে৷

Advertisement
---
-----