পশ্চিমবঙ্গের আকাশ থেকে চারটি পাক ফাইটার তাড়িয়ে ছিলেন এই বায়ুসেনা পাইলট

শত্রুপক্ষের চাপে তখন মাটি থেকে মাত্র ৫০ ফুট উঁচুতে ফাইটার জেট ওড়াতে বাধ্য হন ভারতীয় পাইলট। গতি ৬৫০ কিলোমিটার/ ঘণ্টা। উল্টোদিক থেকে এগিয়ে আসছে আমেরিকার তৈরি পাক বিমানবাহিনীর ফাইটার জেট Sabre. ১৯৬৫-র সেপ্টেম্বরে মাসের সেই দিনে কলাইকুন্ডার আকাশে মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যেই ইতিহাস তৈরি করে ফেলেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। আর ‘হিরো’ সেই পাইলট ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট আলফ্রেড কুক। বায়ুসেনার ১৪ স্কোয়াড্রনের বিমান চালক।

তাঁর সঙ্গী বলতে ছিলেন উইংম্যান ফ্লাইং অফিসার এসসি মামগেন। কিছু না ভেবেই শত্রু পাকিস্তানের বিমানের দিকে ছুটে যান পাইলট কুক। বিশ্বের ইতিহাসে মাঝ আকাশে হওয়া লড়াইগুলোর মধ্যে এটা অন্যতম। কুককে এতটাই নিচ দিয়ে বিমান ওড়াতে হচ্ছিল যে একটা সময়ের পর কার্যত নিচে থাকা ঝোপ-জঙ্গলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে যাচ্ছিল তাঁর বিমানের।

পরবর্তীকালে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কুক বলেন, বিপজ্জনক উচ্চতা দিয়ে উড়েও তিনি শত্রু বিমানের দিকে তাক করে ফায়ার করতে শুরু করেন। কাছাকাছি গিয়ে কার্যত এমনই আঘাত করেন যে ধ্বংস হয়ে যায় পাক বিমান। খড়গপুর আইআইটির বাইরে গিয়ে পড়ে ধ্বংসাবশেষ। পরের এয়ারক্রাটকে টার্গেট করতে ফের এগিয়ে যান কুক।

- Advertisement -

এতটাই কাছ দিয়ে বিমানগুলি উড়ছিল যে পাইলটেরা একে অপরের মুখ দেখতে পাচ্ছিলেন। মাঝ আকাশে যে কোনও সময় পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে যেতে পারত যে কোনও সময়। সাদা হেলমেটে লেখা পাক পাইলটের নামও স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলেন কুক। সমানে আঘাত করে যাচ্ছিলেন পাক Sabre ফাইটারটি। একটু একটু করে ভেঙে পড়ছিল বিমানটি অংশ। এরপর ওই পাক বিমান পালিয়ে যায় যুদ্ধক্ষেত্র থেকে। আর ফিরে আসার ক্ষমতা ছিল না। এরপর আরও একটি Sabre. ট্রিগারে চাপ দিতেই থাকেন কুক। কিন্তু কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারে তাঁর সব অস্ত্র খরচ করে ফেলেছেন তিনি। কিন্তু তাড়া করতেই থাকেন শত্রুকে। পালিয়ে যায় সেই বিমানটিও। এরপর আরও একটি উইংম্যানের সাহায্য নিয়ে সেটিকেও তাড়া করে ভারতের আকাশ থেকে বের করে দেন কুক।

কুক এবং মামগেন দু’জনকেই বীর চক্রে ভূষিত করা হয়। পরে অস্ট্রেলিয়া চলে যান কুক। কিন্তু কোনও সাধারণ বিমান আর জীবনে চালাননি তিনি। কারণ, মাটি থেকে ১০ ফুট উপরে হকার হান্টার চালানোর অভিজ্ঞতা আর কোনোদিন হওয়া সম্ভব ছিল না, তিনি জানতেন।

Advertisement ---
---
-----