মুক্তিযুদ্ধের পর পেরিয়েছে ৪৭বছর! কিন্তু এই গ্রাম আজও ‘পরিচয়-হীন’

নয়াদিল্লি: ১৯৭১সাল৷ পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের সশস্ত্র সংগ্রাম৷ বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ৷ সেই যুদ্ধে পাকিস্তানের পাঁচটি গ্রাম সীমানা পেরিয়ে ভারতের অধীনে চলে আসে৷ চারটি গ্রাম ভারতের অংশ হিসেবে নথিভুক্ত হলেও ত্যায়কাশি গ্রামটি আজও নথিভুক্ত হয়নি৷ ওই গ্রামের ৫০০জনের আজও নেই কোনও পরিচয়পত্র৷

১৯৭১র মুক্তিযুদ্ধের পর কেটে গিয়েছে ৪৭বছর৷ কিন্তু আজও এই গ্রামটিকে ভারতের অংশ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি৷ নেই কোনও আইনী কাগজপত্রও৷ এই দেশের জনসাধারণ হয়েও কোনও পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ তারা৷ তবে, ত্যায়কাশি গ্রামের গ্রামবাসীরা কোনও পরিচয়পত্র কিংবা জমির দলিলপত্র না পেলেও তুরুক্কুক, চুলাঙ্কা, টাকরি এবং থ্যাং গ্রামের বাসিন্দারা তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেয়ে গিয়েছেন৷

তবে, এই সমস্ত গ্রামগুলির পাশাপাশি আরও একটি গ্রাম রয়েছে৷ যেটি ১৯৭১র মুক্তিযুদ্ধের পর পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আওতায় পড়ে গিয়েছে৷ এই গ্রামের বাসিন্দারা সহজে তাদের পরিচয়পত্র পান না৷ আদালত থেকে এভিডেভিট জমা দেওয়ার পরই তারা এই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ার ছাড়পত্র পান৷ তবে, এই এভিডেভিট মারফত তাদের প্রমাণ করতে হয় যে তারা ১৯৭১ অবধি পাকিস্তানের বাসিন্দা ছিলেন৷ তারপর মুক্তিযুদ্ধের পর তারা ভারতের বাসিন্দা৷

- Advertisement -

অপরদিকে, ত্যায়কাশি গ্রামের কোনও জমিতে রেভিনিউ রেকর্ডও নেই৷ তাই এই গ্রামে জমি কেনাবেচা করাও কার্যত অসম্ভব৷ এই গ্রামটি লাইন অফ কন্ট্রোলে অবস্থিত৷ সেই কারণে ১৯৯৯সালের কারগিল যুদ্ধে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় গ্রামটি৷ পাকিস্তানের দিক থেকে একের পর এক মর্টার শেল এসে পড়ে এই গ্রামে৷ যার জেরে সেই সময়ে গ্রামবাসীদের সেই সময় এলাকা খালি করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়৷ তবে, কারগিল যুদ্ধের পর সেই এলাকা আবার নতুন করে গড়তে গিয়ে আর্থিক দিক থেকে বাধাপ্রাপ্ত হতে হয়৷ জানিয়েছেন ওই গ্রামের এক বাসিন্দা৷

গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, সরকার এই বিষয়টিতে আলোকপাত করবে৷ পাশাপাশি এদের সমস্ত সমাধানে গ্রামবাসীদের পাশে দাঁড়াবে সরকার৷

Advertisement ---
---
-----