গুজরাতের ৫৭ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই গড়ে দিয়েছে ফারাক

আমেদাবাদ: সকাল থেকে পেন্ডুলামের মতো দুলছিল ভোটের ফলাফল৷ ঠিক যেন টি-২০ ম্যাচ৷ এই বিজেপির পক্ষে পাল্লা ভারী, তো পরক্ষণেই অ্যাডভান্টেজ কংগ্রেস৷ আর সেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই সন্ধ্যায় যখন শেষ হয়, তখন দেখা যায় বিজেপি জিতলেও খারাপ ফল হয়নি কংগ্রেসের৷ তারাও নরেন্দ্র মোদীর দলের ঘাড়ের উপরই নিঃশ্বাস ফেলছে৷ তাই মঙ্গলবার রাহুল গান্ধীও বলেছেন, ‘‘হেরে গিয়েছি৷ কিন্তু জিততেও পারতাম৷’’

রাহুলের দাবি একেবারেই অমূলক নয়৷ অন্তত পরিসংখ্যান তাই বলছে৷ ১৮২ আসনের গুজরাত বিধানসভার ৫৭ আসনে লড়াই হয়েছে সমানে-সমানে৷ মাত্র ৫ শতাংশ বা তার কম ভোট ফারাক গড়ে দিয়েছে জয় পরাজয়ের মধ্যে৷ তার মধ্যে ২৯টি আসনে আবার ফলাফল হয়েছে মাত্র ২ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে৷

আরও পড়ুন: বিজেপির আবার গুজরাত জয়ের ৭টি কারণ

- Advertisement -

যদিও এই পরিসংখ্যান কোনওভাবেই একতরফা বিজেপি বিরোধী নয়৷ বরং বিজেপি ও কংগ্রেস তুল্যমূল্যভাবে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে৷ যে ৫৭টি আসনে ৫ শতাংশ বা তার কম ভোটে ফলাফল হয়েছে, তার মধ্যে ৩০টি আসনে কংগ্রেস জিতেছে৷ আর ২৫টি আসনে জিতেছে বিজেপি৷ বাকি দু’টি গিয়েছে অন্যান্যদের দখলে৷ ফলে এই আসনগুলিতে ফলাফলের হেরফেরে বিজেপিরও লাভ হতে পারত৷ ভোটের আগে যে লক্ষ্য দলের সামনে বেঁধে দিয়েছিলেন মোদী-অমিত জুটি৷ সেই লক্ষ্য অনেকটা হলেও পূরণ হতে পারত৷ অর্থাৎ ১৩০-এর বেশি আসন জেতা সম্ভব হতে পারত বিজেপির পক্ষে৷

আবার উল্টোদিকে পরিসংখ্যান দেখে রাহুলের মন্তব্যকেও অগ্রাহ্য করা যায় না৷ কারণ, যে ২৫টি আসনে বিজেপি ৫ শতাংশ বা তার কম ভোট পেয়ে জিতেছে, ওই আসনগুলি কংগ্রেসও পেতে পারত৷ সেক্ষেত্রে মুখ থুবড়ে পড়ত গুজরাত মডেল৷ নিজভূমেই পরাজয় স্বীকার করতে হত নরেন্দ্র মোদীকে৷ ২২ বছর পর গুজরাতের ক্ষমতায় ফিরতে পারত কংগ্রেস৷ তাহলে সভাপতি হওয়ার পর সেটাই হয়তো রাহুল গান্ধীর সবচেয়ে বড় সাফল্য৷ যে সাফল্যের উপর ভর করে নরেন্দ্র মোদীকে ২০১৯ সালে হারাতে নতুন উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারতেন৷

আরও পড়ুন: এক নীলছবিতেই ফিকে হল হার্দিক

শেষপর্যন্ত তা হয়নি বটে৷ কিন্তু আগামিদিনে এই ব্যবধান আরও কমলে দু’পক্ষের যে কোনও কারও বিপদ হতে পারে৷ ২০১৯-এ কংগ্রেস সফল হতে পারে৷ আবার তাদের ব্যর্থতার ধারা বজায় থাকতে পারে৷

Advertisement ---
---
-----