দু’দিনে ছয় লক্ষ কিউসেক জল ছাড়ল ডিভিসি, রাজ্যে মৃত বেড়ে ২৮

কলকাতা: রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে৷ রাজ্যের শত আপত্তি উড়িয়ে হলুদ সতর্কতা জারি করে আজ শুক্রবার নতুন করে দুই দফায় প্রায় দেড় লক্ষ কিউসেক জল ছাড়ল ডিভিসি৷ গতকাল বৃহস্পতিবার লাল সতর্কতা জারি করে দুই দফায় সাড়ে তিন লক্ষ জল ছাড়তে বাধ্য হয় ডিভিসি৷ গত দিনে ছয় লক্ষ কিউসেক জল ছাড়ায় দক্ষিণবঙ্গের বন্যা পরিস্থি আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে৷ বন্যা কবলে পড়ে ইতিমধ্যেই ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নবান্ন তরফে জানানো হয়েছে৷ দক্ষিণবঙ্গের বন্যার প্রায় ২২ লক্ষ মানুষ ঘর ছাড়া৷ মাথার উপরে আশ্রয় হারিয়ে ত্রাণ শিবিরে ঠাঁই হয়েছে৷ তবে, বন্যা পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর আকার নিলেও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণের এখনও ঘোষণা করে সরকার৷ স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হলেও তা, পর্যাপ্ত নয়৷

প্রায় এক সপ্তাহ ঘরা থাকার থাকায় ধীরে ধীরে খাদ্যের আকাল দেখা গিয়েছে৷ পাণিয় জলের সঙ্কট চূড়ান্ত আকার নিয়েছে৷ ফলে, জলবাহিত রোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে৷ পর্যাপ্ত ত্রাণ বণ্টন না হওয়ার জেরে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে৷ ঘাটালে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাসুসেনার চপার নামানোর হয়েছে৷ আকাশপথে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে নামছে বাসুসেনা৷ নেমেছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল৷
ঘাটালের পাশাপাশি, বাঁকুড়া জেলার বন্যা পরিস্থি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এখনও আটকে বহু মানুষ৷ কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর বন্যার ভ্রুকুটি থেকে আপাতত মুক্তি পেলো বাঁকুড়া৷ শিলাবতী, কংসাবতী, দ্বারকেশর, কুমারী, শালী সহ প্রায় সব ক’টি নদী থেকেই জলস্তর বিপদসীমার অনেক নিচেই নামছে৷ তবে ডিভিসি থেকে জল ছাড়ার কারণে ইন্দাস এলাকার দামোদর নদীতে জলের পরিমাণ একটু বেশি৷ জেলার ত্রাণ শিবির গুলি থেকে বন্যার্তরা বাড়ি ফিরে গেছেন৷ তবে চাষের জমি আর অনেক মাটির বাড়ি ধ্বসে পড়ার ঘটনায় উদ্বিগ্ন তারা৷

নদীগুলি থেকে বন্যার জল নেমে গেলেও জেলায় যান-চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কে রতনপুরের কাছে সেতু সংস্কারের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে৷ জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানান, এবার বন্যাদুর্গতদের সাহায্যের পাশাপাশি জেলার ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা গুলি সংস্কারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে৷ যতদ্রুত সম্ভব রাস্তা গুলি সংস্কারের কাজ শেষ করা হবে৷

- Advertisement -

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ মহকুমার অবিরাম বৃষ্টিতে বাড়ির পাশেই জমা জলে ডুবে মৃত্যু হয় বছর তিনেকের এক শিশুর৷ মৃতের নাম শুভজিৎ দাস৷ বনগাঁ থানার বনবিহারী এলাকার ঘটনা৷ মৃতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ির উঠোনে আর পাঁচটি শিশুর সাথে খেলছিল ওই শিশুটি৷ কয়েক দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টিতে উঠানের পাশেই গর্তে জমে যায় জল৷ খেলতে খেলতে ওই শিশুটি ডোবায় জলে পড়ে যায়৷ মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায় সে৷ উদ্ধার করে ওই শিশুটিকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়৷ এলাকার মানুষের অভিযোগ উপযুক্ত নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় একটু বৃষ্টি হলেই জমে যায় জল৷ পুরসভা আগে থেকে ব্যবস্থা নিলে এই দুর্ঘটনা ঘটত না৷ জলের ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয়দের৷

Advertisement ---
-----