বীর যোদ্ধার স্মরণসভায় জঙ্গি হানায় মৃত সাত

কাবুল: আত্মঘাতী জঙি হানায় প্রাণ গেল সাত জনের। একই সঙ্গে জখম হয়েছেন আরও ২৫ জন। রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে আফগানিস্তানের রাজধানী শহর কাবুলে।

এদিন ছিল আফগান রাজনীতিবিদ এবং সামরিক ব্যক্তি আহমেদ শাহ মাসুদের ১৭ জন মৃত্যুবার্ষিকী। সেই উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল কাবুলে। সেই অনুষ্ঠানস্থলের অদূরেই ঘটে বিস্ফোরণ।

আরও পড়ুন- ‘পাকিস্তানের বন্ধুত্বপূর্ণ ডাকে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া উচিত ভারতের’

- Advertisement -

প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুসারে, আত্মঘাতী জঙ্গি রাস্তার মাঝেই একটি দোকানের সামনে আচমকা বিস্ফোরণ ঘটায়। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় দোকানটি। জখম হন দোকানে থাকা ব্যক্তিটিও। এছাড়াও রাস্তায় গাড়িতে সওয়ার দুই ব্যক্তিও জখম হন।

কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। যদিও এই হামলার পিছনে আল কায়েদার হাত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তালিবানদের জড়িয়ে থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ আহমেদ শাহ মাসুদের সঙ্গে বিরোধ ছিল তালিবানদের। এদিন আহত এবং নিহতদের তালিকায় অধিকাংশই ওই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন।

আহমেদ শাহ মাসুদ সোভিয়েত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং একই সময়ের গৃহযুদ্ধের বছরগুলোতে একজন শক্তিশালী সামরিক কমান্ডার দায়িত্বপালন করেন। তিনি কমিউনিস্ট বিরোধী মুসলিম আন্দোলনের ইসলামপন্থি আফগান নেতা বোরহানউদ্দিন রব্বানীর সান্নিধ্যে আসেন। তিনি মোহাম্মদ দাউদ খান সরকারের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সমর্থিত ব্যর্থ বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

আরও পড়ুন- একধাক্কায় তেলের দাম ২.৫০ টাকা কমাল এই রাজ্যের সরকার

১৯৭৯ সালে সোভিয়েত দখদারিত্বের বিরুদ্ধে তার ভুমিকার জন্য তার অণুসারীরা তাকে “পাঞ্জশিরের সিংহ” নামে ডাকা শুরু করে। ১৯৯২ সালের পর রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ সরকারকে প্রতিস্থাপনের জাতিসংঘ পরিকল্পনায় তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। ফলে তাকে পেশোওয়ারের একোর্ডের মাধ্যমে তাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়, যা ছিল কমিউন্সিট পরবর্তী ইসলামিক আফগানিস্তানে শক্তি ও শান্তির সমঝোতা চুক্তি।

আরও পড়ুন- সম্পর্ক মজবুত করতেই কি পাকিস্তান সফরে চিনা বিদেশমন্ত্রী?

টুইন টাওয়ারে হামলার মাত্র দুই দিন আগে ২০০১ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর উত্তর আফগানিস্তানর তাখার প্রদেশে খাজা বাহাউদ্দিন এলাকায় আত্মঘাতি হামলায় আহমদ শাহ মাসউদ নিহত হন। এ হামলার জন্যে আল-কায়েদাকে অভিযুক্ত করা হয়। কারণ ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ ছিলো। এর আগে বহুবার কেজিবি, আইএসআই আফগান কমিউনিস্ট কেএইচএডি, তালেবান ও আল-কায়েদা তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের সেসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

Advertisement ---
-----