মুকুল রায়ের সঙ্গে যেতে প্রস্তুত আদি তৃণমূলের ৭০% নেতা-কর্মী

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: আদি তৃণমূল কংগ্রেসের ৭০ শতাংশ নেতা-কর্মীই এখন ঘাসফুল শিবিরের মাথা ব্যাথার কারণ হিসাবে দেখা দিয়েছে৷ কারণ, ওই সব নেতা-কর্মী তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে মুকুল রায়ের সঙ্গে যেতে প্রস্তুত৷

কেন? কারণ, দলে গুরুত্ব নেই৷ যার জেরে, তৃণমূল কংগ্রেসের আদি শিবিরের ওই ৭০ শতাংশ নেতা-কর্মী বিক্ষুব্ধ হয়ে রয়েছেন৷ কারণ, তাঁরা কাজ করতে চাইছেন৷ অথচ, দলের নব্য শিবিরের ‘দাপটে’র জন্য তাঁদের কোনও দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না৷

এবং, খোদ তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রেই এমনই জানা গিয়েছে, ঘাসফুলের আদি অংশের ওই সব নেতা-কর্মী এখন মুকুল রায়ের সঙ্গে যেতে প্রস্তুত হয়ে রয়েছেন৷ তবে, শুধুমাত্র তাই নয়৷ পৃথক রাজনৈতিক দল হোক অথবা বিজেপিতে যোগদান, যেমনই হোক না কেন, তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে মুকুল রায়ের সঙ্গে কোন কোন নেতা-কর্মী যেতে চাইছেন, সেই সব বিষয়েও ঘাসফুল শিবিরের বিভিন্ন অংশে এখন জোরদার চর্চা চলছে৷

- Advertisement -

ঘাসফুল শিবিরের এক নেতার কথায়, ‘‘মুকুল রায় এ বার তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়েই দেবেন৷ কারণ, কীভাবে তাঁকে দলে ব্রাত্য করে দেওয়া হচ্ছে, সেই বিষয়টি তাঁর বুঝতে অসুবিধা হওয়ার নয়৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘মনে হচ্ছে, মুকুল রায় সরাসরি বিজেপিতেই যোগদান করবেন৷ দলে গুরুত্ব নেই বলে আদি তৃণমূল কংগ্রেসের ৭০ শতাংশ নেতা-কর্মী ক্ষুব্ধ হয়ে রয়েছেন৷ তাঁরা এখন মুকুল রায়ের সঙ্গে যেতে প্রস্তুত৷ মুকুল রায়ের সঙ্গে তাঁদের অনেকের ভালো সম্পর্ক রয়েছে৷’’

শুধুমাত্র এমনও নয়৷ ওই নেতার কথায়, ‘‘সারদা হোক অথবা নারদকাণ্ড৷ মুকুল রায়ের নামে যে ধরনের অভিযোগ উঠেছে, সে সব বিষয়ে বোঝেন আদি তৃণমূল কংগ্রেসের ওই ৭০ শতাংশ নেতা-কর্মী৷ কারণ, তাঁরা বোঝেন যে, দল চালানোর জন্য টাকার প্রয়োজন৷ কিন্তু, মুকুল রায় সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত৷ তিনি যে তাঁর স্বার্থের কারণে কিছু করেননি, সেই বিষয়টি আদি তৃণমূল কংগ্রেসের ওই সব নেতা-কর্মী বোঝেন৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সারদা এবং নারদকাণ্ডে অভিযুক্ত রাজ্যের প্রাক্তন এক মন্ত্রীর ছেলের বিয়েতে যে জৌলুস দেখা গিয়েছে, মুকুল রায়ের ছেলের বিয়েতে কিন্তু তেমন দেখা যায়নি৷’’

আদি তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ ওই সব নেতা-কর্মীর মধ্যে কে বা কারা মুকুল রায়ের সঙ্গে যেতে প্রস্তুত হয়ে রয়েছেন, সেই বিষয়ে ঘাসফুল শিবিরের বিভিন্ন অংশে ধন্দও দেখা দিয়েছে৷ অনেকেই আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় মুকুল রায়ের পক্ষে মন্তব্যও পেশ করছেন৷ ঘাসফুল শিবিরের এক নেতার কথায়, ‘‘আদি তৃণমূল কংগ্রেসের বহু নেতা-কর্মী এখন ধন্দে রয়েছেন৷ আর, নব্য তৃণমূল কংগ্রেসের বহু নেতা-কর্মী ধান্দায় রয়েছেন৷ কারণ, ক্ষমতা থেকে দল সরে গেলে তাঁরা আবার রং বদলে ফেলবেন৷’’

এ দিকে, ঘাসফুলের আদি অংশের ৭০ শতাংশ নেতা-কর্মী বিক্ষুব্ধ এবং এই বিষয়ে যে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব ওয়াকিবহাল নন, তেমনটা মনে করেন না খোদ ওই সব নেতা-কর্মীর অনেকেই৷ কিন্তু, তাঁরা যাতে কাজ করতে পারেন দলের জন্য, সেই বিষয়ে নেতৃত্বের তরফে সেভাবে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলেও তাঁরা মনে করেন৷ তবে, ঘাসফুল শিবিরের বিভিন্ন অংশে এখন এমন চর্চাও চলছে, পুজোর পরে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গ ত্যাগের কথা ঘোষণা করতে পারেন মুকুল রায়৷ কারণ, আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচন৷ এবং, ওই নির্বাচনের জেরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তৎপরতা বৃদ্ধির জন্য পুজোর পরের সময়ই আদর্শ৷

Advertisement
---