ভূমিকম্পে তছনছ ইন্দোনেশিয়ায় বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

জাকার্তা: ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ইন্দোনেশিয়া৷ ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা ৯১ ছাড়িয়েছে৷ এক সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে দুবার ভূমিকম্পে কাঁপল এই দ্বীপ রাষ্ট্র৷ ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৭৷
পর্যটন দ্বীপ বালি ও লোম্বকে কমপক্ষে ৮২ জন মারা গিয়েছেন৷ আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে রবিবারে ওই ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷

প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা ইতিমধ্যেই উদ্ধার কাজে নেমে পড়েছেন৷ দফতরের মুখপাত্র সুতোপো পুরউয়ো নুগরোহো বলেছেন, মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯১৷ আহত হয়েছেন আরও শতাধিক। এর আগে অবশ্য ৩৯ জনের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল৷ তবে মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে৷ নুগরোহো বলেন, হাজার হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বসে পড়া বাড়িগুলির তলায় চাপা পড়ে প্রচুর মানুষ মৃত্যু হয়েছে৷

পড়ুন: প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল এলাকা, জারি সুনামি সতর্কতা

- Advertisement -

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা বা ইউএসজিএস জানায়, শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পের পর ৫ দশমিক ৪ মাত্রা থেকে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার আরও বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়৷ প্রথমে এই ভূমিকম্পের পরে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও, স্থানীয় প্রশাসনের দাবি পরে তা তুলে নেওয়া হয়৷

ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকম্প বিধ্বস্ত লোম্বক দ্বীপের অদূরেই রয়েছে বালি। ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে সেখানকার বাসিন্দারা ছুটোছুটি করছেন। রবিবারের মূল কম্পনের পর অন্তত ১৩০ বার আফটার শকে কেঁপে উঠেছে দ্বীপ। ক্রমশ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে৷ পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় লোম্বক দ্বীপে এক সপ্তাহের মধ্যে এটি দ্বিতীয় ভয়াবহ ভূমিকম্প। এর আগে ২৯ জুলাই ৬ দশমিক ৪ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল লোম্বক দ্বীপ। তখন ১২ জনেরও বেশি মানুষ মারা যান৷

গোটা দ্বীপের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন কর দেওয়া হয়েছে৷ ল্যান্ডলাইন ও মোবাইল ফোনের সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে৷ পর্যটকদের ঘোরাফেরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে৷ হাসপাতালগুলি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায়, বহু মানুষকে হাসপাতালের বাইরেই চিকিৎসা করাতে হয়েছে৷ মূল শহর মাতারাম ও দ্বীপের অন্যান্য অঞ্চলগুলি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে৷

যে সব রোগীরা হাসপাতালগুলিতে ভরতি ছিলেন, তাদের আশ্রয় শিবির বা তাঁবুতে নিয়ে আসা হয়েছে৷ উত্তর লোম্বোক জেলার প্রধান নাজমুল আখইয়ার জানিয়েছেন বেশ কিছু মসজিদ ভেঙে সেখানে প্রার্থনাকারীরা আটকে রয়েছেন৷ ৮০ শতাংশের বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে৷

Advertisement
-----