জয়ের জোয়ারেও পরাজিত মমতার মন্ত্রীরা

কলকাতা: তৃণমূলের ভরা জোয়ারেও জয় অধরা থেকে গেগেলেন বেশকিছু মন্ত্রীরা। এদের মধ্যে একাধিক হেভিওয়েট ব্যক্তিও আছেন। ঘটনাচক্রে এদেরমধ্যে একজন ছাড়া আর কারোরই সারদা বা নারদ কাণ্ডে নাম জড়ায়নি। তবুও জোট প্রার্থীদের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রীসভার এই সদস্যদের হারের কারণ নিয়ে প্রশ্ন জল্পনা থাকছেই।

হেরে যাওয়া মন্ত্রীদের মধ্যে প্রথমেই যে দু’জনের নাম উঠে আসছে তাঁরা হলেন মালদহ জেলার মানিকচক কেন্দ্রের প্রার্থী সাবিত্রী মিত্র এবং ইংরেজবাজার কেন্দ্রের প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। প্রথমজন ছিলেন নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী এবং কৃষ্ণেন্দুবাবু ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর্যটন মন্ত্রী। একই দলের সদস্য হলেও যুযুধান এই দুই মন্ত্রীর মধ্যেকার বিবাদ ছিল মালদহের ‘ওপেন সিক্রেট’। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকে একাধিকবার এই বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করা হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। সরকারি অনুষ্ঠানে পরস্পরের বিরুদ্ধে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়তেও দেখা গিয়েছে এদেরকে। ২০১১ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেধে লড়াই করে তৃণমূল ক্ষমতায় এলেও পরে ভেঙে যায় সেই জোট। কংগ্রেস বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী ২০১৩ সালে তৃণমূলে যোগ দেন। কংগ্রেস থেকে আসা বিধায়ককে নিয়ে বিড়ম্বনা শুরু হয়েছিল তৃণমূলের অন্দরে। বারবার প্রকাশ্যে এসেছিল সাবিত্রী কৃষ্ণেন্দু বিবাদ। এর জেরেই আসন খোয়াতে হল একইদলের যুযুধান দুই মন্ত্রীকে। সেইসঙ্গে এদের কোন্দলের কারণেই মালদহ জেলায় তৃণমূল খাতা খুলতে পারেনি বলেই গুঞ্জন ছড়িয়েছে তৃণমূলের অন্দরে।

উক্ত দু’জন ছাড়াও তৃণমূলের আরও সাত জন মন্ত্রী জিততে পারেননি। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী তথা যাদবপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মণীশ গুপ্ত। সিপিএমের হেভিওয়েট সুজন চক্রবর্তী বিরুদ্ধে থাকার কারণেই তিনি জয়ের মুখ দেখতে পাননি বলে মনে করছেন অনেকে।  উত্তর দমদম কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য প্রায় একই কারণে হেরে গিয়েছেন সিপিএমের তন্ময় ভট্টাচার্যের কাছে। তিনি রাজ্যের আইন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন। বাগদা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী উপেন বিশ্বাস ছিলেন অনগ্রসর শ্রেণী উন্নয়ন মন্ত্রী কংগ্রেসের দুলাল বরের কাছে পরাস্ত হয়েছেন তিনি। বালুরঘাট কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্তী হেরে গিয়েছেন সিপিএমের বিশ্বনাথ চৌধুরীর কাছে। এবং ইসলামপুর কেন্দ্রে কংগ্রেসের কানহাইয়ালাল আগরওয়ালের কাছে হেরে গিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রী আব্দুল করিম চৌধুরী। এছাড়াও কামারহাটি কেন্দ্রে সিপিএমের মানস মুখোপাধ্যায়ের কাছে হেরে গিয়েছেন প্রাক্তন পরিবহনমন্ত্রী মদন মিত্র। সারদা কাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে তিনি জেলে রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেন।

Advertisement
---