দেওর খুনে অভিযুক্ত বৌদি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : উনিশ বছরের বৌদির হাতে খুন হল আট বছরের দেওর৷ অভিযোগ, বাথরুমে জলের ড্রামের মধ্যে আটকে রেখে খুন করা হয়েছে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রিজু দাসকে৷ প্রতিদিনের মত ২৯শে জুন খেলা শেষে বিকালে বাড়ির বাথরুমে জলের ড্রামের মধ্যে স্নান করছিল রিজু৷ তখনও সে জানতো না এটাই তার শেষ স্নান৷

ড্রামের মধ্যে স্নান করাটা রিজুর রোজকার রুটিনের মধ্যে পড়ত৷ রিজুর দাদা সুব্রত দাস ছ’মাস আগে বিয়ে করেন৷ লেক মার্কেট এলাকার প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সুব্রতর বিয়ে হয়৷ প্রিয়াঙ্কার এটা দ্বিতীয় বিয়ে৷ আগের স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে প্রিয়াঙ্কা সুব্রতকে বিয়ে করেন৷ তাই সুব্রতর বাবা দুখুরাম ও মা ডলি দাস প্রথমে এই বিয়ে মেনে নেননি৷ পরে অবশ্য তাঁরা মেনে নেন৷ এরপর থেকে প্রিয়াঙ্কা-সুব্রত মেটিয়াবুরুজ থানা এলাকার পাহাড়পুর রোডে বাবা- মার কাছেই থাকতেন৷

আরও পড়ুন: Big Breaking: পাঁচ অমরনাথযাত্রীর মৃত্যু

- Advertisement -

রাজু ছিল বাড়ির ছোট ছেলে৷ তাই সবাই তাকে খুব ভালোবাসত৷ অভিযোগ, একমাত্র প্রিয়াঙ্কা ছাড়া৷ বিশেষ করে রাজুর বাবা রাজুকে খুব ভালোবাসতেন৷ এছাড়া বাড়ির ছোট ছেলে যাতে বড় হয়ে ভালভাবে পড়াশোনা করতে পারে তার জন্য রাজুর নামে একটি এলআইসি করা হয়েছে৷

শ্বশুর-শাশুড়ির এই আচরণ প্রিয়াঙ্কা মোটেই মেনে নিতে পারছিলেন না৷ প্রিয়াঙ্কার ধারনা বাড়ির সমস্ত সম্পত্তি ,টাকা-পয়সা কিছুই তাঁর স্বামী পাবেন না৷ সব ওই ছোট ছেলেই ভোগ করবে৷ এই ভাবনা থেকেই বৌদি একরত্তি দেওরকে ঈর্ষা করতো৷

আরও পড়ুন: একটা `চোর’ এবং তাঁর ‘পকেটমারি’-র গল্প

অভিযোগ, শুক্রবার দেওর বাথরুমে জলের ড্রামের মধ্যে যখন ডুব দেয় বৌদি তখন ড্রামের ঢাকনা বন্ধ করে দেয়৷ মৃত্যু নিশ্চিত হলে বৌদি ড্রামের ঢাকনা খুলে নিজের ঘরে গিয়ে ল্যাপটপে গান শুনতে থাকেন৷ এদিকে মা ঘুম থেকে উঠে ছেলেকে খুঁজতে খুঁজতে বাথরুমে গিয়ে দেখেন ছেলে বাথরুমে জলের ড্রামের মধ্যে পড়ে আছে৷

হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষনা করা হয়৷ তিনদিন পর নিজের স্বামীর কাছে প্রিয়াঙ্কা সব কথা বলেন৷ স্ত্রীর কথা শুনে সুব্রত যেন আকাশ থেকে পড়েন৷ এতটা অমানবিকতা মেনে নিতে পারেননি স্বামীও৷ স্ত্রীকে নিয়ে সোজা থানায় চলে যান৷ পুলিশের কাছে প্রিয়াঙ্কাও খুনের কথা স্বীকার করে৷ এরপর খুনের অভিযোগে প্রিয়াঙ্কাকে মেটিয়াবুরুজ থানার পুলিশ গ্রেফতার করে৷

আরও পড়ুন: হাট বসেছে মঙ্গলবারে, বর্ধমানে কৃষিবাজারে

Advertisement ---
---
-----