‘উন্মুক্ত ভালবাসা’র ছবি তুলে হেনস্থার শিকার বাংলাদেশি চিত্রগ্রাহক

ঢাকা: ভালবাসা হোক উন্মুক্ত। এই ক্যাপশনেই বৃষ্টিভেজা এক চুম্বনের ছবি পোস্ট করেছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্র সাংবাদিক জীবন আহমেদ। আর সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেই হেনস্থার শিকার হতে হল তাঁকে। তাঁর চাকরিটাও হয়ত চলে যাবে এই ছবির জন্য।

ঢাকা ইউনিভার্সিটির টিচার অ্যান্ড স্টুডেন্ট সেন্টারের সামনে ওই ছবিটি তোলা হয়েছে। জীবন তাঁর ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছিলেন ছবিটি। এরপরই ছবির ‘অশ্লীলতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন অনেকে। চিত্রগ্রাহকের কথায়, ‘কারও কাছে এই ছবি ভালবাসার, কারও কাছে অশ্লীলতার।’

তবে এই ছবি প্রকাশ করার পর অনেকেই বলেছেন, এই ছবির মাধ্যমে নাকি ধর্ষণের মত ঘটনাকে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে। এসব দেখেই নাকি মহিলারা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন।

- Advertisement -

অনেকে বলছে, ওই কাপলের ব্যক্তিগত জীবন প্রকাশ্যে এনে দিয়েছেন জীবন। কিন্তু তিনি জানিয়েছেন, তাঁরা কোনও আপত্তি করেননি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিটি ভাইরাল হতেই জীবনের সঙ্গে বচসা হয় তাঁর সহকর্মী-বন্ধুদেরও। এমনকী ‘পূর্ব পশ্চিম’ নামে যে ওয়েবসাইটে তিনি কাজ করেন, সেখানকার অন্যান্য কর্মীরাও আক্রমণ করেছে জীবনকে। তবে তিনিকোনও অভিযোগ দায়ের করেননি। কারণ তিনি জানেন, এতে খুব একটা লাভ নেই। আর সহকর্মী? তাদের সঙ্গে ভবিষ্যতেও হয়ত কাজ করতে হবে, সেই ভেবে প্রতিবাদ করেননি জীবন আহমেদ।

কোনও কারণ ছাড়াই অফিস তাঁকে জানিয়েছে যে আর কাজ করতে হবে না। যদিও সংস্থার তরফে বলা হয়েছে যে, কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। তবু, চাকরিটা আর থাকবে না বলেও ধরে নেওয়া যায়।

তবে এমন অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য প্রথম নয়। ২০১৫ তে ব্লগার অভিজিত রায়ের মৃত্যুর পরও একই ঘটনা ঘটেছিল তাঁর সঙ্গে। অভিজিতের মৃত্যুর পর ঘটনাস্থলের ছবি তুলে এনেছিলেন জীবন আহমেদ। শুধু তাই নয়, অভিজিত ও তাঁর স্ত্রী রফিদা বন্যাকে নিয়ে গিয়েছিলেন হাসপাতালে। সেবারও সহকর্মীদের নিন্দার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। সেইসময়ই তাঁকে ছাঁটাই করা হয়েছিল।

তবে কি ছবি তোলা ছেড়ে দেবেন জীবন? কখনই না। তাঁর মতে, সব পেশাতেই কিছু নেতিবাচক দিক আছে। তার মানে এই নয় যে পেশা ছেড়ে দিতে হবে।

Advertisement ---
-----