দেবযানী সরকার, কলকাতা: হুমায়ুন কবীরের পর এবার নীলাঞ্জন রায়৷ ২১শে জুলাই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন প্রদেশ কংগ্রসে সভাপতি অধীর চৌধুরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ট এই কংগ্রেস নেতা৷ দলবদলের আগে নীলাঞ্জন রায়ের বক্তব্য, অধীর চৌধুরী তাঁর নেতা আছেন, আগামী দিনেও থাকবেন৷ নীলাঞ্জন রায়ের বিজেপিতে যোগদানের পর অধীর চৌধুরীর বিজেপি যোগের জল্পনা আরও বাড়বে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

একমাসও হয়নি৷ মুর্শিদাবাদের প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক, একদা তৃণমূলের মন্ত্রীসভার সদস্য হুমায়ুন কবীর বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন৷ প্রদেশ কংগ্রেসের সেই ঘা শুকোতে না শুকোতেই কয়েকঘন্টার মধ্যে ফের বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়তে চলেছে ‘অধীর চৌধুরী অ্যান্ড কোং’৷ সূত্রের খবর বলছে, ২১ শে জুলাই ধর্মতলায় তৃণমূলের মঞ্চে যখন মুর্শিদাবাদের একাধিক কংগ্রেস নেতা ঘাসফুলের ঝান্ডা হাতে তুলে নেবেন, তখন দলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির ‘ডান হাত’ বলে পরিচিত নীলাঞ্জন রায় বালুরঘাটে পদ্মফুলের ঝান্ডা হাতে নেবেন৷

Advertisement

এতদিন বালুরঘাট কংগ্রেসের জেলা সভাপতি ছিলেন নীলাঞ্জন রায়৷ অধীর চৌধুরী প্রদেশ সভাপতি হওয়ার পর বিধানভবনেও তার দাপট ছিল৷ নীলাঞ্জন রায় জানিয়েছেন, শনিবার তাঁর সঙ্গে প্রায় এক হাজার কংগ্রেস কর্মী-সমর্থক বিজেপিতে যোগ দেবেন৷

কংগ্রেস ছাড়ছেন কেন? উত্তরে নীলাঞ্জন বলেন, “অধীর চৌধুরীই আমার নেতা৷ ভবিষ্যতেও তিনি আমার নেতা থাকবেন৷ এরাজ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে যদি সবচেয়ে বেশি কেউ লড়াই করেন তাহলে সেটা অধীর চৌধুরীই৷ কিন্তু সর্বভারতীয় কংগ্রেসের কিছু সিদ্ধান্তের জন্য পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিকল্প তৈরি হচ্ছে না৷ তার দায় অধীর চৌধুরীর নয়৷ তার ব্যর্থতা সর্বভারতীয় কংগ্রেসের৷ সেই জায়গা থেকে তৃণমূলের বিকল্প হিসেবে মানুষ বিজেপিকে মর্যাদা দিচ্ছে৷ আমরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়তে চাই৷ বিজেপি একটা প্ল্যাটফর্ম৷ সেই কারণেই আমরা বিজেপিতে যাচ্ছি৷”

ফাইল চিত্র

জানা গিয়েছে, মুকুল রায়ের হাত ধরেই বিজেপিতে যাচ্ছেন নীলাঞ্জন৷ তাঁকে দলে নেওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই ঘরোয়া বিরোধীতার মুখে পড়তে হয়েছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বকে৷ সূত্রের খবর, জেলার পুরোনো বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা তাঁরা চাননি নীলাঞ্জন রায়কে দলে নিতে৷ তবে বালুরঘাট জেলা সভাপতির বিজেপিতে চলে যাওয়ার অবাক হয়নি প্রদেশ কংগ্রেস৷ এক কংগ্রেস নেতার বক্তব্য, “অনেকদিন ধরেই নীলাঞ্জন বিজেপিতে যাবে শুনছি৷ আর না যাওয়ারই বা কী আছে? সবাই যখন দল বেঁধে তৃণমূল, নয়তো বা বিজেপিতে যাচ্ছে … তখন ওই বা আর বাকি থাকে কেন?”

----
--