মুকুলের হাতেই ভাঙতে পারে তৃণমূলের যুবশক্তি ?

বিজয় রায়, কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই শক্তি বেড়েছে দলের যুব সম্প্রদায়ের৷ ভবিষ্যতের নেতা হিসেবে ‘ভাইপো’ অভিষেককে সামনের সারিতে তুলে এনে পুরষ্কৃত করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এবার সেই অভিষেকের তৃণমূল যুবশক্তিকে টেক্কা দিতে আসরে নামছে ‘জাতীয়তাবাদী যুব পরিষদ’৷ সূত্রের খবর, মুকুল রায়ের নেতৃত্বে আগামী দিনে যে ‘ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি’ তৈরি হতে চলেছে সেই দলের অন্যতম সংগঠন হবে এই যুব পরিষদ৷ যদিও সংগঠনটির সম্পাদকের দাবি, এই মুহূর্তে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে থাকা নিয়ে তেমন কোনও পরিকল্পনা নেই৷ আপাতত অরাজনৈতিক ভাবেই কাজ করবেন তাঁরা৷

আরও পড়ুন: বিজেপি-তৃণমূল ভেঙে পুজোর আগেই পৃথক দলের নেতৃত্বে মুকুল

বাম জমানার শেষের দিকে গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে ২০০৫ এর দিকে তৈরি হয় ‘জাতীয়তাবাদী যুব পরিষদ’৷ প্রথম থেকেই সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন দীপ্তিমান বসু৷ রিজওয়ানুর হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে বিডিও কল্লোল শূরের হত্যা রহস্য নিয়ে যুব পরিষদের আন্দোলন সেই সময় রাজ্যে সাড়া ফেলে দেয়৷ পরবর্তীকালে সংগঠনটির সঙ্গে তৎকালীন বিরোধী দল তথা বর্তমান রাজ্যের শাসক দলের সমীকরণ তৈরি হয়৷ তৃণমূলের সঙ্গে সংগঠনটির সম্পর্কের সেতু বন্ধনের কাজ মুকুল রায়ের হাত ধরেই হয় বলে জানা যায়৷ পরে বিভিন্ন সময় মুকুল রায় ছাড়াও, ববি হাকিম, মদন মিত্র সহ তৃণমূলের বহু নেতার সঙ্গে সখ্যতা বাড়ে ‘জাতীয়তাবাদী যুব পরিষদ’ নামে সংগঠনটির৷

- Advertisement -

এদিকে রাজনৈতিক মহলে জোর খবর, পুজোর আগেই তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে ‘ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি’ তৈরি করতে চলেছেন মুকুল রায়৷ সেই পার্টিতেই যোগ দিতে পারে যুবদের নিয়ে তৈরি এই সংগঠনটি৷ সেক্ষেত্রে ভাঙতে পারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুবদের নিয়ে তৈরি সাজানো বাগান৷ কারণ তৃণমূল থেকে মুকুল রায় বেরিয়ে গেলে তাঁর গোষ্ঠীর ছাত্র-যুবরাও সেই পথ অনুস্মরণ করবে এটাই স্বাভাবিক৷ আর সেক্ষেত্রে দীপ্তিমানের সংগঠনে যে তারা নাম লেখাবে না এটা হলফ করে কেউ বলতে পারবে না৷ কারণ সংদগঠনের তরফে যতই অরাজনৈতিকভাবে কাজ করার কথা বলা হোক না কেন এই সংগঠনটির পেছনে যে ব-কলমে মুকুল রায়ই আছেন তা অস্বীকারের কোনও জায়গা নেই৷

আরও পড়ুন: মুকুলের ‘কারসাজিতেই’ আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম জড়াল অভিষেকের?

এই বিষয়ে সংগঠনের সম্পাদক দীপ্তিমান বসুর দাবি, জাতীয়তাবাদী যুব পরিষদ কোনও রাজনৈতিক সংগঠন নয়৷ এক সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক কোনও দলের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই৷ এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি সংগঠন৷ কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর যে সংগঠন প্রায় বন্ধ হতে বসেছিল হঠাৎ করে এতবছর পর তা নতুন করে কেন শক্তি বাড়ানোর পথে হাঁটছে? এই প্রশ্নের জবাবে দীপ্তিমানবাবুর সাফাই, সংগঠনের কাজ কখনোই বন্ধ ছিল না৷ ২০১১তে রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে তাদের বেশ কিছু টা সময় দেওয়া হয়৷ তবে শাসক বদল হলেও নতুন প্রশাসনের ‘চরিত্র’ একই থাকায় তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে বাধ্য হয় সংগঠন৷ তবে সম্প্রতি রাজ্যে ফের অচলাবস্থা তৈরি হওয়াতেই নতুন করে মানুষের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কাজ শুরু করবে এই সংগঠন৷

আরও পড়ুন: ‘কমিশনগেট’ আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে তোলপাড় রাজ্যসভা

তবে সংগঠনটির সম্পাদক মুখে যতই অরাজনৈতিক ভাবে সংগঠনের কাজ করার কথা বলুক না কেন, তলে তলে যে মুকুল রায়ের সঙ্গে যোগসাজস রয়েছে তা কিন্তু পুরোপুরি অস্বীকার করেননি দীপ্তিমান বসু৷ বরং তাঁর কথায়, সংগঠন চালাতে গেলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের সঙ্গে কথা বলতে হয়৷ এদিকে আগামী দিনে তৃণমূলের যুবসভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাজানো সংসার ভেঙে নিজেদের সংগঠনের ভিত শক্ত করবে কি না সেই প্রশ্নের জবাবে দিপ্তীমানের উত্তর, আগে দেখুন না কি হয়৷
সব মিলিয়ে বলাই যায়, নতুন দলের জন্য আঁটঘাট বেঁধেই মাঠে নামছে ‘ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি’৷ এখন এটাই দেখার সেই মহেন্দ্রক্ষণটা কখন আসে৷

Advertisement
---