মেসি-নেইমার বিবাদে ভাগ বসাচ্ছে বুল-বেয়াররাও

পার্থসারথি গুহ: মাস খানেকের বেশি হল শেষ হয়েছে বিশ্বকাপ। ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে সারা দুনিয়ার উন্মাদনার থেকে কোনও অংশে কম যায়নি ভারতও। বলাবাহুল্য, তাতে এককাঠি ওপরে থেকেছে কলকাতা। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানির জন্য গলা ফাটানোর মধ্যে এবার নতুন সংযোজন হল ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্স। এইসব দলকে ঘিরে ফুটবল মক্কায় যে রেষারেষি তার পুরোদস্তুর ছোঁয়া মেলে শেয়ার বাজারেও।

বস্তুত, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে যে তু তু মে মে চলতে থাকে তার থেকে কোনওভাবে কম যায় না শেয়ার বাজারের বুল ও বেয়ারদের বাকবিতণ্ডা। আসলে বুলরা মূলত বাজারের বাড়ার পক্ষে সওয়াল করে। আর বেয়াররা ওকালতি করে বাজারের পতনের পক্ষে। শুধু সূচকের বাড়া বা কমার মধ্যেই বুল-বেয়ারদের লড়াই থেমে থাকে না। কোনও শেয়ারের উত্থান পতন নিয়েও এদের আকচাআকচি চলে।

পড়ুন: মনমোহন জমানার জিডিপি রিপোর্ট সরানো হল সরকারি ওয়েবসাইট থেকে

- Advertisement -

সোজা সাপ্টা ভাষায় বললে বুল ও বেয়াররা ইতিবাচক ও নেতিবাচক চিন্তার প্রতিভূ হয়ে থাকে। অধুনা তৃণমূল-বিজেপি লড়াই বা মেসি-নেইমার সংঘর্ষের মতোই মাঝে মধ্যে বুল বেয়ারদের মধ্যে ধুন্ধুমার বেঁধে যায় ট্রেডিংয়ের হাউজের মধ্যে। খেলার মাঠে তাও মধ্যস্থতা করার জন্য তো একজন রেফারি থাকে। আবার রাজনীতির ঝামেলা থামানোর জন্য ময়দানে আবির্ভূত হয় প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তি বা মাতব্বররা।

ব্রোকিং ফার্মের মালিক বা অন্য ট্রেডারদেরই তখন এদের সামলাতে আসরে নামতে হয়। যথারীতি বাজার বা কোনও শেয়ার সম্পর্কে উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর হতাশা থেকেই এই বৈরিতা তৈরি হয়। ধরা যাক মলয়বাবু কোনও শেয়ার কিনলেন। প্রচুর সংখ্যায় কিনলেনও বটে। এবার প্রলয়বাবুর মনে হল বাজার তো মোটেই জুতসই নেই।

পড়ুন: নয়া রেকর্ড সেনসেক্স, নিফটি-র

এই প্রেক্ষিতে ওই শেয়ার কেনা উচিত হয়নি। এবার তিনি আগবাড়িয়ে মলয়বাবুকে বলেই ফেললেন, দাদা এতগুলো শেয়ার কিনলেন। বাজার তো সুবিধার বুঝছি না। ব্যস, যেই না বলা। অমনি খণ্ডযুদ্ধ বেধে গেল দুই বর্ষীয়ান মানুষের মধ্যে। তর্কাতর্কি তো হলই। কখনও কখনও হাতাহাতি বেঁধে যাওয়ারও উপক্রম হয়। আসলে অর্থবাজারের গতিপথ নিয়ে যথারীতি নানা মুনির নানা মত থাকে। এর মধ্যে কেউ হয়তো ভেবে বসলেন সব ঠিক হ্যায়। এক্ষেত্রে তিনি হলেন বুল ভাবালম্বী।

আবার কেউ ভাবলেন, না যা হচ্ছে তা সুবিধের নয়। বড় কারেকশন বা পতন নেমে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে তিনি হলেন বেয়ার চিন্তাধারার পাবলিক। অর্থাৎ বাজার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারনা পোষণ করেন। এই বুল ও বেয়াররা যখন যেদিকে পাল্লায় ভারী হন তখন বাজার সেদিকে চলতে থাকে। রঙ পাল্টাতে থাকে ক্ষণে ক্ষণে।

পড়ুন: ছোট শিল্পের ১১৩ কোটি টাকার বিদেশি বরাত

বুল ও বেয়ারের প্রেক্ষাপটে বাঙালিরও অনেক স্বাদ বদল হয়েছে। পাল্টাচ্ছে অনেক চিরাচরিত ধারাও। আগে বলা হত, বাঙালি নাকি ব্যবসাবিমুখ। এই কথাটা একটা প্রবাদবাক্য হয়ে চলে আসছে বহু বছর ধরে। আদৌ কি কথাটা সত্যি। এই প্রশ্নের জবাবে বলতে হয় বাঙালি অনেকটাই পালটে গিয়েছে। আগের মতো গোঁড়ামি এখন আর দেখা যায় না তাদের মধ্যে। বিশ্বায়নের রথে সওয়ার জন্যই নিশ্চিতভাবে এই পরিবর্তন। আর পালটে যাওয়া বাঙালি এখন ব্যবসাটাও বেশ চুটিয়েই করছে।

স্বাভাবিকভাবেই তাতে ভাগ বসিয়েছে শেয়ার বাজারও। তাই পাড়ায় পাড়ায় টেনিদা-ঘনাদাদের আড্ডায় এখন ত্ণমূল-বিজেপি, মেসি-কোহলিদের ছাপিয়ে জায়গা করে নিচ্ছে শেয়ার বাজারের হালহকিকত। নিফটি সেনসেক্সের বাড়া-কমা নিয়ে চলছে জোর কপচানি। অবশ্যই চায়ের পেয়ালায় চুমুক মারতে মারতে চলছে এই শেয়ার আড্ডা। আর বাঙালি এই পালটে যাওয়া আবহে বুল বেয়ারের তাপ উত্তাপটাও বেশ উপভোগ করছে।

Advertisement
---