সিউড়ির রাস্তায় ঘুরে বেড়াল ‘অতিমানব’, তারপর…

স্টাফ রিপোর্টার,সিউড়ি : মূহুর্তের মধ্যে লোকের মুখে মুখে ছড়িয়ে গেল অনেক গল্প৷ রটে গেল, কাছে গেলেই নাকি ছুড়ে ফেলে দেবে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অতিমানব৷ এই অতিমানবকে নিয়েই সারাদিন ব্যস্ত থাকল বীরভূমের সিউড়ি৷

এ যে সে অতিমানব নয়৷ রীতিমতো ট্রেনে করে এসে নামল বোলপুরে৷ সেখান থেকে অতিমানব চলল সিউড়িতে৷ ততক্ষণে আশপাশের লোকজন থরহরি কম্পমান৷ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছল, ঘটনাস্থলে ছুটে আসতে হল জিআরপির টিমকে।

ধীরে ধীরে সামনে এল অতিমানবের পরিচয়। তিনি আফগানিস্থানের রাজধানী কাবুলের বাসিন্দা শের খান। তাঁর উচ্চতা ৮ ফুট ২ ইঞ্চি। কয়েকদিন আগেই এসেছেন কলকাতায়। বুধবার বোলপুরে যাওয়ার জন্য মালদা ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস ধরতে তিনি এসে হাজির হন হাওড়া স্টেশনে।  ১২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাঁর দিকে নজর পড়ে জনতার। তার পরেই ঘটে যায় আলোড়ন। ক্রমে খবর ছড়িয়ে পড়তে থাকে। অন্য প্ল্যাটফর্ম থেকেও মানুষ এসে ভিড় জমান।

- Advertisement -

দীর্ঘদেহী শের খান বুঝতে পারছিলেন তাঁকে দেখে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। আর এর ফলে রীতিমতো বিব্রত বোধ করছিলেন তিনি। চেষ্টা করছিলেন লুকোতে। কিন্তু দেহের আকারের জন্যই পেরে ওঠেননি বোধহয়৷ অবশেষে জিআরপির তত্ত্বাবধানে মালদা ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসে ডি১ কোচে তাঁকে উঠিয়ে দেওয়া হয়৷

কিন্তু তাতেও তাঁর বিপত্তি কাটেনি৷ সেই কোচের মধ্যে থাকা ৭২ জন যাত্রী চমকে ওঠেন শের খানকে দেখে। ক্রমে খবর ছড়িয়ে পড়ে অন্য কম্পার্টমেন্টে। এবার ভিড় জমে যায় ট্রেনের ভিতরেই। ততক্ষণে চলে এসেছে সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও।

নিরুপায় শের খান শৌচাগারের পাশের গেটে দাঁড়িয়ে পড়েন। মাথা ঠেকে যাচ্ছিল সিলিংয়ে। কোনও মতে ঝুঁকে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে শেষে পা ঝুলিয়ে দরজায় বসে পড়েন। তবে ট্রেন ছাড়ার পরে তাঁকে আর ওখানে বসতে দেয়নি জিআরপি। তাঁকে নিয়ে গিয়ে বসিয়ে দেওয়া হয় তাঁর জন্য নির্দিষ্ট আসনে। ক্রমে ট্রেন এগিয়ে যায় বোলপুরের উদ্দেশে।

কিছুটা নিরুপায় হয়েই চারপাশের মানুষের কৌতূহল মেশানো দৃষ্টির সামনে অপ্রস্তুত অবস্থায় নিজের আসনে বসে থাকেন শের খান। এক ভিনগ্রহ থেকে আসা প্রাণীর মতো।  মালদা ইন্টার সিটি এক্সপ্রেস করে বোলপুরে নামেন তিনি৷ তার পর সেখান থেকে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে সিউড়ি এসপি অফিসের দিকে রওনা দেন শের খান৷ সেখানেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ ছিল তাঁর৷ তবে নির্বিঘ্নে সেই কাজ করবেন ভাবলেও, অতি উৎসাহী সাধারণ মানুষ তাঁকে তা করতে দেয়নি৷ সিউড়ি এসপি অফিসেও জমে যায় ভীড়৷ জনতা সরাতে রীতিমত বেগ পেতে হয় পুলিশকে৷

Advertisement
---