বেঙ্গালুরু: জাপানের একটি শহরের নাম ‘কিছিজই’৷ রাজধানী টোকিওর নিকটবর্তী একটি শহর৷ কিন্তু অনেকেই জানেন না এই শহরের নামের সঙ্গে ভারতীয় যোগসূত্র বাঁধা আছে৷ কী সেই যোগসূত্র তা জানালেন জাপানের কনসাল জেনারেল টাকাইউকি কিটাগাওয়া৷

‘কিছিজই’ নামটি ভগবান বিষ্ণুর স্ত্রী হিন্দু দেবী লক্ষ্মীর নাম অনুসারে করা হয়েছে৷ জাপানি ভাষায় ‘কিছিজই’ শব্দের অর্থ হল লক্ষ্মী মন্দির৷ জানালেন জাপানের কনসাল জেনারেল টাকাইউকি কিটাগাওয়া৷ অর্থাৎ ধন সম্পত্তির দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা শুধু ভারতে নয়, পুবের দেশ জাপানেও হয়ে থাকে৷

Advertisement

এই ঘটনা প্রমাণ করে জাপানের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রভাবের কথা৷ আপাত দৃষ্টিতে দুই দেশের সভ্যতা ও সংস্কৃতির মধ্যে কোনও মিল কেউ হয়তো খুঁজে পাবেন না৷ কিন্তু খুঁজলে জাপানের অনেক জায়গার মধ্যে ভারতীয়ত্বের ছাপ পাওয়া যাবে৷ কনসাল জেনারেল নিজেই জানালেন, মানুষ মনে করেন দুই দেশ অনেক আলাদা৷ কিন্তু তা সবক্ষেত্রে সত্যি নয়৷ জাপানের অনেক মন্দিরে হিন্দু দেবদেবীদের উপাসনা করা হয়৷

এই যেমন কিজিজই শহরের কথা ধরা যাক৷ টোকিয়ো শহরের কাছে অবস্থিত একটা মন্দির লক্ষ্মী মন্দিরের আদলে তৈরি হয়েছে। জাপানি ভাষায় কিছিজই কথার অর্থ হল লক্ষ্মী মন্দির৷ পরে সেই শহরের নামই হয়ে যায় কিজিজই৷ কনসাল জেনারেল জানান, সূযোদয়ের দেশে অনেক হিন্দু দেব দেবী পূজিত হয়৷ যুগের পর যুগ ধরে হিন্দু দেব দেবীদের কাছে জাপানীরা প্রার্থনা করে চলেছেন৷ কন্নড়ে একটি অনুষ্ঠানে এসে একথা যখন জানাচ্ছেন কনসাল জেনারেল তখন শ্রোতাদের চোখে মুখে অবাকের অভিব্যক্তি ছাপ স্পষ্ট৷

শুধু মন্দির নয়৷ জাপানী ভাষা ও খাদ্যে ভারতীয়ত্বের প্রভাব দেখা যায়৷ তিনি জাপান, বহু জাপানি শব্দ সংস্কৃত শব্দ থেকে উৎপন্ন৷ জাপানি পন্ডিতদের মতে,প্রায় ৫০০ জাপানি শব্দের আর্বিভাব হয়েছে তামিল ও সংস্কৃত শব্দ থেকে৷ কনসাল জেনারেল জানান, ভারতীয় সভ্যতা নয়, এদেশের ভাষার প্রভাবও পরিলক্ষিত হয় জাপানি ভাষায়৷ আরও একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, জাপানি খাবার সুশি তৈরি হয় ভাত এবং ভিনিগার দিয়ে। সুশি শব্দটার সঙ্গে শারি শব্দটার যোগ রয়েছে, যা সংস্কৃত শব্দ ‘জালি’ থেকে উদ্বুদ্ধ। জালি মানে ভাত”, জানান কনসাল।

----
--