নয়াদিল্লি: আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের মতো এবার একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট৷ ভারতের সংবিধান অনুসারে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়বে কি না, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে মঙ্গলবার গঠিত হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারপতির বেঞ্চ৷ আধারের সঙ্গে প্যান কার্ডকেও যুক্ত করা উচিত কি না, সেই প্রশ্নে এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নজন বিচারপতির বেঞ্চ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের শীর্ষ আদালত৷ এ ধরনের একটি সাংবিধানিক সিদ্ধান্তের প্রশ্ন উঠেছে বলেই এই বিচারপতিমণ্ডলীর শীর্ষে থাকছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি জে এস কেহর৷

এর আগে, গত ১২ জুলাই এ ব্যাপারে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল৷ জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ক্ষেত্রে আধার বাধ্যতামূলক করার ব্যাপারে সরকারি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলাকারীদের হয়ে লড়ছেন আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান৷ এই বিষয়ে ফয়সালা চেয়ে তিনি এবং সরকারের তরফে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল উভয়েই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের শরণাগত হন৷ বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট এবার পাঁচ বিচারপতির জায়গায় একেবারে নজন বিচারপতির বেঞ্চ গঠনের সিদ্ধান্ত নিল৷

সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টকে জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার সাধারণ আইনি অধিকার৷ সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারের মধ্যে তা পড়ে না৷

প্রসঙ্গত, এই ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়েই দু-দুটি মামলায় ১৯৫৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের আট বিচারপতির বেঞ্চ এবং ১৯৬২ সালে ছয় বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দেয়, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার মৌলিক অধিকারের আওতায় পড়ে না৷ সুপ্রিম কোর্টের এই দুটি ঐতিহাসিক রায়ই কেন্দ্রকে বড় ভরসা দিয়েছে৷ তাই তাদের যুক্তি, মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এই অজুহাতে আধারের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ ঠুকে কোনও জনস্বার্থ মামলা পেশই করা যেতে পারে না৷

--
----
--