‘বিজেপির ‘বি’ আর দিলীপ ঘোষের ‘ডি’ বাংলা থেকে বাদ দিয়ে দেব’

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: অসমের পাঁচ বাঙালি হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে দলের যুব সভাপতি, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ধিক্কার মিছিলে পথে হাঁটলেন বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। শনিবার দুপুরে শহরের হিন্দু হাই স্কুল মাঠ থেকে কালো পতাকা নিয়ে মিছিলে পথ হাঁটেন তিনি।

মিছিল শেষে বাঁকুড়া শহরে এক পথ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওই ‘বর্বরোচিত’ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এই ঘটনার কাছে নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর, নেতাইয়ের গণহত্যাও লজ্জা পায়।’’ অসম প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘‘এই ঘটনায় বিজেপি নেতৃত্বের যোগ রয়েছে। সেই কারণে অবিলম্বে অসমের ক্ষমতাসীন বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। ঘটনার পর পরই আমার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে কলকাতা, শিলিগুড়িতে প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে। আজ বাঁকুড়ায়, আগামীকাল পুরুলিয়ায় প্রতিবাদ মিছিল হবে৷’’

একই সঙ্গে গুজরাতে সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের সু-উচ্চ মূর্তি স্থাপনের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষ দু’বেলা দু’মুঠো খেতে পাচ্ছে না। সেদিকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কোনও হুঁশ নেই। যারা ‘বাংলা বলতে জানে না, বাংলা লিখতে পারে না, বাংলা পড়তে জানে না’ তারা বলছে বাংলা দখল করব।’’ এভাবেই বিজেপির সমালোচনা করে বলেন, ‘‘সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে আটকাতেই হবে।

সোমবার বাঁকুড়া শহরে সভা করে গিয়েছেন বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।’’ সেই প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূল যুব সভাপতি বলেন, ‘‘এখানে এসে উনি বড় বড় কথা বলে গিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুমতি দিলে বিজেপির ‘বি’ আর দিলীপ ঘোষের ‘ডি’ বাংলা থেকে বাদ দিয়ে দেব।’’

এদিনের দলীয় ধিক্কার মিছিল ও সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা, প্রাক্তন সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্তী, বিধায়ক শম্পা দরিপা, সমীর চক্রবর্তী, দলের জেলা সভাপতি অরূপ খাঁ প্রমুখ। এখান থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি শহরের লক্ষ্যাতড়া মহাশ্মশান কালী পুজোর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যান। সেখানে উদ্বোধন শেষে কলেজ মোড়ের একটি কালী পুজোর ২৫ তম বর্ষের উদ্বোধন করেন। এদিনই তিনি পুরুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন বলে জানা গিয়েছে৷