ফাইল ছবি

ডায়মণ্ড হারবার: কিছু হলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের দিকে আঙুল তোলে বিজেপি৷ কিন্তু বাংলার মানুষ তাঁর পাশে আছে৷ তাই কোনও কুৎসাই কাজে আসবে না৷ ডায়মণ্ড হারবারের জনসভা থেকে গেরুয়া শিবিরের দিকে এমনটাই তোপ দাগলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷

এদিনের জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ বিরোধীরা পঞ্চায়েত ভোটের আগে অভিযোগ করেছিলেন তাদের প্রার্থী দিতে দেওয়া হচ্ছে না৷ আসলে তারা প্রার্থী জোগাড় করতেই পারেননি তো কীভাবে প্রার্থী দেবেন৷ রাজ্যের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে আছে৷ তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেখেই ভোট দেন৷ তার অন্যতম উদাহরণ মহেশতলা উপনির্বাচন৷’’

Advertisement

অভিষেকের সাফ বক্তব্য, মানুষ উন্নয়ন বোঝেন৷ আর তৃণমূল সরকার সেটাই করে৷ ভোটের সময় ভেসে থাকা তৃণমূলের নীতি নয়৷ বছরভর তাঁরা মানুষের সঙ্গে থাকেন৷ তৃণমূল সরকার প্রতিটা দিন জনসংযোগে বিশ্বাসী৷ ভোটের আগে দরজায় দরজায় ঘুরে যে মন পাওয়া যায় না৷ সারা বছর মানুষের পাশে থাকাটাও দরকার৷ এদিনের বক্তব্যে বারবার সেই কথাই বোঝালেন সাংসদ৷

এদিনের সভায় পুরুলিয়ার বলরামপুর প্রসঙ্গ তুলেও বিজেপিকে বেঁধেন অভিষেক৷ দুই বিজেপি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তৃণমূলের দিকে বিজেপির তোলা আঙুলের জবাব দেন এই মঞ্চ থেকেই৷ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে অভিষেক বলেন, “পাঁচ পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানিয়েছেন দু’টি ক্ষেত্রেই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে৷ আর ওরা বলছে এটা তৃণমূল কর্মীরা করেছে৷ কিছু হলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের দিকে অভিযোগ তোলে ওরা৷ আমরা মৃত্যু চাই না৷ যে কোন মৃত্যুই খুব দুঃখের৷’’

এরপরই দলীয় দুই কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বিজেপির সিবিআই-দাবিকে কটাক্ষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ সিবিআই-এর ক্ষমতা সম্পর্কে আমাদের জানা আছে৷ জ্ঞানেশ্বরী কাণ্ড, রবি ঠাকুরের নোবেল চুরি-সহ একাধিক ঘটনায় কোনওরকম তদন্ত শেষ করতে পারেনি সিবিআই৷ ফলে সিবিআই নিয়ে এত লাফালাফি করার কিছু নেই৷’’

এদিনের মঞ্চ থেকেই প্রতি বছরের মত এবারও প্রকাশিত হল ‘নিঃশব্দ বিপ্লব’৷ ডায়মণ্ড হারবারের সাংসদ তথা রাজ্য যুব তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই বইটি প্রকাশিত হয়৷ দক্ষিণ ২৪ পরগণার ডায়মণ্ড হারবারের সরিষা হাইস্কুল মাঠে এদিনের জনসভাটি হয়৷ উপস্থিত ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সী, মদন মিত্র, ইন্দ্রনীল সেন৷ ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও কর্মীরাও৷ গত চার বছরে ডায়মণ্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে সাংসদ তহবিলের অর্থ দিয়ে কী কী কাজ হয়েছে তার খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে এই বইটিতে।

----
--