‘কমিশনগেট’ আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম জড়াল মমতার ভাইপো অভিষেকের

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বড়সড় আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম জড়াল তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ভাইপোর আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে গেলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। অভিযোগ, রাজকিশোর মোদী নামক এক বিতর্কিত প্রোমোটারের কাছ থেকে কোটি টাকারও বেশি কমিশন নিয়েছিলেন বর্তমান তৃণমূল যুব-কংগ্রেস সভাপতি।

মুকুল শিবিরের ‘কারসাজিতেই’ আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়াল অভিষেক?

সোমবার এমনই খবর সম্প্রচার করেছে সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম টাইমস নাউ। সেই খবর অনুসারে, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা “লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস প্রাইভেট লিমিটেড” রাজকিশোর মোদী নামক ওই ব্যক্তির কাছ থেকে এক কোটিরও বেশি টাকা নিয়েছিল। এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে জোর করে জমির দখল নেওয়া এবং খুনের মামলা রয়েছে। বিতর্কিত প্রোমোটার রাজকিশোরের সঙ্গে অভিষেকের সংস্থার আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বহু নথিও তাদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেছে টাইমস নাউ।

- Advertisement -

সততা থাকলে অভিষেকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিশন করুক মমতা: কুণাল

সমগ্র বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনায় সরব হয়েছে সর্বভারতীয় এই সংবাদ মাধ্যম। সেখানে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে এই রাজকিশোর মোদীর গ্রেফতারের দাবিতেই সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

২০১২-১৩ সালের বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে টাইমস নাউ। যেখানে দেখা যাচ্ছে, রাজকিশোর মোদী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থার মধ্যে লেনদেনের বিষয়ে মধ্যস্থতার কাজ করেছিলেন একজন চার্টার্ড অ্যাকাউটেন্ট অশোক তুলসিয়ান। এই ব্যক্তিই রাজকিশোরের সংস্থা গ্রিন টেক সিটি প্রাইভেট লিমিটেডের ডিরেক্টর ছিলেন। একইসঙ্গে অভিষেকের সংস্থা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের অডিটরও ছিলেন।

এই বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করার জন্য Kolkata24x7-এর ইনভেস্টিগেশন টিম যোগাযোগ করে মিনিস্ট্রি অফ কোম্পানি অ্যাফেয়ার্সের দফতরে। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, বর্তমানে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস প্রাইভেট লিমিটেড’ সংস্থাটির ডিরেক্টর পদে রয়েছেন অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়, রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টাইমস নাউয়ের দাবি, যখন রাজকিশোর মোদীর সঙ্গে ওই সংস্থার আর্থিক লেনদেন হয়েছিল সেই সময় কোম্পানির ডিরেক্টর পদে আসীন ছিলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে যারা ওই পদে রয়েছেন তাঁরা সম্পর্কে অভিষেকের পিতা মাতা এবং স্ত্রী। যাদের প্রত্যেকের ঠিকানা দেখানো হয়েছে ৩০-বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট। মজার বিষয় এটাই যে, এই ঠিকানায় বসবাস করেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সারদা ও নারদ কেলেঙ্কারির পর এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও ‘কমিশনগেট’ আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে যাওয়ায় চরম অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস। সারদা ও নারদে জড়িয়ে থাকা নেতাদের ধীরে ধীরে পিছনে ফেলে অভিষেককেই দলের মুখ হিসেবে তুলে ধরছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন আর্থিক কেলেঙ্কারিতে সেই অভিষেকের নামই জড়িয়ে যাওয়ায় মমতার এই পরিকল্পনা বড় ধাক্কা খেল তা বলাই যায়৷

Advertisement
---