‘ভোটের ময়দানে ঘাসফুল ছাড়া বাকি সব ফুল নকল’

ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, মানবাজার: ১৪ মে ভোট হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়৷ আইনের জালে ঝুলে রয়েছে ভোটের নির্ঘণ্ট৷ কিন্তু ভোটের ফলাফলে তৃণমূল কংগ্রেসই জিতবে বলে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এদিন পুরুলিয়ার মানবাজারের সভায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বললেন, ‘‘১৭ মে ব্যালট বক্স খুললেই চারদিক শুধু জোড়া ফুল বেরিয়ে পড়বে। সেদিন হবে আবির খেলার দিন।’’

পুরুলিয়ার সভা থেকে তিনি বিঁধলেন গেরুয়া শিবিরকে৷ দাবি করলেন, ‘‘যাঁরা জঙ্গলমহলে সিপিএমের হার্মাদরা ছিল, তাঁরাই আজ বিজেপির ওস্তাদ৷’’ এদিন বিজেপির পাশাপাশি সিপিএমকেও তুলোধনা করেন তিনি। অভিষেকের অভিযোগ, ‘‘সিপিএম এখন সাইনবোর্ডে পরিণত৷ ওদের হতাশ কর্মীরাই গেরুয়া জার্সি জড়িয়ে জয় শ্রীরাম বলছেন। পাঁচ বছর আগে যখন জঙ্গলমহলে এসেছিলাম তখন এখানকার কয়েকটি গ্রামের দেওয়ালে কাস্তে–হাতুড়ি আঁকা দেখেছিলাম। সেখানেই এখন আঁকা রয়েছে পদ্ম ফুল।”

তিনি অভিযোগ করেছেন, ধর্মীয় মেরুকরণ করে বিজেপি বাংলাকে বিভাজন করতে চাইছে। কিন্তু বাংলার সংস্কৃতি বিভাজন শেখায়নি। বরং হিন্দু ধর্মের নীতি হল, পর ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। রামনবমী ইস্যুতে বিজেপিকে তুলোধনা করে মানবাজারের ইন্দকুড়ি রাইস মিল ময়দানের সভা থেকে অভিষেক বলেন, “২০১৪ সালের আগে রামনবমী ও মহাবীর জয়ন্তিতে এভাবে অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় নামতে দেখা যায়নি। ভিন রাজ্যের সংস্কৃতিকে বিজেপি বাংলায় ঢোকাতে চাইছে৷ ওরা টাকার বিনিময়ে বাংলাকে গেরুয়া করতে চাইছে৷ কিন্তু সেগুড়ে বালি৷ ওদের স্বপ্ন পূরণ হবে না৷ কারণ, বাংলা সম্প্রীতির বাংলা, বাংলা শান্তির বাংলা।”

এদিন দুপুরে বরাবাজারের ইন্দটাঁড় ময়দানে প্রথমসভাটি করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ পরের সভাটি হয় মানবাজারে৷ মানবাজারের সমাবেশ কার্যত ব্রিগেডের চেহারা নেয়। চারদিক থিক থিক করছে কালো মাথা৷ উপচে পড়া জনসভা থেকে দলের যুবরাজ দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “যে সকল এলাকায় গতবারে ভালো ফল হয়নি, সেখানে আমি নিজে গিয়ে প্রচার করব।” যা শুনে উৎসাহী কর্মীদের হাততালিতে ফেটে পড়ে সভাস্থল৷

গত বিধানসভা নির্বাচনে সারদা-নারদা কাণ্ডের জেরে চরম সঙ্কটে পড়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷ ক্ষমতায় ফিরে আসতে নিজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে হাতিয়ার করে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভায় গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে হয়েছিল, ‘‘রাজ্যের ২৯৪টি আসনে আমি প্রার্থী৷ আমাকে ভোটটা দিন৷ কাজ করার সুযোগ দিন৷’’ এদিন সেকথারই পুনরাবৃত্তি করে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘গ্রামসভা থেকে পঞ্চায়েত সমিতি, জেলাপরিষদ সবেতেই তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই প্রার্থী। তাই ১৪ মে ভোটের দিন আসল ফুল ঘাস ফুলে ভোট দিন। কারণ, ভোটের বাজারে বাকি যে সব ফুল আছে তা নকল।’’

বিরোধীরা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় আপাতত আদালতের নির্দেশে অনিশ্চয়তার মুখে পঞ্চায়েত ভোট৷ স্বভাবতই কংগ্রেস-বিজেপি-সিপিএমকে এক বন্ধনীতে রেখে আক্রমণ শানিয়েছেন অভিষেক৷ বলেছেন, ‘‘ওরা ভোট কে ভয় পাচ্ছে। তাই মানুষের আদালতের পরিবর্তে আদালতে যাচ্ছে। ভোট বানচাল করতে চাইছে।’’ এরপরই তাঁর কটাক্ষ, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে উন্নয়নের জোয়ার এনেছেন৷ ফলে ওরা ক্রমশ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে৷’’ বলেছেন, ‘‘আসলে যাঁরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকেন তাঁরা ভোটে যেতে ভয় পান না৷ যাঁদের সারা বছর দেখা পাওয়া যায় না তাঁরা যান কোর্টে।”

জনসভা দু’টিতে হাজির ছিলেন দলের পুরুলিয়া জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতে, দলের জেলা যুব সভাপতি সুশান্ত মাহাতে। মানবাজারে হাজির ছিলেন রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণির কল্যাণ দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু ও দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

---- -----