দিল্লিতে নজর মমতার অভিষেকের ‘অভিষেক’ বাংলায়

মানব গুহ, কলকাতা: ঠিক মমতার মত, অবিকল মমতা। সেই হাত নাড়া, নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে গিয়ে সবার সঙ্গে হাত মেলানো। সর্বভারতীয় ফেডারেল ফ্রন্টে নজর মমতার, মহেশতলায় অভিষেক রাজ্যের নম্বর টু অভিষেকের।

মহেশতলা বিধানসভায় শেষ এক-দু রাউন্ডের গণনা তখনও চলছে৷ ফলাফল পরিষ্কার৷ জেতা নিশ্চিত ছিল, ভোটও যে বাড়বে তাও তখন পরিষ্কার হয়ে গেছে৷ অফিসিয়াল ঘোষণা শুধু বাকি৷ তখনই মঞ্চে প্রবেশ যুবরাজের৷

মহেশতলা ঢুকেই সটান চলে গেলেন গণনা কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষারত তৃণমূল সমর্থকদের দিকে৷ নিরাপত্তা বলয় ভেঙে সোজা মিশে গেলেন দলীয় সমর্থকদের সঙ্গে৷ প্রায় সবার সঙ্গে হাত মেলালেন৷ যুবরাজের সঙ্গে হাত মেলাতে চান প্রায় সব সমর্থক৷ নিরাশ করলেন না কাউকেই৷ একের পর এক বাড়ানো হাত ধরে অভিষেক জানান দিলেন তিনি আছেন, রাজার চেয়ারে শুধু বসার অপেক্ষা৷

২০১৭ র জুলাইয়ে রাষ্ট্রপতি ভোটের সময় থেকেই সনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে বিজেপির বিরুদ্ধে ফেডারেল ফ্রন্ট গঠন করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কর্ণাটকে কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও মধ্যমণি ছিলেন সেই মমতাই৷ সেখানেও ফেডারেল জোট যে হচ্ছেই, সেই বার্তা প্রকাশ্যে দিলেন মমতা সহ সব দলের নেতারাই৷

২০১৯ এ লোকসভা ভোটের আগে, বিজেপি বিরোধী সমস্ত আঞ্চলিক দলকেই একছাতার তলায় আনতে উদ্যোগী মমতা৷ প্রায় ২০ টি আঞ্চলিক দল নিয়ে ফেডারেল ফ্রন্ট গড়ার দিকে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী৷ সেক্ষেত্রে, ফেডারেল ফ্রন্ট লোকসভা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসতেই পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

ফেডারেল ফ্রন্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও কংগ্রেসের কর্তৃত্ব সব দলের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়৷ সেক্ষেত্রে ভারতীয় রাজনীতিতে সবই সম্ভব৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রধানমন্ত্রীত্বের দাবীদার হিসাবে উঠতেই পারে৷

ঠিক যেমন উঠে এসেছিল জ্যোতি বসুর নাম যুক্তফ্রন্ট সরকারের আমলে৷ আর তেমন ঘটনা ঘটলে মমতা যে বামেদের মত ঐতিহাসিক ভুল করবেন না, সেটা একেবারে পরিষ্কার৷

সব সম্ভাবনা দেখেই ভাইপোকে আরও বেশি করে ক্ষমতার কাছাকাছি আনতে চাইছেন পিসি৷ মহেশতলা নির্বাচনের দায়িত্ব ও ফলাফলের সময় হাজির হয়ে দলীয় কর্মী সমর্থকদের মধ্যে মিশে যাওয়া এরই প্রমাণ৷

শুধু তাই নয়, পঞ্চায়েত ভোটের সব দায়িত্বও ছিল সেই যুবরাজের কাঁধেই৷ পেট্রেল ডিজেলের মুল্যবৃদ্ধি নিয়েও তৃণমূলের আন্দোলনের মুখ সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মমতার স্টাইলেই হঠাৎ গান্ধী মূর্তি থেকে কালিঘাট পর্যন্ত মিছিল করার সিদ্ধান্তও সেই অভিষেকেরই৷

সব মিলিয়ে বলাই যায়, নিজের পর রাজ্যের নাম্বার টু কে ক্ষমতার কেন্দ্রের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসতে চাইছেন মমতা৷ দিল্লীতে ক্ষমতা দখল করার স্বপ্ন থাকলে রাজ্যের সিংহাসনের উত্তরাধিকারীকে খুব তাড়াতাড়ি তৈরি করে রাখতেই হবে৷ মমতার দিল্লী দখলের স্বপ্ন সফল হলে যুবরাজকেও যে রাজার দায়িত্ব ও ক্ষমতা নিতে হবে, তা খুব স্পষ্ট ভাবে পরিষ্কার হচ্ছে৷

---- -----