‘আমাদের মধ্যে চুলোচুলির সম্পর্ক’

মানসী সাহা, কলকাতা: আকাশের মুখ ভার। কিছুক্ষণ আগে একপশলা বৃষ্টিও হয়ে গিয়েছে। শহরের এক নামজাদা ক্লাবে, আমরা সামনে বসে সদ্য বিবাহিত দম্পতি অর্ক ও সায়ন্তনী। না রোম্যান্সে গদগদ কোনও প্রেমালাপ নয়! বরং কথা হচ্ছে, তাঁদের নতুন সংসারে আজকাল ঘটতে থাকা নানান সমস্যা নিয়ে। এসবের মাঝে প্রায় চিৎকার করে সায়ন্তনী বলে ওঠে, ” ভালবাসা নয়! আমাদের মধ্যে চুলোচুলির সম্পর্ক।” যা শুনে দুষ্টুমি মাখা সুরে অর্ক বলে, “এখানে কেন এমন কথা”!

অর্ক (আবীর) ও সায়ন্তনী (তনুশ্রী)-টলিপাড়ায় নতুন ফ্রেশ হ্যাজবেন্ড অ্যান্ড ওয়াইড জুটি। ঠিকানা রাজারহাটের ‘ফ্ল্যাট নং ৬০৯’। যেখানে সবার আমন্ত্রণ রয়েছে ৩১শে আগস্ট। তারআগে তাঁদের কেমিস্ট্রি, রোম্যান্স, নতুন সংসারের গল্প নিয়ে জমিয়ে আড্ডা দিলেন কলকাতা২৪x৭-এর প্রতিনিধি মানসী সাহার সঙ্গে…

প্রশ্ন: তোমাদের নতুন ঠিকানা ‘ফ্ল্যাট নং ৬০৯’-এ থাকতে কেমন লাগছে?

- Advertisement -

অর্ক (আবীর): দু’জনে মিলেই ফ্ল্যাটটা পছন্দ করেছি। তাছাড়া শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে। ভিড়ভাট্টাও তেমন এই! তারওপর ভাড়াটাও বেশ কম। প্রথম প্রথম তো খুবই হ্যাপি ছিলাম। কিন্তু ধীরে ধীরে এখানে এমন কিছু অদ্ভূত সব ঘটনা ঘটে চলেছে, যার কোনও ব্যাখা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সেই নিয়ে একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে আমার থেকে বিষয়টা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে সায়ন্তী বেশি। কারণ সারাটা দিন ওকে একা বাড়িতে থাকতে হচ্ছে।

সায়ন্তনী (তনুশ্রী): ‘ ফ্ল্যাট নং ৬০৯’-এ সায়ন্তনী তো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। তবে আমি (তনুশ্রী)-এই ফ্ল্যাটের প্রেমে পরে গিয়েছে। আসলে আমি তো বাড়িতে থাকি। তাই এমন সুন্দর একটা ফ্ল্যাট! এতো সুন্দর একটা লোকেশন। (এক গাল হেসে) তারওপর যদি হয় অর্ক (আবীর)-এর মতো স্বামী! তাহলে তো আমার কাছে ফ্ল্যাট নং ৬০৯’ নিসন্দেহে একটা ট্রিট।

প্রশ্ন: ঠিক কী কী সমস্যা হচ্ছে এই ফ্ল্যাটে থাকতে?

সায়ন্তনী (তনুশ্রী): ঠিক বলে বোঝানো যাবে না! কিছু কিছু জিনিসের কোনও এক্সপ্লেনেশন হয়। তেমনি এই ফ্ল্যাটে আমাদের অনুভূতিটা খুবই অদ্ভূত। কিছুই নেই অথচ একটা গা ঝমে ঝমে ভাব। প্রতিবেশীদেরও অদ্ভূত ব্যবহার।

অর্ক (আবীর): আর এই সবের চক্করে আমাদের নর্মাল জীবন গেঁটে যায়। আসলে বিয়ের পর দু’জন দু’জনের সঙ্গ বেশি করে পাওয়ার জন্যই তো নতুন ফ্ল্যাটে আসা। কিন্তু আদতে দেখা যায় কিছুই হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: সেট ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন নায়িকা, কী করলেন এমন সুশান্ত?

প্রশ্ন: এতো গেল অর্ক ও সায়ন্তীর কথা! কিন্তু আবীর ও তনুশ্রী রিয়েল লাইফে এমন কোনও প্যারানর্মাল অনুভূতি হয়েছে কি?

তনুশ্রী: আমার ভূতের গল্প পড়তে। ভূতের সিনেমা দেখতে ভীষণ ভীষণ ভাললাগে। আর সেই সঙ্গে আমি প্রচন্ড ভয়ও পাই। ছোটবেলায় রাতে কোনওদিন একা একা বাথরুমে যাইনি। আমার তো সব জায়গায় ভূত আছে বলে মনে হয়।

আবীর: তেমন সৌভাগ্য এখনও হয়নি। তাছাড়া আমি হরর মুভি দেখতে একদমনই পছন্দ করিনা। হাতে গুনে কয়েকটা দেখেছি আর কি।

প্রশ্ন: বিভিন্ন হরর সিনেমার সেটকে কেন্দ্র করে নানান ভূতের গল্প শোনা যায়, ‘ফ্ল্যাট নং ৬০৯’ সেটে কি তেমন কোনও ঘটনা ঘটেছে?

তনুশ্রী: না একেবারেই তেমন কিছু হয়নি। আসলে শ্যুটিংটা খুব সাধারণ ভাবে টেক করা হয়েছিল। তবে যা হয় আর কি, সেটে অনেক অনেক ভূতের গল্প হত। তাতে অবশ্য একটু ভয় লাগত।

আবীর: এক্কেবারেই নয়। দেখ, আমাদের এই ছবিতে না কোনও গ্রাফিক্স ভাওলেন্স, যেমন পঁচা গলা মৃতদেহ, রক্তমাখা হাত, কঙ্কালের দৃশ্য নেই। এখানে পুরোটাই সাইকোলজিক্যাল লেভেলে খেলা হয়েছে। তো সেটটা ভুতুড়ে ছিল না।

আরও পড়ুন: ধারাবাহিকের ‘জট’ খুলতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ, বৈঠক নবান্নে

প্রশ্ন: সেই সিনেমায় প্রথমবার স্বামী-স্ত্রী চরিত্রে তোমরা অভিনয় করছ। কতটা চ্যালেঞ্জের ছিল?

তনুশ্রী: এই সিনেমায় অনস্ক্রিনে আমাদের লাভি লাভি একটা ব্যপার রয়েছে। যদিও অফস্ত্রিন আমাদের একটা অন্যরকম সম্পর্ক! আমাদের মধ্যে চুলোচুলির সম্পর্ক। যখন আমি শান্ত হয়ে বসে থাকি তখন ও সহ্য করতে পারে না। যখন ও শান্ত হয়ে বসে থাকে আমি সহ্য করতে পারি না। (কথার মাঝে তনুশ্রী কে থামিয়ে দিয়ে)

আবীর: তুই কি এসমস্ত ভুল এলিগেশন আনছিস আমার নামে!

তনুশ্রী: (হাসতে হাসতে) জোকস অ্যা পার্ট। আসলে আমরা খুব ভাল বন্ধু। এই বন্ধুটা আমাদের অনস্ক্রিন রসায়ন বেশি করে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করেছে। তাছাড়া এই সিনেমায় আমার চরিত্রটা যেভাবে শুরু হয়, শেষে গিয়ে দেখা যায় তার সঙ্গে কোনও মিল থাকে না। সায়ন্তনীর চরিত্রে অনেক গুলি শেড রয়েছে। যা আমার কাছে সত্যি খুবই চ্যালেঞ্জের ছিল।

আবীর: তনুশ্রী যেমন বলল তেমন কোনও চুলোচুলি রসায়ন এই সিনেমায় অনন্ত নেই। কিন্তু কী সম্পর্ক রয়েছে সেটা জানতে ৩১ আগস্ট দেখতে আসতে হবে ‘ফ্ল্যাট নং ৬০৯’

Advertisement ---
---
-----